ঢাকা, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
১২ কার্তিক, ১৪৩৩

/ Breaking News

নির্বাচনের আগে উত্তাল ইসরায়েল, নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে ক্ষোভের বিস্ফোরণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৯:১৮, ২৫ অক্টোবর ২০২৬

নির্বাচনের আগে উত্তাল ইসরায়েল, নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে ক্ষোভের বিস্ফোরণ

ইসরায়েলে নির্বাচনের ঠিক আগে রাজপথে ফুঁসে উঠেছে জনতার ক্ষোভ। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার আগে ও পরে নিরাপত্তাব্যবস্থায় কী ব্যর্থতা ছিল, কেন সেই ভয়াবহ হামলা ঠেকানো যায়নি—এসব প্রশ্নের উত্তর চান হাজারো মানুষ। সত্য উদ্ঘাটন ও দায়ীদের জবাবদিহির দাবিতে শনিবার রাতে দেশটির তেল আবিবে অনুষ্ঠিত হয়েছে বড় ধরনের সরকারবিরোধী বিক্ষোভ।

আগামী ২৭ অক্টোবর ইসরায়েলের সাধারণ নির্বাচন। তার মাত্র তিন দিন আগে এই বিক্ষোভে অংশ নিয়ে আন্দোলনকারীরা ৭ অক্টোবরের হামলার ঘটনা তদন্তে একটি স্বাধীন রাষ্ট্রীয় কমিশন গঠনের দাবি জানান। তাঁদের অভিযোগ, হামলার প্রায় তিন বছর হতে চললেও ঘটনার পেছনের ব্যর্থতা ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের ভূমিকা নিয়ে পূর্ণাঙ্গ জবাব পাওয়া যায়নি।

‘সত্য লুকানোর কিছু আছে বলেই তদন্ত হচ্ছে না’

তেল আবিবের হোস্টেজেস স্কয়ারে আয়োজিত এই সমাবেশের আয়োজন করে ‘অক্টোবর কাউন্সিল’। সংগঠনটির সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন হামলা থেকে বেঁচে যাওয়া ব্যক্তি, সাবেক জিম্মি এবং নিহতদের স্বজনেরা।

আয়োজকদের দাবি, বিক্ষোভে এক লাখের বেশি মানুষ অংশ নিয়েছেন। তবে পুলিশ বিক্ষোভকারীর সংখ্যা প্রকাশ করেনি।

সমাবেশে শোক, ক্ষোভ আর জবাবদিহির দাবি একাকার হয়ে ওঠে। স্বজনহারা পরিবারগুলোর প্রশ্ন—যে হামলা হাজারো মানুষের জীবন ও নিরাপত্তাবোধকে নাড়িয়ে দিয়েছিল, তার আগে কী ঘটেছিল এবং কেন নিরাপত্তাব্যবস্থা তা ঠেকাতে পারেনি? সেই সত্য জানার অধিকার তাঁদের রয়েছে।

হামলায় নিহত এক জিম্মি ওরি দানিনোর বাবা এলহানান দানিনো অভিযোগ করেন, সরকার তদন্ত কমিশন গঠন করছে না, কারণ তাদের হয়তো কিছু লুকানোর আছে। তাঁর ভাষ্য, হামলার পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সত্য উদ্ঘাটনে প্রয়োজনীয় তদন্ত শুরু হয়নি।

আরেক জিম্মির মা ভিকি কোহেন বলেন, ৭ অক্টোবর কী ঘটেছিল, সেই সত্য চাপা পড়তে দেওয়া যাবে না। নিরাপত্তা বিভাগের ব্যর্থতার সঙ্গে জড়িত শীর্ষ কর্মকর্তারা সরে গেলেও রাজনৈতিক নেতৃত্বকেও দায় নিতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

স্বজনদের ক্ষোভ, রাজনৈতিক নেতৃত্বের জবাবদিহির দাবি

বিক্ষোভে নেতানিয়াহুবিরোধী রাজনৈতিক শিবিরের কয়েকজন শীর্ষ নেতাও যোগ দেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন ইয়াশার পার্টির নেতা গাদি আইজেনকোট, ডেমোক্র্যাটস পার্টির ইয়ার গোলান, ইসরায়েল বেইতেনুর আভিগদর লিবারম্যান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট ও ইয়ার লাপিদ।

