নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলাদেশে দুই শ্রেণির মানুষ এখন দুই মেরুতে অবস্থান করছে। এক শ্রেণির আমরা যারা দেশপ্রেমিক, আরেক শ্রেণি হলো ক্ষমতাপ্রেমী। আওয়ামী লীগ সরকার ছিল ক্ষমতাপ্রেমী। তারা কিন্তু একপর্যায়ে বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে ভারতে অবস্থান করছে। যারা জাতীয় নির্বাচনের দিন গণভোটের দাবি জানাচ্ছে, তারা ‘ক্ষমতা প্রেমী’। আপনাদের জন্য অপেক্ষা করছে সেই দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর। এছাড়া কিন্তু আপনাদের পালানোর কোনো জায়গা নেই।
মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) বিকেলে রাজধানীর পুরানা পল্টন মোড়ে পাঁচ দাবিতে ৮টি রাজনৈতিক দলের সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে ইসলামী আন্দোলনের আমির চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ রেজাউল করিম এসব কথা বলেছেন ।
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে মুফতি সৈয়দ রেজাউল করিম বলেন, জুলাই সনদের স্বীকৃতিসহ এই বাংলাদেশকে সুন্দর একটা দেশ তৈরি করার লক্ষ্যে যে জুলাই সনদ তৈরি হয়েছে এই সনদের আইনি ভিত্তি জাতীয় নির্বাচনের আগেই এটা আমরা চাই এবং দিতে হবে। যখন জুলাই সনদ আইনি ভিত্তি পাবে, তখন জাতীয় নির্বাচনেরও আইনি ভিত্তি তৈরি হবে। অন্যথায় নির্বাচনটি অবৈধ বলে বিবেচিত হবে।
তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপিসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দল নির্বাচনের আগে গণভোটের পক্ষে থাকলেও, শুধু বিএনপি জাতীয় নির্বাচনের দিন গণভোটের প্রস্তাব দিয়েছে, যা জনগণের কাছে তাদের উদ্দেশ্য পরিষ্কার করে দিয়েছে। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার তারা দেশ প্রেমিক ছিল না। তারা ছিল ক্ষমতা প্রেমী। তারা কিন্তু এক পর্যায়ে আমাদের বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে কাঁটাতার পার হয়ে ভারতে অবস্থান করছে।
বঙ্গোপসাগরই কেবল ক্ষমতা প্রেমীদের পালানোর পথ মন্তব্য করে চরমোনাই পীর বলেন, যারা গণভোট নিয়ে টালবাহানা করছেন, তাদের জন্য পালানোর কোনো জায়গা থাকবে না। আমাদের বাংলাদেশের তিনদিকে ভারতের কাঁটাতারের বেড়া। কিন্তু আপনারা পালাবেন কোথায়? আপনাদের জন্য অপেক্ষা করছেন সেই দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর। এছাড়া কিন্তু আপনাদের পালাবার কোনো জায়গা নেই।
মুফতি রেজাউল করিম আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার জামায়াতে ইসলামী, বিএনপি ও এনসিপিসহ তিনটি উল্লেখযোগ্য দলকে সঙ্গে নিয়ে আমেরিকায় গিয়েছিল। যেখানে জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপি নির্বাচনের আগে গণভোট চায়, সেখানে বিএনপির অবস্থান প্রশ্নবিদ্ধ।
তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারকে বলব, আমরা শান্তিপ্রিয়। বারবার রাস্তায় রোদে আমাদের আপনারা পুড়িয়েছেন। আর কত রাস্তায় নামতে হবে? এরপরে পরামর্শের মাধ্যমে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষদের নিয়ে আমরা এমন কর্মসূচি ঘোষণা করব। এরপরেও শুভবুদ্ধির উদয় না হলে কঠিন কর্মসূচি দিতে বাধ্য হব। যেসব দাবি আনব, যা আপনি জাতীয় নির্বাচনের আগে দিতে বাধ্য হবেন, দাবি মানতে বাধ্য হবেন ইনশাল্লাহ।

