ঢাকা, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
১২ কার্তিক, ১৪৩৩

/ Breaking News

বরফের গভীরে মহাবিশ্বের ‘অদৃশ্য দূত’, নোবেল পেলেন ফ্রান্সিস হালজেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১০:৫৯, ৬ অক্টোবর ২০২৬

বরফের গভীরে মহাবিশ্বের ‘অদৃশ্য দূত’, নোবেল পেলেন ফ্রান্সিস হালজেন

দক্ষিণ মেরুর বরফের গভীরে লুকিয়ে থাকা এক বিশাল বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণাগার খুলে দিয়েছে মহাবিশ্বের অদৃশ্য এক জানালা। সেই গবেষণার স্বীকৃতি এবার উঠল নোবেলের মঞ্চে। ২০২৬ সালের পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন বেলজিয়ামে জন্ম নেওয়া পদার্থবিজ্ঞানী ফ্রান্সিস হালজেন।

আইসকিউব নিউট্রিনো অবজারভেটরিতে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ অবদান এবং মহাজাগতিক উৎস থেকে আসা উচ্চশক্তির নিউট্রিনো শনাক্ত করার ক্ষেত্রে নেতৃত্বের জন্য তাকে এ পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।

৮২ বছর বয়সী হালজেন যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব উইসকনসিন–ম্যাডিসনের সঙ্গে যুক্ত। নিউট্রিনো নিয়ে তাঁর গবেষণার শুরু কয়েক দশক আগে। দক্ষিণ মেরুর বরফকে বিশাল এক প্রাকৃতিক কণা-পর্যবেক্ষণাগার হিসেবে কাজে লাগানোর ধারণাকে বাস্তবে রূপ দিতে তাঁর ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ।

বরফের নিচে এক কিলোমিটারের ‘চোখ’

দক্ষিণ মেরুর বরফের নিচে স্থাপন করা হয়েছে আইসকিউব নিউট্রিনো অবজারভেটরি। প্রায় এক ঘনকিলোমিটার বরফজুড়ে বসানো আলোকসংবেদী সেন্সরগুলো মহাবিশ্ব থেকে ছুটে আসা নিউট্রিনোর ক্ষীণ সংকেত ধরার চেষ্টা করে।

নিউট্রিনো অত্যন্ত দুর্বলভাবে পদার্থের সঙ্গে মিথস্ক্রিয়া করে। ফলে বিপুল দূরত্ব পাড়ি দিয়েও এসব কণা তুলনামূলকভাবে অক্ষত অবস্থায় পৃথিবীতে পৌঁছাতে পারে। এ কারণেই বিজ্ঞানীদের কাছে নিউট্রিনো মহাবিশ্বের দূরবর্তী ও প্রচণ্ড শক্তিশালী ঘটনাগুলোর এক বিশেষ ‘বার্তাবাহক’।

আলো ছাড়াও মহাবিশ্বকে দেখার সুযোগ

এতদিন মহাবিশ্ব পর্যবেক্ষণের প্রধান উপায় ছিল আলোসহ বিভিন্ন ধরনের তড়িৎচৌম্বকীয় বিকিরণ। কিন্তু নিউট্রিনো শনাক্তের মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা মহাজাগতিক ঘটনাগুলো সম্পর্কে সম্পূর্ণ ভিন্ন ধরনের তথ্য পাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।

আইসকিউবের পর্যবেক্ষণ উচ্চশক্তির নিউট্রিনোর উৎস অনুসন্ধানে নতুন দিগন্ত তৈরি করেছে। গবেষকেরা এসব কণার মাধ্যমে মহাবিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী জ্যোতির্পদার্থবৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়াগুলোর সূত্র খুঁজছেন।

আইসকিউব ইতোমধ্যে আমাদের নিজস্ব মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সি থেকে নিউট্রিনো শনাক্ত করেছে এবং দুটি গ্যালাক্সিকে নিউট্রিনোর উৎস হিসেবে চিহ্নিত করতে সক্ষম হয়েছে।

মহাবিশ্বের অদৃশ্য রহস্যের নতুন দরজা

বিজ্ঞানীদের কাছে নিউট্রিনো শুধু আরেকটি অতিপারমাণবিক কণা নয়; এটি মহাবিশ্বের এমন সব অঞ্চলের খবর দিতে পারে, যেখান থেকে আলো সহজে বেরিয়ে আসতে পারে না। কৃষ্ণগহ্বরের আশপাশের চরম পরিবেশ, অত্যন্ত শক্তিশালী কণার উৎস কিংবা মহাজাগতিক বিস্ফোরণের মতো ঘটনাগুলো বোঝার ক্ষেত্রেও নিউট্রিনো গুরুত্বপূর্ণ সূত্র দিতে পারে।

এই নতুন ধরনের পর্যবেক্ষণ পদ্ধতিই মহাবিশ্বকে বোঝার বিজ্ঞানকে আরও বিস্তৃত করেছে। আর সেই পথ তৈরিতে দীর্ঘদিনের নেতৃত্ব ও গবেষণার স্বীকৃতি হিসেবে ফ্রান্সিস হালজেনের হাতে উঠল ২০২৬ সালের পদার্থবিজ্ঞানের নোবেল।

এফএইচ/বিএ/পিআর

সর্বোচ্চ পঠিত - Breaking News

আপনার জন্য নির্বাচিত