ঢাকা, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
১২ কার্তিক, ১৪৩৩

/ মতামত

মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন মানবজাতির প্রধান ইমাম ও শিক্ষক

মোঃ মতিউর রহমান সরদার

প্রকাশিত: ১১:১৭, ২৬ অক্টোবর ২০২৬

মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন মানবজাতির প্রধান ইমাম ও শিক্ষক

মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন মানবজাতির প্রধান ইমাম ও শিক্ষক মোঃ মতিউর রহমান সরদার মহান আল্লাহ পাক আমাদেরকে আদি পিতা-মাতার রক্ত বীর্য দ্বারা মানুষ হিসেবে সৃষ্টি করেছেন। সুতরাং সেই হিসেবে আমরা সকল মানুষ মুসলমান। মহান আল্লাহ পাক সর্বোচ্চ যত্ন এবং অনেক সুন্দর করে মাথার ভেতরে আলোকিত নূরের আলো দিয়ে শ্রেষ্ঠ জীব মানুষ সৃষ্টি করেছেন। মানুষকে সর্ব দিক থেকে সৌন্দর্য দান করে সৃষ্টি করেছেন যাতে বুঝা যায় মানুষ এবং দেখতেও ভালো লাগে, আর কাজগুলো বেছে-বেছে মানুষের মত করেন। মানুষের মাথা নিরাপদ রাখার জন্য মাথায় সুন্দর চুল দিয়েছেন। মাথায় চুল থাকার কারণে মাথা নিরাপদ থাকে এবং ধুলো-বালুর হাত থেকে মাথা রক্ষা পায়। চুলের কারণে মানুষের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায় এবং তিনি তাঁর সর্বোচ্চ সুচিন্তা থেকে এগুলো দান করেছেন। কত সুন্দর দুটো কান দিয়েছেন যাতে মানুষের কথা শুনতে পারেন এবং কথার হিসাব মিলিয়ে সঠিকভাবে উত্তর দিতে-নিতে পারেন। মানুষকে কত সুন্দর দুটি চোখদান করেছেন এবং মানুষের চোখের বা কোন কিছুর সাথেই কোন সৃষ্টির চোখের বা কোন কিছুরই মিল খুঁজে পাওয়া যাবে না। চোখের নিরাপত্তা্তার জন্য চোখের উপরে-নিচে দুটি পাতা দিয়েছেন এবং চোখের পাতায় পশম রয়েছে। চোখের ভেতরে সহজে যাতে ধুলো-বালু প্রবেশ করতে না পারে সেই লক্ষ্যে তিনি পশম দিয়েছেন। কত সুন্দর একটি নাক রয়েছে এবং নাকের দুটো ছিদ্র ও নিরাপত্তা্তার জন্য রয়েছে পশম। সেই নাক দিয়ে আমরা নিঃশ্বাস ফেলি এবং নিঃশ্বাস ত্যাগ করি। নাকের নিঃশ্বাস দিয়ে আমরা ভালো এবং মন্দের পার্থক্য উপলব্ধি করতে পারি। আবার শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করার পরে দমহীন লাশ হয়ে পড়ে থাকি।


