ঢাকা, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
১২ কার্তিক, ১৪৩৩

/ Breaking News

স্পেনে দুই বুলেট ট্রেনের ভয়াবহ সংঘর্ষ, নিহত ৬৪—বাড়ছে প্রাণহানির শঙ্কা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ০১:১৬, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

স্পেনে দুই বুলেট ট্রেনের ভয়াবহ সংঘর্ষ, নিহত ৬৪—বাড়ছে প্রাণহানির শঙ্কা
স্পেনের মধ্যাঞ্চলে দুই দ্রুতগতির যাত্রীবাহী ট্রেনের ভয়াবহ সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬৪ জনে দাঁড়িয়েছে বলে সর্বশেষ প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। রাজধানী মাদ্রিদের দক্ষিণে তোলেদো প্রদেশের উর্দার কাছে এ দুর্ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের পর কয়েকটি বগি লাইনচ্যুত হয়ে ঢাল বেয়ে নিচে পড়ে যায়। দুর্ঘটনাস্থলে উদ্ধারকর্মীরা হতাহতদের সন্ধানে তৎপরতা চালাচ্ছেন।

আঞ্চলিক সরকারের সূত্রের বরাতে স্পেনের সংবাদ সংস্থা এফে নিহতের এই সংখ্যা জানিয়েছে বলে সমকালের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের আগের আপডেটগুলোতে নিহতের সংখ্যা কম ছিল। ফলে হতাহতের চূড়ান্ত হিসাব সম্পর্কে কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ নিশ্চিত ঘোষণা গুরুত্বপূর্ণ।

এক ট্রেনের পেছনে আরেক ট্রেনের ধাক্কা

প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনায় স্পেনের রাষ্ট্রীয় রেল পরিচালনাকারী সংস্থা রেনফের একটি দ্রুতগতির ট্রেন এবং বেসরকারি সংস্থা আইরিওর একটি ট্রেন জড়িত ছিল। দুটি ট্রেনই মাদ্রিদ থেকে সেভিলের দিকে যাচ্ছিল।

আঞ্চলিক কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রেনফের ট্রেনটিতে ৩৯৭ জন এবং আইরিওর ট্রেনে ১৪৭ জন যাত্রী ছিলেন। সব মিলিয়ে দুই ট্রেনে যাত্রী ছিলেন ৫৪৪ জন। প্রাথমিক প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়েছে, থেমে থাকা আইরিওর ট্রেনটির পেছনে রেনফের ট্রেনটি ধাক্কা দেয়। এতে একাধিক বগি লাইনচ্যুত হয় এবং কয়েকটি বগি রেললাইনের পাশের ঢালে পড়ে যায়। 

সংকেত ব্যবস্থায় ত্রুটির আশঙ্কা

দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনো তদন্তাধীন। তবে স্পেনের সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রাথমিক বিশ্লেষণে রেল চলাচল নিয়ন্ত্রণ ও সংকেত ব্যবস্থায় সমস্যার সম্ভাবনার কথা উঠে এসেছে। কিছু প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্বয়ংক্রিয় নিরাপত্তাব্যবস্থায় ত্রুটি দেখা দেওয়ার পর ট্রেন চলাচল নিয়ন্ত্রণে মানুষের সিদ্ধান্তের ভূমিকা থাকতে পারে।

তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি, সংকেতব্যবস্থা বা প্রযুক্তিগত ত্রুটিকে দুর্ঘটনার চূড়ান্ত কারণ হিসেবে দায়ী করা যাচ্ছে না। 

বন্ধ মাদ্রিদ-আন্দালুসিয়া রেলপথ

দুর্ঘটনার পর মাদ্রিদ ও আন্দালুসিয়ার মধ্যে উচ্চগতির রেল চলাচল স্থগিত করা হয়। এতে ওই রুটের যাত্রীদের যাতায়াত ব্যাহত হয়েছে। রেল কর্তৃপক্ষ ও জরুরি সেবাদানকারী দলগুলো দুর্ঘটনাস্থলে কাজ করছে। আহতদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে। 

একই বছরে দ্বিতীয় বড় রেল দুর্ঘটনা

স্পেনে চলতি বছর এর আগেও ভয়াবহ রেল দুর্ঘটনা ঘটেছে। গত ১৮ জানুয়ারি দক্ষিণাঞ্চলের আদামুজের কাছে দুটি দ্রুতগতির ট্রেনের সংঘর্ষে ৪৬ জন নিহত হন। সেই দুর্ঘটনার পর দেশটির রেল নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। 

উর্দার কাছে এবারের সংঘর্ষের পরও দুর্ঘটনার কারণ, নিরাপত্তাব্যবস্থার কার্যকারিতা এবং রেল চলাচল নিয়ন্ত্রণে কোনো ত্রুটি ছিল কি না—এসব প্রশ্ন সামনে এসেছে। উদ্ধার অভিযান ও তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে হতাহতের সংখ্যা এবং ঘটনার বিস্তারিত আরও স্পষ্ট হওয়ার কথা।

এফএইচ/বিএ/পিআর

সর্বোচ্চ পঠিত - Breaking News

আপনার জন্য নির্বাচিত