ঢাকা, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
১২ কার্তিক, ১৪৩৩

/ Breaking News

আরো চটকদার হেডিং করো ‘ঢাকাকে টোকিও বানাতে চাই’—পরিচ্ছন্নতা, দূষণমুক্ত পরিবেশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বড় ঘোষণা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০২:৪৬, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

আরো চটকদার হেডিং করো ‘ঢাকাকে টোকিও বানাতে চাই’—পরিচ্ছন্নতা, দূষণমুক্ত পরিবেশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বড় ঘোষণা
ঢাকাকে জাপানের রাজধানী টোকিওর মতো পরিচ্ছন্ন, দূষণমুক্ত ও স্বাস্থ্যকর নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে চায় সরকার। এ লক্ষ্য অর্জনে বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ, বায়ুদূষণ কমানো এবং বিভিন্ন স্থানে গাছ লাগানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায় জাপানের টোকিওতে হোটেল নিউ ওতানিতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে এক মতবিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ কমিউনিটি আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রবাসীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন প্রধানমন্ত্রী। খবর বাসসের।

ঢাকার পরিচ্ছন্নতা পরিস্থিতির সঙ্গে টোকিওর তুলনা করে তারেক রহমান বলেন, টোকিওর রাস্তাঘাটে ময়লা-আবর্জনা দেখা যায় না। অন্যদিকে ঢাকার বিভিন্ন স্থানে আবর্জনা জমে থাকে। এ পরিস্থিতির পরিবর্তন জরুরি বলে উল্লেখ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আবর্জনা জমে থাকলে জীবাণু ও রোগ ছড়ানোর আশঙ্কা থাকে। মানুষকে সুস্থ রাখতে হলে পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা এবং বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে ঢাকার বায়ুদূষণ কমানো, পরিবেশের উন্নয়ন এবং বিভিন্ন স্থানে গাছ লাগানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, মানুষ যাতে রাস্তায় আবর্জনার কারণে চলাচলে ভোগান্তিতে না পড়ে এবং দূষিত বাতাসের কারণে অসুস্থ না হয়, সে জন্য কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন। ঢাকা শহরকে টোকিও বা জাপানের মতো পরিচ্ছন্ন করতে পারা হবে মানুষের জীবনমান উন্নয়নে বড় ধরনের সংস্কার।

পরিচ্ছন্ন পরিবেশকে জনস্বাস্থ্যের সঙ্গে যুক্ত করে দেখছেন প্রধানমন্ত্রী

পরিচ্ছন্ন নগরী গড়ার পরিকল্পনাকে শুধু শহরের সৌন্দর্য বাড়ানোর বিষয় হিসেবে দেখছেন না প্রধানমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এর সঙ্গে সরাসরি মানুষের স্বাস্থ্য ও দৈনন্দিন জীবনযাত্রার সম্পর্ক রয়েছে। পরিবেশের উন্নয়ন, বায়ুদূষণ কমানো এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যকর করা গেলে সাধারণ মানুষ উপকৃত হবে।

তারেক রহমান বলেন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পরিবেশ খাতে এমন সংস্কার বাস্তবায়ন করা সরকারের লক্ষ্য, যার সুফল সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছে পৌঁছাবে। রিকশাচালক, সিএনজিচালক, শিক্ষক, চিকিৎসক, আইনজীবী, চাকরিজীবী ও ব্যবসায়ী—সবাই যেন এসব উদ্যোগের মাধ্যমে উপকৃত হন, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেন তিনি।

প্রান্তিক মানুষের জীবনমান উন্নয়নই সংস্কারের অগ্রাধিকার

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর কাছে সংস্কারের অর্থ হলো এমন পরিবর্তন, যার সুফল সমাজের প্রান্তিক ও খেটে খাওয়া মানুষও পাবে। সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত করে—এমন উদ্যোগকে সরকার অগ্রাধিকার দিতে চায়।

তিনি আরও বলেন, এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। দেশের গণতন্ত্রমনা মানুষ ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের সহযোগিতা পেলে কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, শিশুদের জাপানি ভাষা শেখানো ও খেলাধুলার সুযোগ বৃদ্ধি, ব্যবসা-বাণিজ্য সহজ করা, বন্ধ শিল্পকারখানা চালু, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিষয়েও সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, বেসামরিক বিমান চলাচলমন্ত্রী রশিদুজ্জামান মিল্লাত, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরীসহ সফরসঙ্গীরা উপস্থিত ছিলেন।

এফএইচ/বিএ/পিআর

সর্বোচ্চ পঠিত - Breaking News

আপনার জন্য নির্বাচিত