আমরা অনেকেই মৃত ব্যক্তির গোসল-জানাজা-দাফন-কাফনে অংশগ্রহণ করি, কিন্তুু ঐ পরিস্থিতির শিকার আমাকেও হতে হবে, তা ভুলে যাই। দেখুন-কত সুন্দর করে মুখ বানিয়েছেন এবং পুরুষের মুখে দাড়ি ও মোচ দিয়েছেন যাতে নারী-পুরুষের পার্থক্য থাকে, আর নারী-পুরুষ বুঝা যায়। মুখের ভিতরে দাঁত এবং জিহবা দিয়েছেন এবং সেই দাঁত দিয়ে মানুষ শক্ত এবং নরম সকল খানাপিনা খেতে সক্ষম। জিহবার ও দাঁতের ভিতরে অনেক ক্ষমতা দান করেছেন যাতে ভালো এবং মন্দ সম্পর্কে বুঝতে ও চিবিয়ে-চিবিয়ে মজা করে খেতে পারি। নাকও অত্যন্ত শক্তিশালী এবং নাক খাদ্যের ঘ্রাণ নিয়ে বুঝতে পারে কোন খানাপিনা ভালো কোন খাদ্য মন্দ ও ভেজাল। মহান আল্লাহ পাক-মানুষের মাথার ভেতরে দান করেছেন অমূল্য রত্ন। সেই অমূল্য রত্নের যত্ন করে আমরা কেউ কাজ করতে পারি কেউ পারিনা। মাথার ভেতরে যে, অমূল্য সম্পদ দান করেছেন তার সামান্য গুরুত্ব যদি আমরা বুঝতাম-তাহলে শিক্ষা-জ্ঞান-বিবেক-বিবেচনা-বুদ্ধি ও মানবতার আলো মিশিয়ে দায়িত্ব-কর্তব্য পালন করতাম।


আমরা উক্ত বিষয়গুলো আমাদের পরিবারের-ব্যক্তি কেন্দ্রীক উন্নয়নের স্বার্থে প্রয়োগ করি। আমাদের ভয়াবহ নানামুখী পাপকর্মসহ ইত্যাদি-ইত্যাদি অপকর্মের গজবের ভারে যখন পৃথিবী আঁধারের যুগে পরিণত হয়েছিল। ঠিক সেই ভয়াবহ আঁধারের যুগে-মহান আল্লাহ পাক-চির সবুজ-সজীব প্রাণ-মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে নূরের বোঝা মাথায় দিয়ে এবং সর্বশিক্ষায়-শিক্ষার আলো দান করে সর্বযুগের শ্রেষ্ঠ নেতা ও মানুষ হিসেবে পাঠিয়ে দিলেন অন্ধকারের জগতে। মহান আল্লাহ পাকের লক্ষ্য্যঃ আঁধারের যুগের মানুষদেরকে আলোকিত পথের ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা এবং পথ প্রদর্শক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে মানবজাতিকে ইহকাল ও পরকালের শান্তি ভোগ করার সুযোগ পাওয়ার আলোকিত পথ দেখানো। মানবজাতির ভিতরে মহানবী (সা.) ছিলেন সর্বোচ্চ সুশিক্ষায়-শিক্ষিত। আমরা যারা বলি মহানবী (সা.) শিক্ষিত ছিলেননা, এ কথা যারা বলেন এবং যারা বিশ্বাস করেন তারাই সবচেয়ে বড় মূর্খ। মহান আল্লাহ পাক যাঁকে সর্বোচ্চ আলোয়ে-আলোকিত শিক্ষার অলৌকিক সনদ দিয়েছেন। যিনি সমস্ত মানবজাতিকে শিক্ষা দেওয়ার উদ্দেশ্যে পৃথিবীতে পাঠিয়েছিলেন-তাঁর চেয়ে বড় শিক্ষক-ইমাম, আর কে হতে পারে! তিনি আঁধারের যুগকে আলোকিত পথে ধাবিত করার-মানুষকে-মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার দায়িত্ব নিয়ে এসেছিলেন। মহান আল্লাহ পাকের হুকুম অনুযায়ী তিনি যাবতীয় দায়িত্ব পালন করেছেন এবং নিজে ত্যাগ স্বীকার করে নেতৃত্বের হক আদায় করার পথ দেখিয়েছেন। যিনি সকল ক্ষেত্রে সৌন্দর্য দান করেছেন তাঁর সকল সৌন্দর্যের মূল্যায়ন করে কাজ করার শিক্ষা দেখিয়েছেন। ভোগের ফল শান্তি নয়-ত্যাগের ফল শান্তি দেয়-তিনি কাজের মাধ্যমে বুঝিয়েছেন-সমস্ত কল্যাণকর কাজ করার বিষয় উল্লেখ করে এবং পথ দেখিয়ে। প্রধান ইমাম-শিক্ষকের যে দায়িত্ব তার প্রমাণ তিনি কাজের মাধ্যমে অক্ষরে-অক্ষরে রেখেছেন। মানুষকে সাহস দান করেছেন ভালো কাজে লাগানোর জন্য। আধুনিক যুগে অন্যায়ভাবে খুন-হত্যা করে বীর পুরুষ খেতাবি অর্জনের উদ্দেশ্যে। মানুষ ভয় করে তাদেরকে টাকা দেয়-চাঁদা দেয়-জোর করে সম্পত্তি লিখে নেয়। আর সেই আঁধারের যুগে এবং মহাকালের মহা নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করে নেতার দায়িত্ব কেমন হবে এবং সাহসকে কিভাবে কাজে লাগাতে হবে সে শিক্ষা মহানবী (সা.)দিয়েছেন।