ইয়ার গোলান জানান, নির্বাচনের পর বুধবার থেকেই তাঁরা সত্য উদ্ঘাটন এবং নিহতদের পরিবারের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রীয় তদন্ত কমিশন গঠনের উদ্যোগ নেবেন।

এই দাবির কেন্দ্রে রয়েছে শুধু অতীতের ব্যর্থতার হিসাব নয়, ভবিষ্যতে এমন বিপর্যয় ঠেকানোর নিশ্চয়তাও। বিক্ষোভকারীদের বক্তব্য, নিরাপত্তাব্যবস্থার দুর্বলতা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ভুলগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত না হলে প্রকৃত দায় নির্ধারণ করা সম্ভব হবে না।

তদন্ত কমিশন নিয়ে কেন এত বিরোধ?

ইসরায়েলে রাষ্ট্রীয় তদন্ত কমিশন বড় ধরনের জাতীয় বিপর্যয়ের তদন্তে সর্বোচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন সংস্থা। এটি সাক্ষীদের তলব করতে পারে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিষয়ে সুপারিশ দিতে পারে। ফলে ৭ অক্টোবরের হামলার তদন্তে এমন কমিশন গঠন হলে নিরাপত্তা সংস্থার পাশাপাশি সরকারের সিদ্ধান্ত ও ভূমিকা নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উঠতে পারে।

তবে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এ ধরনের কমিশন গঠনে সম্মতি দেননি। তাঁর দাবি, সুপ্রিম কোর্টের নিয়োগ দেওয়া স্বাধীন কমিশন সরকারের প্রতি পক্ষপাতদুষ্ট হতে পারে।

অন্যদিকে নিহতদের পরিবারের সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়ে আসছেন। তাঁদের মতে, হামলার আগে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কী ধরনের ব্যর্থতা ছিল, তা রাজনৈতিক প্রভাবের বাইরে থেকে খতিয়ে দেখা জরুরি।

‘মানুষের নিরাপত্তাবোধও কেড়ে নেওয়া হয়েছিল’

সমাবেশে বক্তব্য দেন সাবেক জিম্মি ড্যানিয়েল আলোনি। তিনি বলেন, ওই দিন শুধু মানুষকে অপহরণ করা হয়নি, মানুষের নিরাপত্তাবোধও কেড়ে নেওয়া হয়েছিল।

তাঁর কথায় উঠে আসে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ভিন্ন বাস্তবতা তৈরির প্রত্যাশা। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আসন্ন নির্বাচনের পর শিশুদের জন্য আরও নিরাপদ ও ভিন্ন ভবিষ্যৎ গড়ার সুযোগ তৈরি হবে।

৭ অক্টোবরের হামলা ইসরায়েলের নিরাপত্তা ও রাজনীতিতে গভীর ক্ষত তৈরি করেছে। সেই ক্ষতের সঙ্গে জড়িয়ে আছে স্বজন হারানোর বেদনা, জিম্মিদের স্মৃতি এবং রাষ্ট্রের জবাবদিহি নিয়ে দীর্ঘদিনের প্রশ্ন।

নির্বাচনের আগে তেল আবিবের এই বিক্ষোভ তাই কেবল সরকারবিরোধী কর্মসূচি নয়; এটি সত্য জানার, দায় নির্ধারণের এবং ন্যায়বিচার পাওয়ার দাবিতে ক্ষুব্ধ মানুষের এক বড় জমায়েত। এখন দেখার বিষয়, নির্বাচনের পর এই দাবির মুখে ইসরায়েলের রাজনৈতিক নেতৃত্ব কী পদক্ষেপ নেয়।

সূত্র: দ্য টাইমস অব ইসরায়েল

এফএইচ/বিএ/পিআর

সর্বোচ্চ পঠিত - Breaking News

আপনার জন্য নির্বাচিত