ঢাকা, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
১২ কার্তিক, ১৪৩৩

/ Breaking News

‘২৮ অক্টোবর হত্যাকাণ্ডের বিচার ৬ মাসের মধ্যে’, বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনে জামায়াতের আলটিমেটাম

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০১:৩৩, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

‘২৮ অক্টোবর হত্যাকাণ্ডের বিচার ৬ মাসের মধ্যে’, বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনে জামায়াতের আলটিমেটাম
২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবরের হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনা এবং বিশেষ ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে বিচারপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী উত্তর। এ দাবিতে বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেল ৪টায় রাজধানীর মহাখালীতে কলেরা হাসপাতালের সামনে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে দলটি।

সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সংসদ সদস্য মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান। সভাপতিত্ব করেন দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য, ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমীর ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র প্রার্থী মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে রফিকুল ইসলাম খান অভিযোগ করেন, ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের প্রধান শেখ হাসিনার নির্দেশে লগি-বৈঠা নিয়ে সন্ত্রাসীরা জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালায়। ওই ঘটনায় তাঁদের ছয়জন নেতাকর্মী নিহত হন। হামলার পর লাশের ওপর নৃত্যের ঘটনাও বাংলাদেশের ইতিহাসকে কলঙ্কিত করেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, সেদিন জামায়াতের কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে দলটির সভা বানচাল করার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। তবে তৎকালীন আমীর মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর নেতৃত্বে সভা সম্পন্ন হয়। পল্টন এলাকায় নেতাকর্মীরা মানবপ্রাচীর গড়ে তুলে হামলা প্রতিহত করেন বলেও দাবি করেন তিনি।

রফিকুল ইসলাম খান আরও অভিযোগ করেন, শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসার পর ওই হত্যাকাণ্ডের মামলার কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং মামলা-সংক্রান্ত নথিপত্র গায়েব করা হয়। তিনি শেখ হাসিনাসহ মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামিদের বিশেষ ট্রাইব্যুনালে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান।

এ সময় জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, গণভোটে জনগণের দেওয়া রায় কার্যকর এবং বাতিল করা অধ্যাদেশগুলো পুনরায় পাস করারও দাবি জানান জামায়াতের এই নেতা।

সভাপতির বক্তব্যে মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবরের হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে তাঁর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দাবি জানান তিনি।

সেলিম উদ্দিনের অভিযোগ, ২৮ অক্টোবর বাংলাদেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করার চেষ্টা করা হয়েছিল। সেদিন জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ভূমিকা রেখেছিলেন বলেও দাবি করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, দীর্ঘ আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনাকে দেশ ছাড়তে হয়।

তিনি বলেন, দেশে বিভাজন, খুন, হত্যা ও চাঁদাবাজির রাজনীতি চলতে দেওয়া হবে না। এসব অন্যায় ও অপকর্মের বিরুদ্ধে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলার কথাও জানান তিনি।

সরকারের প্রতি দাবি জানিয়ে সেলিম উদ্দিন বলেন, আগামী ছয় মাসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের বিশেষ ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে বিচারের ব্যবস্থা করতে হবে।

সমাবেশে বক্তারা ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবরের হত্যাকাণ্ডের বিচার, জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বিশেষ ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে বিচারপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করার দাবি জানান।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম। এতে বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও মহানগরীর সহকারী সেক্রেটারি মাহফুজুর রহমান, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও মহানগরীর সহকারী সেক্রেটারি নাজিম উদ্দীন মোল্লা, ডা. ফখরুদ্দিন মানিক এবং ইয়াসিন আরাফাত। এ সময় কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য আতাউর রহমান সরকার ও জামাল উদ্দিনসহ দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

এফএইচ/বিএ/পিআর

সর্বোচ্চ পঠিত - Breaking News

আপনার জন্য নির্বাচিত