সব উন্নয়ন নেতার হবে-দুনিয়ার সব ভালো জিনিস নেতার দখলে থাকবে-সব ভালো নেতার পরিবার খাবে, আর বাকি মানুষজন চেয়ে-চেয়ে দেখবে, তা নেতার দায়িত্ব হতে পারেনা। মহানবী (সা.) এর আলোকিত কাজের কথাঃ প্রয়োজনে নেতা কষ্ট করবে এবং সাধারণ মানুষদেরকে সুখী করে হাসি দেখার চেষ্টা করবেন, যা হবে নেতার নীতির বিশেষ বৈশিষ্ট্য। মহানবী (সা.)প্রধান শিক্ষক-প্রধান ইমাম হিসেবে সেই দায়িত্বই পালন করেছেন। তাঁর জন্য সারা দুনিয়া-সকল সৃষ্টিকুল সৃষ্টি করেছেন। তিনি চাইলে তাঁর পরিবার-পরিজন নিয়ে সারা দুনিয়ার ভালো সবকিছু ভোগ করতে-দখলে নিতে পারতেন। তারপরেও তিনি কষ্টকর জীবন যাপন করেছেন-ত্যাগী মনের পরিচয় দিয়ে মানবকল্যাণে সম্পদসহ নিজেকে বিলিয়ে দিয়েছেন। তিনি একাই দায়িত্ব পালন করেন নাই-তাঁর স্ত্রীসহ পরিবারের সকলে মিলে মানুষের কাজ করেছেন। মহানবী (সা.)এর নূরানী চেহারা দেখে এবং বয়ান শুনে বিধর্মীরা মুসলমান হন নাই-ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন নাই। মহানবী (সা.) এর নীতি-আদর্শ-কর্ম-ত্যাগ-মানুষের প্রতি মানুষের ভালোবাসার প্রমাণ দেখে ধর্ম গ্রহণ করেছেন এবং ইসলাম ধর্ম শ্রেষ্ঠ ধর্ম হিসেবে মেনে নিয়েছেন। এভাবেই তিনি মুসলমানের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং মানুষ গড়ে তোলার ও কাজ শিখানোর দায়িত্ব পালন করেছেন।

তিনি একাধিকবার ধর্ম যুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়েছেন-ইসলাম-মানুষের-মানবতার উন্নয়নের লক্ষ্য্যে। আধুনিক উন্নয়নের যুগে আমরা কি দেখতে পাই! আধুনিক যুগের মুসলিম প্রতিনিধির কাজের দিকে তাকালে ও লক্ষ্য্য করলে বাস্তবতার আলোকে প্রমাণ পাওয়া যায় তারা ক্ষমতার মোহে অন্ধ হয়ে এবং সকল জোর খাটিয়ে যে যেভাবে পারে সে সেভাবে নিজ-নিজ উন্নয়নের পাহাড় গড়ে তুলে। এতে মনে হয় আমাদের মন থেকে ইসলামের এবং মানবতার আলো মুছে গেছে। সাধারণ মানুষ প্রতিনিধি-নেতা-এমপি-মন্ত্রী বানাতে গিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ত্যাগ স্বীকার করে অবদান রাখেন এবং সাধারণ মানুষের প্রাণহানি ঘটে। দুঃখজনক হলেও সত্যি বিষয় হচ্ছে সেই মানুষগুলোই অনাহারে মানবেতর জীবন যাপন করেন এবং পরিবার-পরিজন অগোছালো থাকে বা বিচ্ছিন্ন জীবন-যাপন করেন। আধুনিক যুগের প্রায় রাজনীতিবিদরা পছন্দ করেন-সাধারণ মানুষদেরকে অনুন্নত রেখে তাদের পিছনে ঘুরাতে এবং মিটিং-মিছিলে স্লোগান দেওয়াতে ও আজীবন ব্যবহার করতে। তারা মহান আল্লাহ পাকের কথা বলেন-মহানবী (সা.) এর নূরানী পথের কথা-কাজ করতে বলেন, কিন্তুু বাস্তবতার আলোকে কাজ করেন না।

