ঢাকা, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
১২ কার্তিক, ১৪৩৩

/ Breaking News

কমলাপুর পর্যন্ত মেট্রোরেল চালুর কাউন্টডাউন, কাজ শেষ ৮৫ শতাংশ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৮:৩৮, ২৬ অক্টোবর ২০২৬

কমলাপুর পর্যন্ত মেট্রোরেল চালুর কাউন্টডাউন, কাজ শেষ ৮৫ শতাংশ
রাজধানীবাসীর জন্য সুখবর। মতিঝিল থেকে কমলাপুর পর্যন্ত মেট্রোরেল সম্প্রসারণ প্রকল্পের অবকাঠামো নির্মাণকাজের অগ্রগতি হয়েছে ৮৫ শতাংশ। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে আগামী বছরের জুলাইয়ের শুরুতে এই অংশে যাত্রী নিয়ে বাণিজ্যিকভাবে মেট্রোরেল চলাচল শুরু হতে পারে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে মতিঝিল থেকে কমলাপুর পর্যন্ত অংশে পরীক্ষামূলকভাবে মেট্রোরেল চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এরপর প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শেষে জুলাইয়ের শুরুতে যাত্রী পরিবহন শুরু হতে পারে।

ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মতিঝিল–কমলাপুর অংশের অবকাঠামো নির্মাণকাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। প্রকল্পের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মো. আবদুল ওয়াহাব জানিয়েছেন, আগামী জুনের শেষ দিকে অথবা জুলাইয়ের শুরুতে কমলাপুর পর্যন্ত মেট্রোরেল চালুর ব্যাপারে তাঁরা আশাবাদী। ঠিকাদারের সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ আগামী সেপ্টেম্বর পর্যন্ত থাকলেও নির্ধারিত সময়ের তিন মাস আগেই কাজ শেষ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

লাইন ও বিদ্যুতের কাজ এখনো বাকি

মতিঝিল থেকে কমলাপুর পর্যন্ত সম্প্রসারিত অংশের উড়ালসড়ক নির্মাণের কাজ শেষ হয়েছে। বর্তমানে রেললাইন বসানো, বিদ্যুতের সংযোগ, সংকেতব্যবস্থা এবং স্টেশনের বিভিন্ন আনুষঙ্গিক কাজ চলছে।

নির্মাণকাজে যুক্ত প্রকৌশলীদের তথ্য অনুযায়ী, রেললাইন বসানোর কাজ প্রায় ৩০ শতাংশ এবং বিদ্যুতের কাজ প্রায় ৪০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। ডিসেম্বরের মধ্যে রেললাইন বসানোর কাজ শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে।

এ ছাড়া কমলাপুর মেট্রোস্টেশনে লিফট স্থাপন, স্বয়ংক্রিয় ভাড়া আদায়ের যন্ত্রপাতি ও সংকেতব্যবস্থা চালু, টাইলস বসানো, শৌচাগার প্রস্তুত এবং পানির পাম্প স্থাপনের মতো কাজ বাকি রয়েছে। স্টেশনের কিছু যন্ত্রপাতি জাপান থেকে আসতে দেরি হলে কাজের সময়সূচিতে প্রভাব পড়তে পারে।

কমলাপুর পর্যন্ত চালু হলে বাড়বে যাত্রী

বর্তমানে উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত মেট্রোরেলে প্রতিদিন গড়ে সাড়ে চার লাখের বেশি যাত্রী চলাচল করছেন। ডিএমটিসিএলের তথ্য অনুযায়ী, গত আগস্ট পর্যন্ত মেট্রোরেলে মোট যাত্রী পরিবহনের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩১ কোটি ৩৫ লাখে।

প্রকল্পের প্রাক্কলন অনুযায়ী, কমলাপুর পর্যন্ত সম্প্রসারিত অংশ চালু হলে দৈনিক যাত্রীর সংখ্যা বেড়ে ৬ লাখ ৭৭ হাজারে পৌঁছাতে পারে।

মতিঝিল থেকে কমলাপুর পর্যন্ত মেট্রোরেল চালু হলে যাত্রীদের সরাসরি কমলাপুর রেলস্টেশনে পৌঁছানো সহজ হবে। বর্তমানে মতিঝিল স্টেশনে নেমে কমলাপুর যেতে অনেককে বাস, অটোরিকশা বা অন্য পরিবহনের ওপর নির্ভর করতে হয়। এতে বাড়তি সময় ও অর্থ ব্যয় হয়।

পরিবহন বিশেষজ্ঞদের মতে, কমলাপুর রেলস্টেশনের সঙ্গে মেট্রোরেলের সংযোগ চালু হলে আন্তজেলা ট্রেনের যাত্রীদের যাতায়াত আরও সহজ হবে। একই সঙ্গে রাজধানীর সড়কে যানবাহনের চাপ কমাতেও এটি ভূমিকা রাখতে পারে।

প্রকল্পের পেছনের কথা

উত্তরা থেকে কমলাপুর পর্যন্ত মেট্রোরেল এমআরটি লাইন-৬ প্রকল্পের অংশ। ঢাকার যানজট কমানোর লক্ষ্যে ২০১২ সালে প্রকল্পটি নেওয়া হয়। এর নির্মাণব্যয় ধরা হয়েছিল ৩৩ হাজার ৪৭২ কোটি টাকা, যার প্রায় ৫৯ শতাংশ জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) ঋণ।

২০২২ সালের ২৮ ডিসেম্বর উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত মেট্রোরেল চালু হয়। পরবর্তী সময়ে ২০২৩ সালের ৪ নভেম্বর আগারগাঁও থেকে মতিঝিল পর্যন্ত অংশে যাত্রী পরিবহন শুরু হয়।

মতিঝিল থেকে কমলাপুর পর্যন্ত সম্প্রসারিত অংশের দৈর্ঘ্য ১ দশমিক ১৬ কিলোমিটার। এই অংশের উড়ালসড়ক ও স্টেশন নির্মাণের কাজ করছে থাইল্যান্ডভিত্তিক ইতাল-থাই ডেভেলপমেন্ট পাবলিক কোম্পানি। আর বৈদ্যুতিক ও অন্যান্য যান্ত্রিক ব্যবস্থার কাজ করছে ভারতীয় প্রতিষ্ঠান লারসন অ্যান্ড টুব্রো।

সব কাজ শেষ করে নির্ধারিত সময়ে মেট্রোরেল চালু করা গেলে রাজধানীর গণপরিবহন ব্যবস্থায় আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ যুক্ত হবে। বিশেষ করে কমলাপুর রেলস্টেশনে যাতায়াতকারী যাত্রীদের সময় ও খরচ কমার পাশাপাশি সড়কের ওপর চাপ কমার সম্ভাবনা রয়েছে।

এফএইচ/বিএ/পিআর

সর্বোচ্চ পঠিত - Breaking News

আপনার জন্য নির্বাচিত