ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
১৩ কার্তিক, ১৪৩৩

/ Breaking News

ইশরাকের পদত্যাগে সংকট কাটবে না, বললেন হাসনাত

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৯:১৮, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

ইশরাকের পদত্যাগে সংকট কাটবে না, বললেন হাসনাত
মাদক নিয়ন্ত্রণে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যর্থতার দায় ইশরাক হোসেনের মতো ব্যক্তিদের ওপর চাপানো হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। তাঁর দাবি, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন পুলিশ ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর কার্যকর ভূমিকা রাখলে একজন প্রতিমন্ত্রীকে অস্ত্র হাতে নিয়ে মাদকের বিরুদ্ধে মাঠে নামতে হতো না।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে এসব কথা বলেন তিনি। একই সঙ্গে মাদক নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার দায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের ওপরও বর্তায় বলে মন্তব্য করেন হাসনাত।

ফেসবুক পোস্টে তিনি প্রশ্ন তোলেন, একজন প্রতিমন্ত্রী হয়েও কেন ইশরাক হোসেনকে নিজেই অস্ত্র হাতে মাদকের বিরুদ্ধে রাস্তায় নামতে হলো? মাদক নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলো যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করলে এমন পরিস্থিতি তৈরি হতো কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

হাসনাত আবদুল্লাহ লেখেন, এই পরিস্থিতির দায় শুধু ইশরাক হোসেনের কি না, নাকি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যর্থতারও দায় রয়েছে—সরকারকে তার জবাব দিতে হবে। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো কার্যকর ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জবাবদিহিও নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

ইশরাককে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়াই যদি সমস্যার সমাধান হিসেবে বিবেচিত হয়, তাহলে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর জবাবদিহি নিশ্চিত হবে কীভাবে—এমন প্রশ্নও তোলেন এনসিপির এই সংসদ সদস্য।

প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন

রাষ্ট্র পরিচালনায় দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকা তুলে ধরতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে হাসপাতালে গিয়ে শৌচাগার পরিদর্শনের প্রসঙ্গও উল্লেখ করেন হাসনাত। তাঁর মতে, হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা ও সেবার মান নিশ্চিত করার জন্য নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও তদারকি ব্যবস্থা রয়েছে। সেগুলো যথাযথভাবে কাজ করলে প্রধানমন্ত্রীকে সরাসরি এসব বিষয় পরিদর্শনে যেতে হতো কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে যদি রাষ্ট্র পরিচালনার প্রতিটি ক্ষেত্রে সরাসরি তদারকি করতে হয় এবং প্রতিমন্ত্রীকে নিজেই রাস্তায় নেমে মাদক নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ নিতে হয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর দায়িত্ব ও কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠবেই।

ব্যক্তিকে সরিয়ে সংকটের সমাধান নয়

হাসনাত আবদুল্লাহ আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম এভাবে চলতে থাকলে একসময় জনগণই পরিস্থিতির প্রতিবাদে রাস্তায় নামতে পারে। তখন সরকার কাকে পদত্যাগ করিয়ে দায় এড়ানোর চেষ্টা করবে, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।

তাঁর ভাষ্য, একজনকে সরিয়ে দিয়ে সাময়িকভাবে সংকট সামাল দেওয়া সম্ভব হলেও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যর্থতার সমাধান হয় না। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা নিশ্চিত করা, ব্যর্থতার কারণ অনুসন্ধান এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জবাবদিহির আওতায় আনা জরুরি।

স্ট্যাটাসের শেষাংশে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের সমালোচনা করে হাসনাত লেখেন, ঘের দখল, দুর্নীতি ও ঘুষের মামলায় সাজাপ্রাপ্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ব্যর্থতার বলি হতে হবে ইশরাক হোসেনদের।

ইশরাকের পদত্যাগ ঘিরে চলমান বিতর্কে হাসনাত আবদুল্লাহর এই বক্তব্যে ব্যক্তি নয়, বরং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকারিতা ও জবাবদিহির প্রশ্নটি সামনে এসেছে। তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ছাড়া এ বিষয়ে তাঁদের প্রতিক্রিয়া জানা যায়নি।

এফএইচ/বিএ/পিআর

সর্বোচ্চ পঠিত - Breaking News

আপনার জন্য নির্বাচিত