ইমরানকে মুক্তি দাও’ স্লোগানে ইসলামাবাদমুখী জনস্রোত, পথে পথে ব্যারিকেড
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১১:০৮, ৫ অক্টোবর ২০২৬
কারাগারে বন্দি পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে ইসলামাবাদের পথে নেমেছেন হাজারো সমর্থক। ইমরানের শারীরিক অবস্থা নিয়ে পরিবার ও দলীয় নেতাদের উদ্বেগের মধ্যেই শুরু হয়েছে এই লং মার্চ।
রোববার (৪ অক্টোবর) খাইবার পাখতুনখাওয়ার লাক্কি মারওয়াত শহর থেকে ইসলামাবাদের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেন ইমরানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) সমর্থকেরা। রাজধানী থেকে প্রায় ২৭৫ কিলোমিটার দূরের ওই শহর থেকে যাত্রা শুরুর পর রাতে কর্মসূচিতে বিরতি দেওয়া হয়। সোমবার দুপুরে ফের ইসলামাবাদের পথে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে তাদের।
পিটিআই জানিয়েছে, সরকারের সঙ্গে আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পরই লং মার্চের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইমরানের সঙ্গে দেখা করার অনুমতি, তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসার দাবিও জানিয়েছিল দলটি। তবে আলোচনায় সমঝোতা না হওয়ায় কর্মসূচি আর পিছিয়ে রাখা হয়নি।
এদিকে ইমরানের শারীরিক অবস্থা নিয়েও নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তার পরিবারের দাবি, ডান চোখের বেশির ভাগ দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন তিনি। তবে গত আগস্টে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকেরা তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে বড় ধরনের উদ্বেগের কথা জানাননি।
ইমরানের সমর্থকদের রাজধানীতে প্রবেশ ঠেকাতে ইসলামাবাদের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে পণ্যবাহী কনটেইনার দিয়ে ব্যারিকেড দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ফলে লং মার্চ ঘিরে রাজধানীর পরিস্থিতি আরও উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
পিটিআইয়ের নেতৃত্বাধীন খাইবার পাখতুনখাওয়ার মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদি জানিয়েছেন, আগামী বৃহস্পতিবারের মধ্যে লং মার্চটি ইসলামাবাদ থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার পশ্চিমের একটি শহরে পৌঁছাতে পারে। তিনি দেশের মানুষকে রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
ইমরানের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় গোপন তথ্য ফাঁস ও রাষ্ট্রীয় উপহার বিক্রিসহ বিভিন্ন অভিযোগে শতাধিক মামলা রয়েছে। গত বছর দুর্নীতির একটি মামলায় তাকে ১৭ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তবে ইমরান বরাবরই এসব মামলা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে আসছেন।
এর আগে ২০২৩ সালের মে মাসে ইমরান খান গ্রেপ্তার হওয়ার পর দেশজুড়ে তার সমর্থকদের ব্যাপক বিক্ষোভ হয়। একপর্যায়ে সেই বিক্ষোভ সহিংস রূপ নেয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনী মোতায়েন করতে হয়েছিল।
এফএইচ/বিএ/পিআর