ঢাকা, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
১২ কার্তিক, ১৪৩৩

/ Breaking News

বিতর্কের মুখে ষষ্ঠ শ্রেণির আইসিটি বই থেকে বাদ ‘দাঁড়িপাল্লা’

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১১:৩২, ২৫ অক্টোবর ২০২৬

বিতর্কের মুখে ষষ্ঠ শ্রেণির আইসিটি বই থেকে বাদ ‘দাঁড়িপাল্লা’
২০২৭ শিক্ষাবর্ষের ষষ্ঠ শ্রেণির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বইয়ে প্রজ্ঞার প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত ‘দাঁড়িপাল্লা’ নিয়ে বিতর্কের পর সেটি বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, জ্ঞানের পিরামিডে উপাত্ত, তথ্য, জ্ঞান ও প্রজ্ঞা—এই চারটি স্তরের নাম থাকলেও কোনো প্রতীক বা আইকন রাখা হবে না।

ইতিমধ্যে ছাপানো বইয়ের সংশ্লিষ্ট পৃষ্ঠায় পরিমার্জিত পৃষ্ঠা যুক্ত করে শিক্ষার্থীদের কাছে বই সরবরাহ করা হবে। রোববার (২৫ অক্টোবর) এনসিটিবির সদস্য এ কে এম শওকত আলী খান গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানান।

এ কে এম শওকত আলী খান বলেন, উপাত্ত, তথ্য, জ্ঞান ও প্রজ্ঞা—এই চারটি স্তরের নাম বইয়ে থাকবে। তবে সেখানে কোনো আইকন রাখা হবে না। এ বছর এভাবেই বই সরবরাহ করা হবে। পরবর্তী বছর বিষয়গুলো আরও পরিমার্জন করা হবে, যাতে কোনো ভুল তথ্য না থাকে।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাতে বইটির ছাপার কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছিল এনসিটিবি। একই সঙ্গে মাঠপর্যায়ে চলে যাওয়া বইগুলো সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট প্রতীক পরিবর্তনের পর আবার শিক্ষার্থীদের কাছে সরবরাহের পরিকল্পনা করা হয়। তবে দাঁড়িপাল্লার পরিবর্তে কোন প্রতীক ব্যবহার করা হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকায় শেষ পর্যন্ত কোনো আইকন না রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এনসিটিবি সূত্রে জানা গেছে, যেসব বই ইতিমধ্যে মাঠপর্যায়ে পাঠানো হয়েছে, সেগুলোর জ্ঞানের পিরামিডের চিত্রসংবলিত পৃষ্ঠার ওপর নতুন করে ছাপানো পরিমার্জিত পৃষ্ঠা যুক্ত করা হবে। এ পর্যায়ে পুরো বই পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। এতে বাড়তি ব্যয় ও সময়ের প্রয়োজন হবে।

প্রতীক পরিবর্তনের বিষয়ে শনিবার প্রেস মালিকদের সঙ্গে বৈঠক করে এনসিটিবি। সংশ্লিষ্ট কয়েকজন প্রেস মালিক জানিয়েছেন, বইয়ের নির্দিষ্ট পৃষ্ঠায় নতুন করে ছাপানো পৃষ্ঠা যুক্ত করার বিষয়ে তাঁরা সম্মতি দিয়েছেন।

যেভাবে বইয়ে এসেছে দাঁড়িপাল্লা

২০২৭ শিক্ষাবর্ষের ষষ্ঠ শ্রেণির আইসিটি বইয়ের ‘উপাত্ত ও তথ্য’ অধ্যায়ে জ্ঞানের পিরামিডের ধারণা তুলে ধরা হয়েছে। এতে নিচ থেকে ক্রমানুসারে উপাত্ত, তথ্য, জ্ঞান ও প্রজ্ঞা—এই চারটি স্তর রয়েছে। প্রতিটি স্তর বোঝাতে আলাদা প্রতীক ব্যবহার করা হয়েছিল।

উপাত্তের স্তরে ছিল পাই চার্ট বা ঘড়ির মতো বৃত্তাকার প্রতীক। তথ্যের স্তরে ছিল পরমাণু বা নেটওয়ার্কের মতো দেখতে একটি চিহ্ন। জ্ঞানের স্তর বোঝাতে ব্যবহার করা হয়েছিল মানুষের মস্তিষ্কের ছবি। আর পিরামিডের সর্বোচ্চ স্তর প্রজ্ঞার প্রতীক হিসেবে রাখা হয়েছিল দাঁড়িপাল্লা। এ প্রতীক নিয়ে বিতর্ক তৈরি হওয়ার পর সেটি বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় এনসিটিবি।

এনসিটিবি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য ষষ্ঠ শ্রেণির আইসিটি বইয়ের প্রায় ৩৮ লাখ কপি ছাপানো হচ্ছে, যার বেশির ভাগ ইতিমধ্যে ছাপা হয়ে গেছে। এ ছাড়া আগামী শিক্ষাবর্ষের জন্য সারাদেশে সব শ্রেণি মিলিয়ে প্রায় ৩১ কোটি বই ছাপানোর কাজ চলছে।

বইটিতে দাঁড়িপাল্লার প্রতীক ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে আগের শিক্ষাবর্ষের সঙ্গে তুলনা থেকেও। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর পাঠ্যক্রমে পরিবর্তন এনে অন্তর্বর্তী সরকার ২০১২ সালের শিক্ষাক্রমে ফিরে যায়। সে অনুযায়ী, ২০২৫ শিক্ষাবর্ষের জন্য পরিমার্জিত ষষ্ঠ শ্রেণির আইসিটি বইয়েও প্রজ্ঞার প্রতীক হিসেবে দাঁড়িপাল্লার ছবি ছিল।

তবে চলতি শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থীদের হাতে থাকা বইয়ে প্রজ্ঞার প্রতীক হিসেবে মানুষের মস্তিষ্কের ছবি ব্যবহার করা হয়েছিল। ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের বইয়ে আবার দাঁড়িপাল্লার ছবি যুক্ত হওয়ায় নতুন করে বিতর্ক দেখা দেয়। সেই বিতর্কের পর এবার জ্ঞানের পিরামিড থেকে সব প্রতীক বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিল এনসিটিবি।

এফএইচ/বিএ/পিআর

সর্বোচ্চ পঠিত - Breaking News

আপনার জন্য নির্বাচিত