তিস্তা মহাপরিকল্পনায় বড় ঘোষণা, ২০২৭ সালের নভেম্বরে উদ্বোধনের লক্ষ্য
লালমনিরহাট সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ১২:৫৯, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
উত্তরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ আগামী ২০২৭ সালের নভেম্বরে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হবে বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ। প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা যাচাই প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও পরিকল্পনা প্রণয়নের কাজ এগিয়ে চলছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকালে লালমনিরহাট সদর উপজেলার মহেন্দ্রনগর নিষ্কাশন খাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
সম্ভাব্যতা যাচাই প্রায় শেষ পর্যায়ে
তিস্তা মহাপরিকল্পনার অগ্রগতি তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, তিস্তা ইস্যুতে প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে কারিগরি পর্যায়ে আলোচনা হয়েছে। নদী বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের কারিগরি কমিটি কাজ করছে। প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজও প্রায় শেষ পর্যায়ে।
তিনি বলেন, অর্থমন্ত্রী দেশে ফিরলে প্রকল্পের অনুমোদন পাওয়া যেতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে তৈরি হবে ডিপিপি
তিস্তা মহাপরিকল্পনার পরিকল্পনা যথাযথভাবে প্রণয়নে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান ফরহাদ হোসেন আজাদ। তিনি বলেন, সিইজিআইএস, নদী কমিশনের কর্মকর্তা ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) বিশেষজ্ঞদের পাশাপাশি চীন, নেদারল্যান্ডস ও মালয়েশিয়ার বিশেষজ্ঞদের পরামর্শও নেওয়া হচ্ছে।
সব পক্ষের মতামত সমন্বয় করে একটি পূর্ণাঙ্গ উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা (ডিপিপি) তৈরি করা হবে। স্থানীয় মানুষের জন্য কোন পদ্ধতিতে প্রকল্প বাস্তবায়ন করলে সর্বোচ্চ সুফল পাওয়া যাবে, তা নিশ্চিত করতেই এ প্রক্রিয়ায় আরও আট থেকে নয় মাস সময় লাগতে পারে বলে জানান তিনি।
উপকৃত হবেন পাঁচ জেলার মানুষ
তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে উত্তরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ কমবে বলে আশা প্রকাশ করেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রকল্পটির সুফল পাবেন লালমনিরহাট, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, নীলফামারী ও রংপুর জেলার প্রায় তিন কোটি মানুষ।
প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে এসব অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রার উন্নয়ন এবং দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
১৯ নভেম্বর উদ্বোধন হবে মহেন্দ্রনগর খাল
মহেন্দ্রনগর নিষ্কাশন খালের গুরুত্ব তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আগামী ১৯ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী খালটির উদ্বোধন করবেন। খালটি চালু হলে এলাকার কয়েক হাজার মানুষ সরাসরি সেচসুবিধা পাবেন।
খালের দুই পাশে বৃক্ষরোপণের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। তাঁর মতে, এ উদ্যোগ এলাকার কৃষি ও পরিবেশের উন্নয়নের পাশাপাশি নতুন লালমনিরহাট গড়ার পথ উন্মোচন করবে।
পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মুহ. রাশেদুল হক প্রধান, পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান, জেলা পরিষদের প্রশাসক একেএম মমিনুল হক, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী কর্মকর্তা সুনীল কুমার, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনোনীতা দাসসহ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা।
এফএইচ/বিএ/পিআর