সারাবিশ্বে প্রধান ইমাম-প্রধান শিক্ষকের কোন অভাব নাই, বড় অভাব হচ্ছে আমরা সকলে সেই কাজের মাঝে নেই। শিক্ষক ও হুজুরদের যে কাজে মানায়না সে কাজগুলোই আধুনিক উন্নয়নের যুগে বেশি করে। হুজুর-শিক্ষকরা ছাত্র-ছাত্রীদেরকে যেভাবে পেটায় তাতে ভালো শিক্ষা পাওয়া বড় মুশকিলের বিষয়। ধর্ষণ-বলাৎকারের মত জঘন্য কর্মকাণ্ডের মাঝেও জড়িত। সাদা টুপি-পাঞ্জাবি-পাজামা পরা—হাতে তসবিহ টেপতে-মুখে লম্বা দাড়ি দেখে-আতরের ঘ্রাণ নাকে পেয়ে আমরা অনেকে হুজুরের কাছে যাই। অনেকের ভিতরের বিষয় জানার পরে ভক্তি-শ্রদ্ধা হারিয়ে ফেলি। যারা ভালো আছেন-ভালো কাজ করেন তারা প্রকাশ্যে কাজ করার সুযোগ নিতে-কাজ করতে পারছেন না৷ সেই সুযোগে আঁধারের মানুষগুলো প্রকাশ্যে এসে ব্যক্তিগত স্বার্থে কাজ করছেন। যার ফলে ৫ বছরের শিশু পেটের ক্ষুধায় চুরি করে রুটি খায়। মহানবী (সা.)এর মত সুন্নতি দাড়ি ওয়ালা মানুষ সেই শিশুকে অমানুষের মতো পিটায়। তাহলে কি প্রশ্ন আসে না-পৃথিবীর সকল ইমামের প্রধান ইমাম-প্রধান শিক্ষক-মহানবী (সা.)এর নীতি-আদর্শের আলোকে কাজ হলো কোথায়? মহানবী (সা.)ইসলামের দাওয়াত দেওয়ার পাশাপাশি ভালো সকল কাজ নিজ হাতে করার শিক্ষা দিয়েছেন যাবতীয় কল্যাণকর কাজ করার মাধ্যমে।

