ওএমএস ও খাদ্যবান্ধব কর্মসূচিতে স্বচ্ছতা আনতে নতুন উদ্যোগ
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: ০২:৫৪, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
খোলাবাজারে খাদ্যপণ্য বিক্রি (ওএমএস) ও খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় ডিলার নিয়োগে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নতুন নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সরকারি খাদ্য সহায়তা কর্মসূচিতে প্রকৃত উপকারভোগী নির্বাচন করতে ডিজিটাল পদ্ধতি চালুর সুপারিশ করেছে জাতীয় সংসদের খাদ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) জাতীয় সংসদ ভবনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের খাদ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠকে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি মো. আবদুস সালাম পিন্টু।
বৈঠকে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম, জনবলসংকট, কৃষিজমি সংরক্ষণ, খাদ্যে ভেজাল প্রতিরোধ এবং সরকারি খাদ্য বিতরণ কর্মসূচির বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করা হয়।
বৈঠকে জানানো হয়, ওএমএস ও খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ডিলার নিয়োগে নতুন নীতিমালা তৈরির কাজ চলছে। এর মাধ্যমে নিয়োগপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি সরকারি খাদ্য সহায়তার সুবিধা যাতে প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে পৌঁছায়, সে জন্য ডিজিটাল পদ্ধতিতে তাঁদের নির্বাচন করার সুপারিশ করা হয়।
বৈঠকে খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম, কমিটির সদস্য আবুল কালাম, মো. আবু তালেব মন্ডল, মো. আব্দুল করিম ও শামছুন্নাহার বেগম উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব, অধীন দপ্তর-সংস্থার প্রধান এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অংশ নেন।
খাদ্যে ভেজাল প্রতিরোধের বিষয়টিও বৈঠকে বিশেষ গুরুত্ব পায়। কমিটির সভাপতি মো. আবদুস সালাম পিন্টু বলেন, খাদ্য মানুষের মৌলিক অধিকার। জনগণের কাছে নিরাপদ ও ভেজালমুক্ত খাদ্য পৌঁছে দেওয়া সংশ্লিষ্ট সবার দায়িত্ব।
এ দায়িত্ব পালনে কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে কমিটির সদস্য ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সহযোগিতা কামনা করেন।
খাদ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী বলেন, খাদ্যে ভেজাল নিয়ন্ত্রণে সরকার সচেতন। খাদ্য উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বাজারজাতকরণের প্রতিটি পর্যায়ে নজরদারি জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি বিদ্যমান আইন ও বিধিবিধানের সীমাবদ্ধতা দূর করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তিনি জানান, শিশু খাদ্যসহ সব ধরনের খাদ্যে ভেজাল প্রতিরোধে আইন প্রয়োগের কার্যকারিতা বাড়ানো, নিয়মিত অভিযান পরিচালনা এবং দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম জোরদার করতে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া কর্তৃপক্ষের কার্যালয়গুলোতে ক্ষুদ্র পরীক্ষাগার স্থাপন এবং খাদ্যে ভেজাল শনাক্ত ও নজরদারির জন্য মোবাইল ভ্যান সরবরাহের কাজ চলছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।
খাদ্য মন্ত্রণালয় ও এর অধীন দপ্তর-সংস্থাগুলোর জনবলসংকট নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিভিন্ন পদে বর্তমানে ৬ হাজার ৬৫৩টি শূন্য পদ রয়েছে।
এই সংকট কাটাতে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে জনবল নিয়োগ বন্ধ করে নিয়মিত নিয়োগের মাধ্যমে দ্রুত শূন্য পদ পূরণের সুপারিশ করেছে স্থায়ী কমিটি। কমিটির মতে, জনবলসংকট দূর করা গেলে মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে।
বৈঠকে কৃষিজমি সংরক্ষণসহ খাদ্য মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রম আরও কার্যকর করার বিষয়েও আলোচনা হয়।
এফএইচ/বিএ/পিআর