ঢাকা, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
১২ কার্তিক, ১৪৩৩

/ ফিচার / লাইফস্টাইল

কোন সমস্যায় কোন ঘরোয়া উপায় কাজে লাগতে পারে

লাইফস্টাইল ডেস্ক

প্রকাশিত: ০২:৪১, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কোন সমস্যায় কোন ঘরোয়া উপায় কাজে লাগতে পারে

প্রতিদিনের ছোটখাটো কিছু শারীরিক অস্বস্তিতে অনেকেই প্রথমে ঘরোয়া উপায়ের কথা ভাবেন। রান্নাঘরে থাকা মধু, আদা, পুদিনা কিংবা হলুদের মতো কিছু উপাদান সাময়িক স্বস্তি দিতে পারে। তবে এগুলো কোনো রোগের নিশ্চিত চিকিৎসা নয়। উপসর্গ দীর্ঘস্থায়ী হলে বা তীব্র হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

চলুন জেনে নেওয়া যাক, কোন অস্বস্তিতে কোন ঘরোয়া উপায় কিছুটা আরাম দিতে পারে—


গলা ব্যথায় মধু-লেবু

গলা ব্যথা বা খুসখুসে অস্বস্তিতে হালকা গরম পানিতে মধু ও লেবুর রস মিশিয়ে পান করলে আরাম মিলতে পারে। এক কাপ গরম পানিতে এক টেবিল চামচ মধু ও সামান্য লেবুর রস মিশিয়ে ধীরে ধীরে পান করা যায়।

তবে এক বছরের কম বয়সী শিশুকে মধু দেওয়া উচিত নয়।

বদহজমে পুদিনা চা

খাওয়ার পর পেট ফাঁপা বা হালকা অস্বস্তিতে পুদিনা চা অনেকের জন্য স্বস্তিদায়ক হতে পারে। গরম পানিতে কয়েকটি তাজা পুদিনাপাতা দিয়ে কিছুক্ষণ ভিজিয়ে রেখে পান করা যায়।

তবে যাদের বুকজ্বালা বা অ্যাসিড রিফ্লাক্সের সমস্যা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে পুদিনা উপসর্গ বাড়াতে পারে।

বমি বমি ভাব কমাতে আদা

বমি বমি ভাব বা পেটের অস্বস্তিতে আদা কিছু মানুষের উপকার করতে পারে। আদা কুচি করে গরম পানিতে দিয়ে কয়েক মিনিট রেখে আদা-চা তৈরি করা যায়।

ভ্রমণের সময় বমি বমি ভাব কিংবা গর্ভাবস্থার শুরুর দিকে হওয়া বমি বমি ভাবেও আদা ব্যবহারের প্রচলন রয়েছে। তবে গর্ভাবস্থায় নিয়মিত বা বেশি পরিমাণে কিছু গ্রহণের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।

গাঁটের অস্বস্তিতে হলুদ

হলুদে থাকা কারকিউমিন নিয়ে প্রদাহ ও ব্যথা কমানোর সম্ভাব্য উপকারিতা নিয়ে গবেষণা হয়েছে। খাবারের সঙ্গে পরিমিত হলুদ গ্রহণ করা যেতে পারে।

অনেকে গরম দুধে সামান্য হলুদ মিশিয়ে পান করেন। তবে এটিকে গাঁটের ব্যথার চিকিৎসার বিকল্প হিসেবে না দেখে সহায়ক খাদ্যাভ্যাস হিসেবে বিবেচনা করাই ভালো।

সর্দি-কাশিতে রসুন

সর্দি-কাশির সময় গরম স্যুপ বা রান্নায় রসুন যোগ করা যেতে পারে। রসুনে থাকা কিছু যৌগ নিয়ে রোগ প্রতিরোধ ও সংক্রমণের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য ভূমিকা নিয়ে গবেষণা রয়েছে।

তবে রসুন সর্দি-কাশি সারিয়ে দেয়—এমন নিশ্চিত প্রমাণ নেই। সাধারণ সর্দি-কাশিতে পর্যাপ্ত বিশ্রাম, পানি পান ও প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

বুকজ্বালায় বেকিং সোডা? সতর্ক থাকুন

বেকিং সোডা ক্ষারীয় হওয়ায় পাকস্থলীর অ্যাসিড সাময়িকভাবে নিরপেক্ষ করতে পারে। তবে নিজের মতো করে এক গ্লাস পানিতে এক চামচ বেকিং সোডা মিশিয়ে নিয়মিত পান করা নিরাপদ নয়। এতে শরীরে অতিরিক্ত সোডিয়াম যাওয়ার পাশাপাশি ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্যেও সমস্যা হতে পারে।

বিশেষ করে উচ্চ রক্তচাপ, কিডনি বা হৃদ্‌যন্ত্রের সমস্যায় ভোগা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এটি ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। বুকজ্বালা বারবার হলে ঘরোয়া উপায়ের ওপর নির্ভর না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

মনে রাখবেন

ঘরোয়া উপায় অনেক সময় সাময়িক অস্বস্তি কমাতে সহায়ক হতে পারে, কিন্তু এগুলো সব রোগের চিকিৎসা নয়। তীব্র ব্যথা, শ্বাসকষ্ট, দীর্ঘস্থায়ী জ্বর, বারবার বমি, রক্তপাত কিংবা কয়েকদিনেও উপসর্গ না কমলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

এফএইচ/বিএ/পিআর

সর্বোচ্চ পঠিত - লাইফস্টাইল

আপনার জন্য নির্বাচিত