ধর্মকথা বাদ দিলেও-মানুষ হিসেবে মানুষের প্রতি মানুষের-দায়িত্বের দায়বদ্ধতার হক থাকে-সে দায়বদ্ধতার আলোকেইবা কাজ হয় কোথায়? সর্বশ্রেষ্ঠ-শেষ মহাগ্রন্থ আল-কোরআনের আলোকে কাজ করার সুযোগ হলে-কাজ করলে বৈষম্যের সুযোগ কোথায়? আধুনিক যুগে অত্যাধুনিক রাজনৈতিক সংবিধান আবিষ্কার হয়েছে। সেই সংবিধানে সাধারণ মানুষের নানাবিধ সুবিধার বিষয় উল্লেখ আছে, কিন্তু তারপরেও সীমাহীন সুবিধাভোগী হয়, ঋণ খেলাপি-দুর্নীতিবাজ-ঘুষখোর এবং ওদের মুক্ত হওয়ার পথ থাকে সীমাহীন। ওরা সুযোগ পেয়ে বেশি করে অপকর্ম ও অমানবতামূলক কর্মকাণ্ড বাস্তবায়ন করেই যাচ্ছে। কোন রাজনৈতিক দলের প্রধান যদি মুসলমান হন-তাহলে তিনি ইসলামের আলোকে কাজ করতে চান, যদিও রাজনৈতিক সংবিধান। কিন্তুু বাস্তবতা হচ্ছে সুবিধাবাদী সহযোগীদের অসহযোগিতার কারণে সেই কর্মসূচি বাধাগ্রস্ত। এরফলে সাধারণ মানুষ বেশিরভাগ উন্নয়ন বঞ্চিত এবং বৈষম্যের শিকার। যারা ন্যায়ের পক্ষে কথা বলেন তাদেরকে অনেক দেশের এমপি-মন্ত্রী-প্রতিনিধিরা দেখতেই পারেন না। তারা পছন্দ করেন জি হুজুর হ্যাঁ হুজুর আপনার সবকিছুই ঠিক আছে এবং আপনি হাজী সাহেব। পাশাপাশি যারা তেল মালিশ করতে পারেন-তাদের অতিরিক্ত উন্নয়নে সহায়তা করেন-তাদের উন্নয়নে কাজ করেন। একটি চক্র থাকে যারা নেতা-মন্ত্রী-এমপি-সচিবদের গাড়ির গেট খুলে-হাত-পা ধরে গাড়িতে তুলে দেন-জুতা এগিয়ে দেন-পায়ে তেল মালিশ করে দেন-সত্যকে মিথ্যা-মিথ্যাকে সত্য বানিয়ে কথা ক্রয় বিক্রয় করে। এই চক্র মীরজাফরের চেয়েও খারাপ তা বোকারা বোঝে না। ঐ চক্র যৌথভাবে বিরোধী-সরকার দলেও প্রবেশ করে সুবিধা আদায় করে আর মাঝখান থেকে নিরীহ মানুষগুলি ক্ষতিগ্রস্ত-বঞ্চিত হয়। সাধারণ মানুষের মধ্য থেকে কাউকে লাঠিয়াল-কাউকে দালাল-চামচা-ধান্দাবাজ-চাঁদাবাজ-তেলবাজ বানিয়ে হাতে রাখে।

ওদেরকে দিয়ে খেলায়, আর ওরা মজা এবং আখের গুছিয়ে নেয়। বোকারা কান কথায় চলে এবং কাজ করে ও দুঃসময় কাছে পাওয়া মানুষদেরকে দূরে সরিয়ে দেয়। এক পর্যায়ে বোকাদের বেশি আপন হয় ব্যক্তিগত সহকারি-পিয়ন-ড্রাইভার-দালাল-চামচা-ধান্দাবাজেরা। দুঃসময় যারা থাকেনা তারা সুসময় ওদের আপনজন হয়ে যায় এবং আপনজন পর করে দেয়। বৈষম্যতা নানা পর্যায় এবং বিভিন্ন কায়দায় চরমভাবে হয়। শীর্ষ ধনী হওয়ার লক্ষ্য্যে-নেতা-প্রতিনিধি-মন্ত্রী-এমপি-মহান আল্লাহ পাকের-মহানবী (সা.) এর নীতি-আদর্শ ও মানবতামূলক কর্মকাণ্ড ভুলে গিয়ে তারা ইহুদী-নাসারাদের দোসর হয়ে কাজ করে। আমাদের কিছু সংখ্যক মুসলমানের অপকর্মের ফল সারা বিশ্বের মুসলমান আজ ভোগ করে। অপকর্ম করতে-করতে মানুষের আত্মা ভিতর থেকে হারিয়ে যায় এবং শয়তান-নিষ্ঠুর-পাষানের আত্মা ভর করে। যার ফলে ওরা নিজেদের সীমাহীন চাহিদা ছাড়া সাধারণ মানুষের চাহিদা-প্রয়োজন উপলব্ধি করতে পারেনা। দেশ-জাতিকে শোষণ করে নেওয়া টাকা ওরা রাখতে পারে না। ওদের টাকা দেশি-বিদেশি হাসপাতাল-ডাক্তারদের খরচ দিতে-দিতে একসময় শেষ হয়ে যায়। দেখা যায় সুস্থ মানুষ হঠাৎ অসুস্থ হয়ে যায়-কারো হাত-পা অবশ হয়ে যায় এবং কেউ চোখে দেখে না।

