কৃষক হত্যার দায়ে তিন ভাইয়ের ফাঁসি, ১০ আসামির যাবজ্জীবন
ময়মনসিংহ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৯:৫৭, ৭ অক্টোবর ২০২৬
ময়মনসিংহের নান্দাইলে জমি সংক্রান্ত বিরোধ ও পূর্বশত্রুতার জেরে কৃষক শফিকুল ইসলাম সবি হত্যা মামলায় তিন ভাইকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় আরও ১০ আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (৭ অক্টোবর) দুপুরে ময়মনসিংহের প্রথম অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. সামছুদ্দিন এ রায় ঘোষণা করেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত তিন ভাই হলেন—মোজাম্মেল হক স্বপন, আপন মিয়া ও রিপন মিয়া। তাঁদের মধ্যে রিপন মিয়া পলাতক রয়েছেন।
যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন—আবু বকর সিদ্দিক, কাঞ্চন মিয়া, রুবেল, পারভেজ, মোফাজ্জল হোসেন, কাশিদ, আল-আমিন, সুমন মিয়া, নয়ন মিয়া ও আসাদুল। তাঁদের প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। যাবজ্জীবনপ্রাপ্ত আসাদুলও পলাতক রয়েছেন।
যেভাবে হত্যা করা হয়
মামলা ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি নান্দাইল উপজেলার চর ভোলামরি এলাকার বাসিন্দা ও কৃষক শফিকুল ইসলাম সবি চর ভেলামারী চৌরাস্তা খেয়াঘাট এলাকার একটি কাপড়ের দোকানে বসেছিলেন।
এর আগে থেকেই স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে তাঁর জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। ওই বিরোধ ও পূর্বশত্রুতার জেরে ঘটনার দিন অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সেখানে যান। শফিকুলকে দোকানে বসা অবস্থায় ঘিরে ধরে তাঁর ওপর হামলা চালানো হয়।
একপর্যায়ে হামলাকারীরা তাঁকে ধারালো দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করেন। পরে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান বলে মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার পর নিহত শফিকুলের ভাই রফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে নান্দাইল থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে আরও ১০ থেকে ১২ জন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিকে আসামি করা হয়।
তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। বিচারপর্বে রাষ্ট্রপক্ষের ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা করা হয়। পরে উভয় পক্ষের আইনজীবীরা যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন।
সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে সিদ্ধান্ত দেন। এরপর তিন ভাইকে মৃত্যুদণ্ড এবং ১০ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দেন আদালত।
ময়মনসিংহ আদালত পরিদর্শক মোস্তাছিনুর রহমান রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মামলার ১৩ আসামির মধ্যে ১১ জনের উপস্থিতিতে বিচারক রায় ঘোষণা করেছেন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত রিপন মিয়া এবং যাবজ্জীবনপ্রাপ্ত আসামি আসাদুল পলাতক রয়েছেন।
মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট আনোয়ার আজিজ টুটুল এবং আসামিপক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট এ.কে.এম. আমানউল্লাহ বাদল
এফএইচ/বিএ/পিআর