মৃত্যুর গুজবে ক্ষুব্ধ আবুল হায়াত, বললেন ‘একজন জীবিত মানুষকে এভাবে মেরে ফেলা যায় না’
বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: ০২:১১, ৪ অক্টোবর ২০২৬
বরেণ্য অভিনেতা আবুল হায়াতের মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। এ ঘটনায় ক্ষোভ ও বিরক্তি প্রকাশ করে অভিনেতা জানিয়েছেন, তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন।
গুজব ছড়িয়ে পড়ার পর দেশ-বিদেশে থাকা তার আত্মীয়স্বজন, বন্ধু ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা একের পর এক ফোন করে তার খোঁজ নেন। এমনকি কেউ কেউ কান্নায় ভেঙে পড়েন বলেও জানান আবুল হায়াত।
গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, আমি একদম ঠিক আছি। গতকাল থেকে এমন খবর ছড়িয়েছে। প্রথমে বিষয়টি পাত্তা না দিলেও আজ দেখছি, সীমা অতিক্রম করেছে।
আবুল হায়াত বলেন, “দেশ-বিদেশে থাকা আমার বন্ধু, শুভাকাঙ্ক্ষী ও আত্মীয়স্বজনেরা একের পর এক ফোন করছেন। কেউ কেউ তো কাঁদছিলেনও। বিষয়টি খুবই বিরক্তিকর এবং বিব্রতকর।”
যারা তার মৃত্যুর গুজব ছড়িয়েছেন, তাদের প্রতি ক্ষোভ জানিয়ে এই অভিনেতা বলেন, “যারা এসব খবর ছড়াচ্ছেন, তাদের প্রতি আমি খুবই বিরক্ত ও ক্ষুব্ধ। একজন জীবিত মানুষকে এভাবে মেরে ফেলা যায় না। এর ফলে শুধু ওই মানুষটিই নয়, তার পরিবার, আত্মীয়স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীরাও ভীষণ কষ্ট পান।”
এর আগেও একাধিকবার আবুল হায়াতের মৃত্যুর গুজব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়েছিল। সেসব ঘটনায়ও তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা ক্ষোভ ও কষ্টের কথা জানিয়েছিলেন।
দীর্ঘ অভিনয়জীবনে নানা অর্জন
১৯৪৪ সালের ৭ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদে জন্মগ্রহণ করেন আবুল হায়াত। বাবার চাকরির সুবাদে তার বেড়ে ওঠা চট্টগ্রামে। পরে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক সম্পন্ন করেন।
কর্মজীবনের শুরুতে ঢাকা ওয়াসায় প্রকৌশলী হিসেবে যোগ দেন তিনি। তবে এক বছর পর ১৯৬৯ সালে অভিনয়ে পা রাখেন। ‘ইডিপাস’ নাটকের মাধ্যমে টেলিভিশনে তার অভিনয়জীবনের শুরু।
এরপর টেলিভিশন নাটকের পাশাপাশি চলচ্চিত্র ও বিজ্ঞাপনেও নিয়মিত অভিনয় করেছেন তিনি। অভিনয়ের পাশাপাশি নির্মাতা ও লেখক হিসেবেও পরিচিতি পেয়েছেন আবুল হায়াত।
১৯৯১ সালের বইমেলায় প্রকাশিত হয় তার প্রথম উপন্যাস ‘আপ্লুত মরু’। এরপর ‘নির্ঝর সন্নিকট’, ‘এসো নীপ বনে’, ‘অচেনা তারা’, ‘জীবন খাতার ফুট নোট’ ও ‘জিম্মি’সহ বিভিন্ন বই লিখেছেন তিনি।
দীর্ঘ কর্মজীবনে অভিনয়ে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, একুশে পদকসহ নানা সম্মাননা পেয়েছেন এই গুণী শিল্পী।
ব্যক্তিজীবনে আবুল হায়াতের দুই মেয়ে বিপাশা হায়াত ও নাতাশা হায়াত। দুজনই শোবিজ অঙ্গনের সঙ্গে যুক্ত। বিপাশা হায়াতের স্বামী অভিনেতা ও নির্মাতা তৌকীর আহমেদ এবং নাতাশা হায়াতের স্বামী অভিনেতা শাহেদ শরীফ খান।
এফএইচ/বিএ/পিআর