‘বিশ্ব ক্রিকেটের সুপারস্টার’ হওয়ার সামর্থ্য নাহিদ রানার, বিশপের কণ্ঠে প্রশংসা
ক্রীড়া ডেস্ক
প্রকাশিত: ১১:৩০, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
বাংলাদেশের তরুণ পেসার নাহিদ রানার গতি ও বাউন্সে মুগ্ধ ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাবেক পেসার ও ধারাভাষ্যকার ইয়ান বিশপ। তাঁর বিশ্বাস, নাহিদ শুধু বাংলাদেশের সম্পদ নন, ভবিষ্যতে বিশ্ব ক্রিকেটের অন্যতম সুপারস্টার হয়ে ওঠার সামর্থ্যও রয়েছে এই তরুণ বোলারের। তবে সেই সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে নাহিদকে চোটমুক্ত রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে মিরপুর টেস্টে খেলছেন না নাহিদ রানা। চোটের কারণে বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন বাংলাদেশের এই গতিময় পেসার। কবে নাগাদ তিনি মাঠে ফিরতে পারবেন, তা এখনই নিশ্চিত নয়। তবে মাঠের বাইরে থাকলেও তাঁকে নিয়ে ক্রিকেটবিশ্বের আগ্রহ কমেনি। মিরপুর টেস্টের ধারাভাষ্যকক্ষে গত দুই দিনেও একাধিকবার নাহিদের প্রসঙ্গ তুলেছেন বিশপ।
নাহিদের সামর্থ্য নিয়ে নিজের আশাবাদের কথা জানিয়ে বিশপ বলেন, ‘আমার বিশ্বাস, নাহিদ বিশ্ব ক্রিকেটের সম্ভাবনাময় সুপারস্টারদের একজন। বিশ্বের দিকে তাকালে দেখা যায়, অনেক তরুণ ফাস্ট বোলার উঠে আসছে। নাহিদ তাদের বেশির ভাগের মতোই দ্রুতগতির, এমনকি অনেকের চেয়েও বেশি গতিতে বল করতে পারে।’
নাহিদের বয়স নিয়েও কথা বলেছেন ক্যারিবীয় এই সাবেক পেসার। তাঁর মতে, ক্যারিয়ারের শুরুর দিকেই এমন গতি ও বোলিংয়ের বৈশিষ্ট্য নাহিদকে অন্যদের চেয়ে আলাদা করে তুলেছে। তবে প্রতিভা থাকলেই হবে না, নিয়মিত খেলার সুযোগ কাজে লাগিয়ে নিজেকে আরও পরিণত করে তুলতে হবে তাঁকে।
‘গতি কিনে নেওয়া যায় না’
নাহিদের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী হলেও চোটের কারণে তাঁর ক্যারিয়ার যেন বাধাগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক করেছেন বিশপ। তাঁর মতে, নাহিদের মতো গতিময় বোলার যেকোনো দলের জন্যই মূল্যবান। তাই তাঁকে সুস্থ রেখে দীর্ঘ সময় খেলার উপযোগী করে তোলাটা বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
বিশপের ভাষায়, ‘আমার বিশ্বাস, নাহিদের সেই সামর্থ্য আছে, যা দিয়ে সে বাংলাদেশকে নতুন একটি অধ্যায়ে, নতুন এক উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে। কারণ, চাইলেই গতি কিনে নেওয়া যায় না। বিশ্বের প্রতিটি দলই নাহিদ রানার মতো একজন বোলার খুঁজছে। তাই ওকে সুস্থ রাখুন।’
বাংলাদেশের পেস বোলিংয়ে উন্নতি দেখছেন বিশপ
শুধু নাহিদ নন, বাংলাদেশের সামগ্রিক পেস বোলিংয়ের উন্নতিও নজর কেড়েছে বিশপের। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের টেস্ট সিরিজে নাহিদ না থাকলেও হাসান মাহমুদ ও শরীফুল ইসলাম নিজেদের পারফরম্যান্সে দলের পেস আক্রমণের গভীরতা তুলে ধরেছেন। ডারউইন টেস্টে হাসান পাঁচটি উইকেট নেন, আর ম্যাকাইয়ে পরের টেস্টে শরীফুলের শিকার ছিল সাত উইকেট।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে মিরপুর টেস্টে হাসান মাহমুদের বোলিংয়েও মুগ্ধ হয়েছেন বিশপ। তাঁর শুরুর দিকের কয়েকটি ওভার দেখে ক্যারিবীয় পেস বোলিংয়ের সোনালি সময়ের কথা মনে পড়ে যায় এই সাবেক পেসারের।
বিশপ মনে করেন, বিদেশের মাটিতে টেস্ট ক্রিকেটে আরও বেশি সাফল্য পেতে বাংলাদেশের পেস আক্রমণকে আরও শক্তিশালী করে তুলতে হবে। শুধু স্পিনার ও একজন পেসারের ওপর নির্ভর করে দেশের বাইরে নিয়মিত টেস্ট জেতা কঠিন। এ ক্ষেত্রে একাধিক মানসম্পন্ন পেসার গড়ে তোলার যে প্রচেষ্টা বাংলাদেশ চালাচ্ছে, সেটিকে সঠিক পথ হিসেবেই দেখছেন তিনি।
নাহিদ রানার গতি, হাসান মাহমুদের ধারাবাহিকতা এবং শরীফুল ইসলামের কার্যকারিতা—সব মিলিয়ে বাংলাদেশের পেস বোলিংয়ে নতুন সম্ভাবনা দেখছেন বিশপ। এখন সেই সম্ভাবনাকে দীর্ঘমেয়াদি সাফল্যে রূপ দিতে প্রয়োজন চোটমুক্ত থাকা, ধারাবাহিক পারফরম্যান্স এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিয়মিত নিজেদের প্রমাণ করার সুযোগ।
এফএইচ/বিএ/পিআর