জাহাজবাড়িতে ৯ তরুণ হত্যা মামলা: শেখ হাসিনাসহ ৮ জনের শুনানি ফের পেছাল
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১০:২৪, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
রাজধানীর কল্যাণপুরের ‘জাহাজবাড়ি’ ভবনে অভিযানের নামে ৯ তরুণকে হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ আটজনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের শুনানি আবারও পিছিয়েছে। আগামী ১৭ নভেম্বর শুনানির পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। প্যানেলের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিত ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
এদিন আসামিপক্ষের আইনজীবী সিফাত মাহমুদ শুভ শুনানির জন্য সময় চান। রাষ্ট্রপক্ষের আপত্তি না থাকায় আদালত নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন।
কারা রয়েছেন আসামির তালিকায়
মামলায় শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ছাড়াও আসামি করা হয়েছে পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহিদুল হক, ডিএমপির সাবেক কমিশনার মো. আসাদুজ্জামান মিয়া, ডিএমপির তৎকালীন অতিরিক্ত কমিশনার শেখ মুহম্মদ মারুফ হাসান, তৎকালীন কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) প্রধান মনিরুল ইসলাম, ডিএমপির তৎকালীন যুগ্ম কমিশনার কৃষ্ণপদ রায় এবং যুগ্ম কমিশনার আবদুল বাতেনকে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ মামলায় এ কে এম শহিদুল হক ও মো. আসাদুজ্জামান মিয়া গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। অন্য ছয় আসামি পলাতক থাকায় তাঁদের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
২০১৬ সালের অভিযানে ৯ তরুণ নিহতের অভিযোগ
প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৬ সালের ২৫ জুলাই রাতে রাজধানীর কল্যাণপুরে ‘জাহাজবাড়ি’ নামে পরিচিত একটি ভবনে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিট ‘অপারেশন স্টর্ম-২৬’ পরিচালনা করে। ওই অভিযানে নয় তরুণকে গুলি করে হত্যা করা হয়।
রাষ্ট্রপক্ষের দাবি, তরুণদের বিভিন্ন স্থান থেকে ধরে এনে তাঁদের জঙ্গি পরিচয় দিয়ে ওই ভবনে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। ঘটনাটিকে পরিকল্পিত মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করে আট আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের আবেদন করেছে প্রসিকিউশন। ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের কয়েকজন তদন্ত কর্মকর্তার কাছে জবানবন্দি দিয়েছেন বলেও রাষ্ট্রপক্ষ জানিয়েছে।
কেন বারবার পিছোচ্ছে শুনানি
চলতি বছরের ২৯ জানুয়ারি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ প্রসিকিউশনের দাখিল করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন। পরে ৮ মার্চ পলাতক ছয় আসামির পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হয়।
প্রথমে মামলাটি ট্রাইব্যুনাল-১-এ বিচারাধীন থাকলেও আসামিপক্ষের শুনানি চলাকালে তা ট্রাইব্যুনাল-২-এ স্থানান্তর করা হয়। এর ফলে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের বিষয়ে প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষের শুনানি নতুন করে করার প্রয়োজন দেখা দেয়। সর্বশেষ ২৮ অক্টোবরের শুনানিতেও আসামিপক্ষ সময় চাওয়ায় পরবর্তী তারিখ ১৭ নভেম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে।
এখন নির্ধারিত তারিখে ট্রাইব্যুনাল আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানি করবে। অভিযোগ গঠন হলে মামলার পরবর্তী বিচারিক কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার পথ তৈরি হবে। তবে আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।
এফএইচ/বিএ/পিআর