back to top
শুক্রবার, জানুয়ারি ১৬, ২০২৬

| ২রা মাঘ, ১৪৩২

সর্বাধিক পঠিত

‘ভোট হলে তোমাদের অস্তিত্ব থাকবে না’

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, জামায়াতে ইসলামী যেটা বলছে ওটাই নাকি করতে হবে।ওটা না করলে নাকি ভোট হবে না। ভোটকে এত ভয় পাচ্ছো কেন? কারণ তুমি জানো যে ভোট হলে তোমার অস্তিত্ব থাকবে না। এই কারণে তোমরা ভোটকে এত ভয় পাও, নির্বাচনকে এত ভয় পাও।

মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) দুপুরে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার বড়গাঁও ইউনিয়ন বিএনপি আয়োজিত মতবিনিময় সভায় এ কথা বলেন তিনি।

জামায়াতকে ইঙ্গিত করে মির্জা ফখরুল বলেন, একটা দল আজ খুব জোরেশোরে বাংলাদেশে প্রচার করছে, তারাই একমাত্র দেশপ্রেমিক দল। তারাই সৎ ও সঠিক দল। আমাদের মা-বোনদের কাছে গিয়ে বলছে, বেহেশতের’ টিকিটও নাকি তারা দিচ্ছে! বেহেশতের টিকিটতো আল্লাহ, নবী ছাড়া কেউ দিতে পারবে না। আমি যদি ঠিকমত ইসলাম ধর্ম পালন করি তাহলে, বেহেশতে যাওয়ার চিন্তা করতে পারি। দেওয়া না দেওয়ার ইচ্ছা তো আল্লাহর, তাই না। এগুলো যারা করতেছে, তারা ইসলামের অপব্যাখ্যা দিচ্ছে, ধর্মের অপব্যাখ্যা দিচ্ছে।

মির্জা ফখরুল বলেন, বেহেশতের টিকেট আল্লাহ ছাড়া কেউ দিতে পারে না। জামায়াত ধর্মের অপব্যাখ্যা দিচ্ছে। সুতরাং যারা এসব মুনাফেকি কাজ করে তাদের থেকে সাবধান থাকতে হবে।

তিনি বলেন, আমরা এসবে বিশ্বাস করি না। আমি মনে করি, আমার কর্মেই হবে আমার বেহেশত। আমার কাজের মধ্যদিয়ে বেহেশতে যাব অথবা যাব না। আমি যদি মানুষকে ভালোবাসি, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ি, আমি যদি রোজা রাখি, মিথ্যা কথা না বলি; সুদ না খাই তাহলে, আমার বেহেশতে যাওয়ার একটা পথ তৈরি হবে। কিন্তু জামায়াতে ইসলামের টিকেট কাটলে বেহেশতে যেতে পারবে, নাহলে পারবে না, এটা কি আল্লাহ ছাড়া কেউ বলতে পারে? এ কারণে আমি বলছি, যারা এরকম মুনাফেকি কাজ করে তাদের থেকে সাবধান থাকতে হবে।

মির্জা ফখরুল বলেন, এলাকায় একটাও এনসিপি নেই। তাহলে তাদের ভোটটা হবে কীভাবে? সে কারণে তারা জামায়াতের সঙ্গে সুর মেলায়। তারা পিআর চায়, জনগণ পিআর বোঝে না। এটা হচ্ছে মানুষকে বিভ্রান্ত করা, ভুল বোঝানো।

দেশে একটা নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমরা একটা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র তৈরি করব। অর্থাৎ আমার ভোট আমি দিব যাকে খুশি তাকে দিব। জনগণ ভোটের মাধ্যমে একটা পার্লামেন্ট গঠন করবে, একটা সরকার গঠন করবে এবং তারা দেশ চালাবে। আজকে একটা সুযোগ আসছে, সঠিক মানুষকে ভোট দিয়ে, সঠিক দলকে ভোট দিয়ে, পার্লামেন্টে পাঠানোর। যারা আমাদের কাজ করবে, জনগণের কাজ করবে।

তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ ৯ মাস সংস্কারের নামে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলাপ আলোচনার পরও অমীমাংসিত বিষয়গুলো চাপিয়ে দিতে চাইলে এর দায় বিএনপি নেবে না। এর দায় সরকারকে নিতে হবে।

অন্তর্বর্তী সরকারকে উদ্দেশ করে মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা সরকারকে পরিষ্কার করে বলতে চাই, দীর্ঘ নয় মাস আপনি যে সংস্কারের নাম করে সব রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে কথাবার্তা বললেন এবং অনেকগুলো বিষয়ে একমত হলেন। আপনি একমতের বাহিরে গায়ের জোরে দেশের ওপর কোনকিছু যদি চাপিয়ে দিতে চান, তাহলে সব দায়-দায়িত্ব আপনাদের। দেশের মানুষ তা গ্রহণ করবে না।

আমরা পরিষ্কার করে বলতে চাই, যেগুলোতে আমরা একমত হয়েছি, বিএনপি শুধুমাত্র সেগুলোতেই একমত থাকবে। অন্য কোনো কিছুর দায় বিএনপি নেবে না। এই দায় সরকারকে নিতে হবে।”

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে নিজের জীবনের শেষ নির্বাচন বলে জানিয়েছেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, শেষ বয়সে আপনাদের কাছে বিনীত আবেদন, এবার আমাকে ধানের শীষে ভোট দিয়ে আপনাদের কাজ করার সুযোগ করে দেবেন।

ভোটে পিআর পদ্ধতির দাবি নিয়ে সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, “জামায়াত বলছে, পিআর করতে হবে, না হলে ভোট হবে না। ভাই ভোটকে এত ভয় পাচ্ছো কেন? কারণ তোমরা জানো ভোট হলে তোমাদের অস্তিত্ব থাকবে না। এ কারণ জামায়াত ভোটকে এত ভয় পায়।”

এনসিপির উদ্দেশে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমাদের সন্তানেরা ভালো কাজ করছে, ৫ অগাস্টে আন্দোলনের মাধ্যমে আমাদেরকে মুক্ত করেছে। আমাদের সাহায্য করেছে। এখন এরাও একটা রাজনৈতিক দল করছে, যার নাম এনসিপি।

“কিন্তু তাদের কোথাও খুঁজে পাই না। আছে এনসিপি একটাও, এই এলাকায় একটাও এনসিপি আছে, একটাও নাই। তাহলে ভোটটা কেমন করে হবে? ভোটটা হবে কীভাবে, ওরা কোনো ভোট পাবে না।”

এনসিপির নেতারা জামায়াতের সঙ্গে সুর মিলিয়ে কথা বলছে মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, “পিআর দিতে হবে, সনদ আগে দিতে হবে। এগুলো হচ্ছে শুধুমাত্র মানুষকে বিভ্রান্ত করা। ভোট পেছানো এবং আগের অবস্থায় ফিরে যাওয়া।

এ সময় বিএনপি ক্ষমতায় গেলে প্রথম ১৫ মাসের মধ্যে ১ কোটি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টিসহ মহিলাদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষকদের জন্য ফারমার্স কার্ড করা হবে বলে জানান মির্জা ফখরুল।

সভায় ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি ফয়সল আমিন, সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলী, সদর থানা বিএনপির সভাপতি আব্দুল হামিদ, সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব হোসেন তুহিন, পৌর বিএনপির সভাপতি শরিফুল ইসলাম শরিফ, বড়গাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ডা. আহম্মদ আলী বক্তব্য দেন।

আরও পড়ুন