ঢাকা, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
১২ কার্তিক, ১৪৩৩

/ ফিচার / লাইফস্টাইল

বিয়ে করেননি যারা, তাদের ক্যানসারের ঝুঁকি বেশি—গবেষণায় চমকপ্রদ তথ্য

লাইফস্টাইল ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৯:৩৩, ১৫ অক্টোবর ২০২৬

বিয়ে করেননি যারা, তাদের ক্যানসারের ঝুঁকি বেশি—গবেষণায় চমকপ্রদ তথ্য

বিবাহিতদের তুলনায় কখনো বিয়ে করেননি—এমন প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার হার বেশি বলে উঠে এসেছে নতুন এক গবেষণায়। গবেষণায় পুরুষদের ক্ষেত্রে এই হার ৬৮ শতাংশ এবং নারীদের ক্ষেত্রে ৮৩ শতাংশ বেশি দেখা গেছে। তবে গবেষকেরা বলছেন, বিয়ে না করাই ক্যানসারের সরাসরি কারণ—এমন প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বরং ধূমপান, সংক্রমণ, ক্যানসার শনাক্তকরণের পরীক্ষা এবং প্রজনন-সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় এ পার্থক্যের পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে।

‘ক্যানসার রিসার্চ কমিউনিকেশনস’ সাময়িকীতে প্রকাশিত গবেষণাটিতে যুক্তরাষ্ট্রের ১২টি অঙ্গরাজ্যের আট বছরের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এতে দেখা যায়, বৈবাহিক অবস্থার সঙ্গে ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার হারের একটি সম্পর্ক রয়েছে। বিশেষ করে তামাকের ব্যবহার, প্রজনন-ইতিহাস এবং হিউম্যান প্যাপিলোমাভাইরাস (এইচপিভি) সংক্রমণের সঙ্গে সম্পর্কিত ক্যানসারের ক্ষেত্রে পার্থক্য বেশি লক্ষ করা গেছে। এসব ক্যানসারের মধ্যে রয়েছে ফুসফুস, খাদ্যনালি ও জরায়ুমুখের ক্যানসার।

গবেষণাটির প্রধান লেখক এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব মিয়ামির মিলার স্কুল অব মেডিসিনের সিলভেস্টার কমপ্রিহেনসিভ ক্যানসার সেন্টারের ক্যানসার এপিডেমিওলজির অধ্যাপক পাওলো এস. পিনেইরোর মতে, কখনো বিয়ে করেননি এমন ব্যক্তিদের মধ্যে ধূমপান, সংক্রমণ, ক্যানসার স্ক্রিনিং এবং প্রজনন-সংক্রান্ত অভ্যাসের পার্থক্য ক্যানসারের ঝুঁকিতে প্রভাব ফেলতে পারে। এ কারণে বৈবাহিক অবস্থাকে সরাসরি কারণ না ধরে বিভিন্ন অন্তর্নিহিত ঝুঁকির একটি পরোক্ষ নির্দেশক হিসেবে দেখা যেতে পারে।

বিয়ে করলেই কি ক্যানসারের ঝুঁকি কমে?

গবেষণাটি পর্যবেক্ষণমূলক হওয়ায় এর ফলাফল থেকে বলা যায় না যে বিয়ে করলেই ক্যানসারের ঝুঁকি কমে যায়। গবেষকেরা বিয়েকে ক্যানসার প্রতিরোধের উপায় হিসেবে দেখার পরিবর্তে বৈবাহিক অবস্থার ভিত্তিতে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী চিহ্নিত করা এবং তাদের জন্য কার্যকর প্রতিরোধ ও শনাক্তকরণ কর্মসূচি নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।

কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, স্থিতিশীল ও সহায়তাপূর্ণ সম্পর্কের সঙ্গে স্বাস্থ্যের ইতিবাচক সম্পর্ক থাকতে পারে। অর্থাৎ, সম্পর্কের আইনি স্বীকৃতির চেয়ে সামাজিক সমর্থন ও পারস্পরিক সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

নারীদের ক্ষেত্রে প্রজনন-ইতিহাসও ক্যানসারের ঝুঁকির পার্থক্য ব্যাখ্যা করতে পারে। পূর্ণ মেয়াদে গর্ভধারণের সংখ্যা কম হলে কিছু গবেষণায় ডিম্বাশয়, এন্ডোমেট্রিয়াল ও স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি দেখা গেছে। তবে আলোচ্য গবেষণায় প্রজনন-সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য অন্তর্ভুক্ত না থাকায় এ বিষয়গুলোর প্রভাব কতটা, তা নিশ্চিতভাবে বলা যায়নি।

সামাজিক সমর্থনও গুরুত্বপূর্ণ

গবেষণায় সামাজিক সমর্থন ও স্বাস্থ্যের সম্পর্কের বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। শক্তিশালী সামাজিক যোগাযোগ ক্যানসার প্রতিরোধে সহায়ক স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তুলতে এবং ক্যানসারে আক্রান্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসা ও সুস্থতার পথে সহায়তা করতে পারে। বিপরীতে, সামাজিক সমর্থনের অভাবের সঙ্গে ক্যানসারজনিত মৃত্যুর ঝুঁকি বৃদ্ধির সম্পর্ক কিছু গবেষণায় দেখা গেছে।

একাকিত্বের সঙ্গে তামাক ও অ্যালকোহল ব্যবহারের মতো অভ্যাসের সম্পর্ক থাকতে পারে, যা নির্দিষ্ট ধরনের ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়। তবে কেউ বিবাহিত কি না, শুধু তা দিয়ে তাঁর সামাজিক যোগাযোগ বা সহায়তার মাত্রা নির্ধারণ করা যায় না।

গবেষকেরা মনে করছেন, বৈবাহিক অবস্থার সঙ্গে ক্যানসারের ঝুঁকির সম্পর্ক আরও ভালোভাবে বুঝতে অতিরিক্ত গবেষণা প্রয়োজন। একই সঙ্গে ধূমপান পরিহার, প্রয়োজনীয় টিকা গ্রহণ, উপযুক্ত ক্যানসার স্ক্রিনিং এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের মতো প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপে গুরুত্ব দেওয়া জরুরি।

সূত্র: ভেরিওয়েল হেলথ

এফএইচ/বিএ/পিআর

সর্বোচ্চ পঠিত - লাইফস্টাইল

আপনার জন্য নির্বাচিত