ঢাকা, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
১২ কার্তিক, ১৪৩৩

/ Breaking News

পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়ায় জরুরি অবস্থা, গভর্নরের শাসন জারি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১০:১০, ১১ অক্টোবর ২০২৬

পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়ায় জরুরি অবস্থা, গভর্নরের শাসন জারি

পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়া (কেপি) প্রদেশে জরুরি অবস্থা ঘোষণা ও গভর্নরের শাসন জারি করেছে দেশটির ফেডারেল সরকার। ফেডারেল মন্ত্রিসভার সুপারিশের পর প্রেসিডেন্টের অনুমোদনে রোববার (১১ অক্টোবর) এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়। প্রদেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রম নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ডন-এর প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রেসিডেন্ট হাউসের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, পাকিস্তানের সংবিধানের ২৩২ ও ২৩৪ অনুচ্ছেদের আওতায় জরুরি অবস্থা ও গভর্নরের শাসন অনুমোদন করা হয়েছে। সংবিধানের ২৩২ অনুচ্ছেদে জরুরি অবস্থা ঘোষণা এবং ২৩৪ অনুচ্ছেদে প্রদেশে সাংবিধানিক ব্যবস্থা ব্যর্থ হলে গভর্নরের শাসন জারির বিধান রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ফেডারেল মন্ত্রিসভার জরুরি বৈঠকে কেপির নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সন্ত্রাসবিরোধী লড়াই থেকে প্রাদেশিক সরকারের ইচ্ছাকৃতভাবে সরে দাঁড়ানোর বিষয়টি বৈঠকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়েছে।

পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় মন্ত্রিসভার সদস্যরা প্রধানমন্ত্রীকে প্রেসিডেন্টের কাছে জরুরি অবস্থা ঘোষণার সুপারিশ করার প্রস্তাব দেন। পরে প্রেসিডেন্টের অনুমোদনের মধ্য দিয়ে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়।

এদিকে, প্রদেশটির প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনায় ড. মুহাম্মদ ফখর আলম ইরফানকে খাইবার পাখতুনখাওয়ার মুখ্য সচিব হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে ফেডারেল সরকার। সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, তার নিয়োগ অবিলম্বে কার্যকর হয়েছে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বহাল থাকবে।

পাকিস্তান অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিসের (পিএএস) গ্রেড-২২ কর্মকর্তা ইরফান এর আগে ফেডারেল জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তার বাড়ি মারদান শহরে।

সংবিধানে কী বলা আছে

পাকিস্তানের সংবিধানের ২৩২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, যুদ্ধ, বহিরাগত আগ্রাসন কিংবা প্রাদেশিক সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে অভ্যন্তরীণ বিশৃঙ্খলার কারণে দেশের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়লে প্রেসিডেন্ট জরুরি অবস্থা ঘোষণা করতে পারেন। তবে অভ্যন্তরীণ বিশৃঙ্খলার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রাদেশিক পরিষদের প্রস্তাবের শর্ত রয়েছে।

জরুরি অবস্থা চলাকালে ফেডারেল পার্লামেন্টের আইন প্রণয়নের ক্ষমতা সম্প্রসারিত হয়। এ সময় প্রাদেশিক আইন ও পার্লামেন্টের আইনের মধ্যে সংঘাত দেখা দিলে পার্লামেন্টের আইন প্রাধান্য পাবে।

অন্যদিকে, সংবিধানের ২৩৪ অনুচ্ছেদে প্রদেশে সাংবিধানিক ব্যবস্থা ব্যর্থ হলে গভর্নরের শাসন জারির বিধান রয়েছে। এ অনুচ্ছেদের আওতায় জারি করা ঘোষণা যৌথ অধিবেশনে উপস্থাপন করতে হয়। অনুমোদন ছাড়া দুই মাস পর ঘোষণাটি কার্যকারিতা হারায়। নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় এর মেয়াদ বাড়ানো গেলেও সর্বোচ্চ ছয় মাস পর্যন্ত তা কার্যকর থাকতে পারে।

তবে জরুরি অবস্থার সময় কিছু মৌলিক অধিকার স্থগিত করার ক্ষমতা-সংক্রান্ত সংবিধানের ২৩৩ অনুচ্ছেদটি প্রেসিডেন্টের অনুমোদিত সারসংক্ষেপে উল্লেখ করা হয়নি বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

এফএইচ/বিএ/পিআর

সর্বোচ্চ পঠিত - Breaking News

আপনার জন্য নির্বাচিত