৫৭ বিশ্ববিদ্যালয়ে তৃতীয় ভাষা ইনস্টিটিউট, মাভাবিপ্রবির জন্য ২৭০০ কোটি টাকার প্রকল্পের আশ্বাস শিক্ষামন্ত্রীর
মাভাবিপ্রবি সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৮:৩৯, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
দেশের ৫৭টি বিশ্ববিদ্যালয়ে পর্যায়ক্রমে তৃতীয় ভাষা ইনস্টিটিউট চালুর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। একই সঙ্গে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (মাভাবিপ্রবি) উন্নয়নে ২ হাজার ৭০০ কোটি টাকার প্রস্তাবিত প্রকল্প পাস করানোর আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘মাভাবিপ্রবি দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত ‘রিসার্চ এক্সিলেন্স অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপস’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী।
গবেষণার জ্ঞান কাজে লাগাতে হবে শিল্প খাতে
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, গবেষণার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা যে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা অর্জন করবেন, তা দেশের উন্নয়নে কাজে লাগাতে হবে। গবেষণালব্ধ জ্ঞান বাস্তবে প্রয়োগের জন্য দেশে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণার সঙ্গে দেশীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কার্যকর সমন্বয় গড়ে তোলা জরুরি।
তিনি বলেন, দেশের বাইরে গিয়ে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা তাঁদের গবেষণালব্ধ জ্ঞান কাজে লাগাচ্ছেন। সরকার চায়, তাঁরা দেশীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে গবেষণার ফলাফল বাস্তবে প্রয়োগ করবেন। এ জন্য শিক্ষার্থীদের গবেষণার ব্যবহারিক প্রয়োগ ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আগে থেকেই ভাবতে হবে।
জনবহুল বাংলাদেশের উন্নয়নে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি গবেষণার ফলাফল উৎপাদন ও শিল্প খাতে ব্যবহারের কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।
মাভাবিপ্রবিতে দুই হাজার আসনের ছাত্র-ছাত্রী হলের আশ্বাস
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু বলেন, বর্তমান সরকার মানবসম্পদ উন্নয়নে সর্বাধিক গুরুত্ব দিচ্ছে। শুধু ভবন নির্মাণ করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত উন্নয়ন নিশ্চিত করা যায় না; শিক্ষার্থীদের দক্ষ করে গড়ে তোলাও জরুরি।
তিনি মাভাবিপ্রবিতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নামে এক হাজার আসনবিশিষ্ট ছাত্র হল, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নামে এক হাজার আসনবিশিষ্ট ছাত্রী হল এবং একটি স্পোর্টস জোন প্রতিষ্ঠায় সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
বিশ্ববিদ্যালয়-শিল্পপ্রতিষ্ঠান অংশীদারত্বে জোর ইউজিসি চেয়ারম্যানের
বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব শুধু শিক্ষার্থীকে পাঠদান, ডিগ্রি প্রদান কিংবা গবেষণাপত্র প্রকাশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। শিক্ষা ও গবেষণার পাশাপাশি শিল্পপ্রতিষ্ঠান এবং সমাজের সঙ্গে কার্যকর সম্পর্ক গড়ে তোলাও বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পপ্রতিষ্ঠান যৌথভাবে গবেষণা পরিচালনা করলে দেশের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত সমস্যার সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব। গবেষণার ফলাফল যেন বাস্তব সমস্যার সমাধানে কাজে লাগে, সে লক্ষ্যে একাডেমিক প্রতিষ্ঠান ও শিল্প খাতের মধ্যে সহযোগিতা বাড়াতে হবে।
মাভাবিপ্রবি ইতিমধ্যে এ ধরনের গবেষণা প্রকল্প গ্রহণে ভূমিকা রেখেছে উল্লেখ করে ইউজিসি চেয়ারম্যান ভবিষ্যতে এ কার্যক্রম আরও জোরদার করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সম্পৃক্ততা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ৩৮ সমঝোতা স্মারক
অনুষ্ঠানে দেশীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ২৪টি এবং বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ১৪টি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। এ ছাড়া ২০২৬ সালের জন্য ৩০ জন শিক্ষক ও ১৯ জন শিক্ষার্থীকে ‘রিসার্চ এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড’ দেওয়া হয়। পাশাপাশি পাঁচজনকে ‘ইউনিভার্সিটি কমিউনিটি চিলড্রেনস এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড-২০২৬’ প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন মাভাবিপ্রবির রিজেন্ট বোর্ডের সদস্য ও টাঙ্গাইল-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুস সালাম পিন্টু এবং টাঙ্গাইল-৭ আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী। এ সময় ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক ড. আবদুল্লাহ আল মামুন উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এবিএম শহিদুল ইসলাম। স্বাগত বক্তব্য দেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মো. আনিছুর রহমান।
গবেষণায় উৎকর্ষ অর্জন, উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করা, গবেষণালব্ধ জ্ঞানের ব্যবহারিক প্রয়োগ বাড়ানো এবং শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারত্ব জোরদার করাই ছিল আয়োজনের মূল লক্ষ্য। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী, আমন্ত্রিত অতিথি ও বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
উল্লেখ্য, মাভাবিপ্রবির উন্নয়নে ২ হাজার ৭০০ কোটি টাকার প্রকল্পটি পাস করানোর আশ্বাস দেওয়া হলেও প্রকল্পটির চূড়ান্ত অনুমোদন হয়েছে—এমন তথ্য অনুষ্ঠানের বক্তব্যে জানানো হয়নি।
এফএইচ/বিএ/পিআর