ঢাকা, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
১২ কার্তিক, ১৪৩৩

/ Breaking News

ঢামেকে অ্যাম্বুলেন্স ধর্মঘট: এমআরআই করাতে পারছেন না রোগী, সিএনজিতে বাড়ি ফিরছেন বৃদ্ধ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১১:৩৬, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

ঢামেকে অ্যাম্বুলেন্স ধর্মঘট: এমআরআই করাতে পারছেন না রোগী, সিএনজিতে বাড়ি ফিরছেন বৃদ্ধ
ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল চত্বরে স্থায়ী পার্কিংয়ের দাবিতে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স মালিকদের ডাকা ধর্মঘট দ্বিতীয় দিনে গড়িয়েছে। বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকালেও অ্যাম্বুলেন্স না পেয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন রোগী ও তাঁদের স্বজনেরা। কেউ ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও অ্যাম্বুলেন্স পাননি, আবার কেউ বাধ্য হয়ে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় রোগী নিয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন।

হাসপাতালের জরুরি বিভাগ, বহির্বিভাগ ও ২ নম্বর ভবনের সামনে বুধবার সকাল থেকেই অ্যাম্বুলেন্সের অপেক্ষায় রোগী ও তাঁদের স্বজনদের ভিড় দেখা যায়। চিকিৎসার জন্য এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে যাওয়া কিংবা চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফেরার ক্ষেত্রেও তাঁদের সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।

এমআরআই করাতে যাওয়ার অ্যাম্বুলেন্স নেই

ব্রেইন স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে ঢামেক হাসপাতালের নতুন ভবনে ভর্তি রয়েছেন শাহীন গাজী। তাঁর ভাই শামীম গাজী জানান, তাঁরা সাভার থেকে এসেছেন। চিকিৎসক শাহীনকে এমআরআই করানোর পরামর্শ দিয়েছেন। এ জন্য তাঁকে লালবাগের ইবনে সিনা হাসপাতালে নেওয়া প্রয়োজন হলেও অ্যাম্বুলেন্স পাচ্ছেন না তাঁরা।

শামীম গাজী বলেন, ৩০ মিনিট ধরে অপেক্ষা করছি, কোনো অ্যাম্বুলেন্স পাচ্ছি না।

হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েও বাড়ি ফেরা হয়নি

৮০ বছর বয়সী রোগী শাহজাহান মিয়ার বাড়ি চাঁদপুরের মতলবে। তাঁর মেয়ে শাহিনা আক্তার জানান, গত ১৭ অক্টোবর তাঁর বাবাকে ঢামেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। মঙ্গলবার চিকিৎসকেরা তাঁকে ছাড়পত্র দিলেও অ্যাম্বুলেন্স না পাওয়ায় বাড়ি ফিরতে পারেননি।

শাহিনা আক্তার বলেন, বুধবার সকালেও অ্যাম্বুলেন্সের জন্য অপেক্ষা করেছেন। শেষ পর্যন্ত না পেয়ে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে বাবাকে নিয়ে যেতে হচ্ছে।

দুর্ঘটনায় আহত রোগীকে নিতে ৯৯৯-এ ফোন

মঙ্গলবার মাওয়া সড়কে দুর্ঘটনায় আহত হন সীমা আক্তার। ঢামেকে চিকিৎসা নেওয়ার পর চিকিৎসকেরা তাঁকে জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (পঙ্গু হাসপাতাল) নেওয়ার পরামর্শ দেন। কিন্তু অ্যাম্বুলেন্স না পাওয়ায় বিপাকে পড়েন তাঁর স্বজনেরা।

সীমার ভাই রেজাউল করিম জানান, দুই থেকে তিন ঘণ্টা চেষ্টা করেও অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করতে পারেননি তাঁরা। পরে ৯৯৯-এ ফোন করেও সহায়তা পাননি বলে দাবি করেন তিনি। শেষ পর্যন্ত জরুরি বিভাগের সামনে থাকা ঢামেকের সরকারি অ্যাম্বুলেন্সের চালক তাঁকে সরকারি গাড়িতে পঙ্গু হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়ার কথা জানান। পরে ওই গাড়িতেই সীমাকে নিয়ে যাওয়া হয়।

অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেটের অভিযোগ

হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্স সেবা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রোগীর স্বজন শফিক আহমেদ। তাঁর অভিযোগ, হাসপাতাল এলাকায় বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স পরিচালনায় সিন্ডিকেট রয়েছে। বাইরে থেকে অ্যাম্বুলেন্স এনে রোগী নেওয়ার চেষ্টা করলেও চালকেরা বাধা দিচ্ছেন বলে দাবি করেন তিনি।

শফিক আহমেদ বলেন, রোগীদের জিম্মি করে আন্দোলন করা হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে সরকারের উচিত অ্যাম্বুলেন্স সেবায় কথিত সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়া।

তবে এ অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট অ্যাম্বুলেন্স মালিক বা চালকদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

দাবি না মানলে আরও বড় ধর্মঘটের হুঁশিয়ারি

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. ইমন আলী জানান, তাঁদের ধর্মঘট অব্যাহত রয়েছে। বুধবারের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে বৃহস্পতিবার থেকে ঢাকা মহানগর অ্যাম্বুলেন্স মালিক সমিতির পক্ষ থেকেও ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

হাসপাতাল চত্বরে স্থায়ী পার্কিংয়ের দাবিতে মঙ্গলবার থেকে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স মালিকেরা এ কর্মসূচি শুরু করেন।

সংকট নিরসনে দ্রুত উদ্যোগের প্রয়োজন

ধর্মঘটের কারণে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন গুরুতর অসুস্থ রোগী, প্রবীণ ব্যক্তি এবং চিকিৎসা শেষে অন্য হাসপাতালে স্থানান্তর বা বাড়ি ফেরার অপেক্ষায় থাকা মানুষ। অ্যাম্বুলেন্স না পেয়ে বিকল্প যানবাহনে রোগী পরিবহন করায় তাঁদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

একদিকে অ্যাম্বুলেন্স মালিকদের পার্কিংয়ের দাবি, অন্যদিকে রোগীদের জরুরি পরিবহনসেবা—দুই বিষয় বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত সমাধান জরুরি। ধর্মঘট দীর্ঘায়িত হলে রোগীদের দুর্ভোগ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন ভুক্তভোগীরা।

এফএইচ/বিএ/পিআর

সর্বোচ্চ পঠিত - Breaking News

আপনার জন্য নির্বাচিত