ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
১৩ কার্তিক, ১৪৩৩

/ Breaking News

প্রাথমিকে ভর্তি পরীক্ষা বন্ধ, প্লে-নার্সারি-কেজি ও বাড়তি বই নিষিদ্ধের দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৯:৪২, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

প্রাথমিকে ভর্তি পরীক্ষা বন্ধ, প্লে-নার্সারি-কেজি ও বাড়তি বই নিষিদ্ধের দাবি

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা বন্ধ, প্লে-নার্সারি-কেজির মতো একাধিক প্রাক-প্রাথমিক স্তর নিষিদ্ধ এবং জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) অনুমোদিত বইয়ের বাইরে অতিরিক্ত বই পড়ানো বন্ধের দাবি জানিয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) জনস্বার্থে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান মামুন এ নোটিশ পাঠান। মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবং এনসিটিবির চেয়ারম্যানকে নোটিশের প্রাপক করা হয়েছে। তাঁদের কাছে রেজিস্টার্ড ডাকযোগে নোটিশ পাঠানো হয়।

শিশুদের ওপর পড়াশোনার চাপ কমানোর দাবি

নোটিশে বাংলাদেশের সংবিধানের ১৭ অনুচ্ছেদ এবং প্রাথমিক শিক্ষা (বাধ্যতামূলককরণ) আইন, ১৯৯০-এর উল্লেখ করে বলা হয়েছে, প্রাথমিক শিক্ষাকে সর্বজনীন, গণমুখী ও বাধ্যতামূলক করার সাংবিধানিক ও আইনগত লক্ষ্য রয়েছে। কিন্তু সরকারি-বেসরকারি বিদ্যালয়, কিন্ডারগার্টেন ও ইংলিশ মিডিয়াম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার বাণিজ্যিকীকরণ বাড়ছে বলে নোটিশে অভিযোগ করা হয়েছে।

নোটিশে বলা হয়, তিন থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশুদের প্লে, নার্সারি, কেজি-১ ও কেজি-২-এর মতো একাধিক প্রাক-প্রাথমিক স্তরে ভর্তি করানো হচ্ছে। এতে শিশুদের ওপর অতিরিক্ত পড়াশোনা ও বইয়ের চাপ তৈরি হচ্ছে এবং শৈশব বাণিজ্যিক স্বার্থের শিকার হচ্ছে বলে নোটিশদাতার দাবি।

এ পরিস্থিতি পরিবর্তনে অননুমোদিত প্রাক-প্রাথমিক কোর্স বন্ধ করে শুধু সরকার অনুমোদিত একটি প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণি চালু রাখার দাবি জানানো হয়েছে।

ভর্তি পরীক্ষার পরিবর্তে বয়সভিত্তিক ভর্তি

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তির ক্ষেত্রে লিখিত পরীক্ষা, বাছাই পরীক্ষা বা স্ক্রিনিং টেস্ট এবং মৌখিক পরীক্ষার মতো প্রক্রিয়া নিয়েও আপত্তি জানানো হয়েছে নোটিশে।

নোটিশদাতার মতে, অল্প বয়সী শিশুদের এ ধরনের প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হলে তাদের মধ্যে ভীতি, মানসিক চাপ ও আত্মবিশ্বাসের সংকট তৈরি হতে পারে। এর ফলে শিশুদের স্বাভাবিক মানসিক বিকাশও বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তাই প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তির ক্ষেত্রে শিশুদের পরীক্ষা ও প্রতিযোগিতার মুখোমুখি না করে উপযুক্ত বয়সভিত্তিক ভর্তি ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে।

অনুমোদনের বাইরে অতিরিক্ত বই বন্ধের দাবি

নোটিশে এনসিটিবির অনুমোদিত পাঠ্যবইয়ের বাইরে অতিরিক্ত বই চাপিয়ে দেওয়ার বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে। নোটিশদাতার দাবি, শিশুদের বয়স ও সামর্থ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যহীন অতিরিক্ত বইয়ের বোঝা কমাতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

এ জন্য সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে অনুমোদিত পাঠ্যক্রম ও বই অনুসরণের বিষয়টি নিশ্চিত করা এবং নিয়মবহির্ভূত বই চাপিয়ে দেওয়া বন্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

নোটিশে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এসব বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া বা নোটিশের পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের তথ্য পাওয়া যায়নি।

এফএইচ/বিএ/পিআর

সর্বোচ্চ পঠিত - Breaking News

আপনার জন্য নির্বাচিত