কেউ আছেন নানাবিধ সমস্যার কারণে অসুস্থ জীবন যাপন করেন। মানুষের কর্মের ফল মানুষকে বিভিন্নভাবে বানায় দুর্বল এবং সবল। আধুনিক যুগে যারা এমপি-মন্ত্রী-কমিশনার হয়েছেন তারা অনেকেই মেম্বার হওয়ার যোগ্যও নয়। কিন্তুু তথাকথিত আধুনিক যুগের রাজনৈতিক দলের সাইনবোর্ড মাথায় থাকার কারণে অনেকেই ওই সমস্ত পদ অর্জন করার যোগ্যতা লাভ করেছে। ওরা এমন কোন কর্ম সমাজে করে নাই যার ফলে সমাজের মানুষ ওদেরকে ভোট দিবে। ওরা বিভিন্ন কায়দা-কৌশলে দেশের প্রতিনিধি হয়ে গেছে। অনেকে ছোটবেলা থেকে চুরি-ডাকাতি-ছিনতাই-খুন-হত্যা ও চাঁদাবাজি করে নেতা-এমপি-হুইপ-মেয়র-টেক্সটাইল মিল-বাড়ি-গাড়ীর-হাজার কোটি টাকার মালিক হয়েছে। জীবনে ভালো একটি কাজ করে নাই-মানুষের সাথে ভালো ব্যবহার করে নাই-সেরকম অনেকেই দেশের প্রতিনিধি হয়েছে। অনেক প্রতিনিধির চেহারা থেকে মানুষের ছাপ এবং মহান আল্লাহ পাকের রহমতের ভাব উঠে গেছে এবং চেহারা বিকৃত হয়েছে। ওরা যখন যে প্রতিষ্ঠান-দপ্তরের দায়িত্ব পায় তখন ওরা মনে করে প্রতিষ্ঠানের সকল টাকা ও সম্পত্তি পৈত্রিক সম্পত্তি। জাতির টাকা ওরা বিভিন্ন প্রকারের বিল-ভাউচারের মাধ্যমে ভাগ-বাটোয়ারা করে ভোগ করে এবং দালাল-চাটুকারদেরকে সীমাহীন সুযোগ-সুবিধা দিয়ে থাকে এবং প্রকৃত মানুষগুলো বঞ্চিত করে।

মোনাফেক-স্বার্থবাদী-ক্ষমতা লোভী মীরজাফরের ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে বাংলার শেষ নবাব সিরাজউদ্দৌলা শাহাদাত বরণ করেছেন। তার আগেও আমাদের মুসলমানদের ভুলের ও ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে অনেক মুসলমান মৃত্যুবরণ করেছেন। সেই যুগে অনেক পুরুষ-নারী শতভাগ ইনসাফভিত্তিক দায়িত্ব পালন করে ইতিহাসে আজও অমর রয়েছেন। আধুনিক যুগে মুসলিম শক্তি যাতে ঐক্যবদ্ধ-শক্তিশালী হতে না পারে সেই লক্ষ্য্য বাস্তবায়নের জন্য ইহুদী-নাসারারা সব সময় মুসলমানদের পিছনে মুসলমান লেলিয়ে রাখে ও ভাইকে দিয়ে ভাইকে হত্যা করে এবং মুসলমানদের সম্পদ লুট করে নিয়ে থাকে। সম্পদ ও ক্ষমতালোভী মুসলমানদেরকে ওরা বিভিন্নভাবে নিয়ন্ত্রণ করে, যা বুঝতে পারিনা। আধুনিক যুগের ধর্মীয় শিক্ষা-সাধারণ শিক্ষাসহ ইত্যাদি শিক্ষার উন্নয়নের যুগেও পিতার হাতে মেয়ে ধর্ষণ হয়-ভাইয়ের হাতে বোন ধর্ষণ হয় এবং লাশও টুকরো-টুকরো করা হয়। আধুনিক উন্নয়নের যুগেও মূল শিক্ষা-কর্মসূচির উন্নয়ন হলোনা অথচ ছিল মুসলিম উন্নয়নের আশা।

আধুনিক যুগের অত্যাধুনিক কর্মকাণ্ড দেখে মনে হয়-মহান আল্লাহ পাকের নির্ধারিত সময়ের আগেই পৃথিবী খুব তাড়াতাড়ি কিয়ামতে পরিণত হবে। কিছু মুফতি-খতিব-পেশ ইমাম দেখি যারা নিজের সুবিধা পেলেই মহাখুশি। কিছু সংখ্যক ধর্ম-রাজনৈতিক ব্যবসায়ীদের কারণে ধর্ম এবং মূল রাজনীতি ধ্বংস হয়েছে। অনেকে দেশ-জাতিকে শোষণ করে এবং ঠকিয়ে অর্থ-সম্পদের পাহাড় নির্মাণ করেছে। অনেকের অর্থ-সম্পদ পঁচে যাবে এবং নিজে ভোগ করার সুযোগও পাবে না অথচ মানুষকে সহযোগিতা করতে কৃপণতা। সেই আঁধারের যুগ এবং এই আঁধারের যুগের ভিতরে খুব একটা পার্থক্য দেখি না। আমরা রক্ত না দিয়ে-পাথরের আঘাতে কপাল-মাথা না ফাটিয়ে-বুকে পথ্থর চাপা না খেয়ে-ধর্ম যুদ্ধ না করে-জীবন না দিয়ে-তীরের আঘাত সহ্য না করে, খুব সহজেই ইসলাম পেয়েছি। সুতরাং ইসলামের মূল্য বুঝবো কি! মুসলমানসহ বিভিন্ন ধর্মের হাতেগোনা কিছু মানুষ আছেন।

সে কারণেই সম্ভবত পৃথিবীটা স্বাভাবিকভাবে টিকে আছে। তবে যুদ্ধ-যুদ্ধ খেলায়-খেলায় এবং অবহেলায় কিয়ামত হতেও পারে। এরফলে পৃথিবী হয়তো ধ্বংস হয়ে যাবে-নয়তো আলোকিত পথ খুঁজে পাবে। মহানবী (সা.) ছিলেন প্রধান ইমাম এবং শিক্ষক। তিনি জান্নাতে আছেন। মহানবী (সা.)জীবদ্দশায় পৃথিবীতে যা দিয়ে ও রেখে গেছেন তা পৃথিবীতে রয়ে গেছে। তাঁর মতো ক্ষমতা তিনি কাউকে দান করেন নাই এবং করবেননা। তাঁর কাজের সুতা পরিমান কাজও যদি আমরা করতে পারি, তাতেও মানবজাতি ধন্য হবেন। সর্বশেষ একটি বিষয় বাস্তবতার আলোকে স্বীকার না করলেই নয়। পৃথিবীতে যদি গণমাধ্যম এবং গণমাধ্যম কর্মী সচেতন না থাকতেন এবং আলোকিত দায়িত্ব পালন না করতেন, তাহলে বিশ্ব আরো অনেক আগেই আঁধারে নিমজ্জিত হতো। যাইহোক পৃথিবী ধ্বংস হওয়ার কাম্য নয়। মানবজাতির কর্মকাণ্ডের আলোকে যেন পৃথিবী দিন-দিন আলোকিত হয়। সেই ধারার আলোকিত পথ ফিরে পাওয়ার প্রত্যাশায়।
লেখক-সাংবাদিক ও কলামিস্ট

এফএইচ/বিএ/পিআর

সর্বোচ্চ পঠিত - মতামত

আপনার জন্য নির্বাচিত