সিইসির পদত্যাগের দাবিতে দিল্লিতে জেন-জিদের বিক্ষোভ, ৪ হাজার পুলিশ মোতায়েন
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১০:৩৭, ২ অক্টোবর ২০২৬
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) গনেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লির যন্তর মন্তরে জেন-জিদের বিক্ষোভ কর্মসূচিকে ঘিরে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সম্ভাব্য কয়েক হাজার মানুষের সমাগমের আশঙ্কায় দিল্লিতে প্রায় ৪ হাজার পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হয়। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ায় বিপুলসংখ্যক ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার ক্ষেত্রে অনিয়মের অভিযোগ তুলে সিইসির পদত্যাগ দাবি করছে বিক্ষোভকারীরা। তবে দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, যন্তর মন্তরে কর্মসূচি পালনের জন্য কোনো সংগঠনকেই অনুমতি দেওয়া হয়নি।
নিরাপত্তার অংশ হিসেবে জেলা পুলিশ, রিজার্ভ বাহিনী, দ্রুত প্রতিক্রিয়া বাহিনী ও অন্যান্য আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর ২০টি কোম্পানিও দায়িত্ব পালন করছে। বিক্ষোভস্থল ও আশপাশের এলাকায় একাধিক স্তরের ব্যারিকেড বসানো হয়েছে।
বিক্ষোভ ঘিরে দিল্লি মেট্রোর ১১টি স্টেশনের প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ বন্ধ রাখা হয়েছে। স্টেশনগুলো হলো—জনপথ, প্যাটেল চক, কেন্দ্রীয় সচিবালয়, রাজীব চক, সেবা তীর্থ, মান্ডি হাউস, লোক কল্যাণ মার্গ, আইএনএ, চাওড়ি বাজার, রামকৃষ্ণ আশ্রম মার্গ ও নয়াদিল্লি।
তবে রাজীব চক, মান্ডি হাউস, আইএনএ, নয়াদিল্লি ও কেন্দ্রীয় সচিবালয় স্টেশনে যাত্রীদের লাইন পরিবর্তনের সুবিধা চালু রাখা হয়েছে।
শুক্রবার সকাল ১১টায় যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ শুরু হওয়ার কথা ছিল। সর্বভারতীয় ছাত্র সমিতিও সেখানে অবস্থান কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে। সংগঠনটি জানিয়েছে, গত ২৮ সেপ্টেম্বর দিল্লির পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় কর্মসূচির বিষয়ে লিখিতভাবে জানানো হয়েছিল।
এদিকে ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকও মুম্বাইয়ের শিবাজি পার্কে সিইসির বিরুদ্ধে বিক্ষোভের পরিকল্পনা করেছেন। তবে মুম্বাই পুলিশও ওই কর্মসূচির অনুমতি দেয়নি। ভারতীয় যুব কংগ্রেসের পক্ষ থেকেও যন্তর মন্তরে কর্মসূচির অনুমতি চাওয়া হলেও তা দেওয়া হয়নি।
নিরাপত্তা জোরদার করতে তলস্তয় মার্গ, জনপথ রোড, সংসদ মার্গ থেকে যন্তর মন্তর পর্যন্ত বিভিন্ন সড়কে ব্যারিকেড বসানো হয়েছে। তলস্তয় মার্গ ও কেরালা ভবনের দিক থেকেও বিক্ষোভস্থলে প্রবেশের পথ নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। অশোকা রোডের কাছেও অতিরিক্ত ব্যারিকেড দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া নতুন দিল্লি জেলায় নিষেধাজ্ঞামূলক আদেশ জারি করে গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। সম্ভাব্য যানজট ও নিরাপত্তাজনিত পরিস্থিতি বিবেচনায় কেন্দ্রীয় দিল্লির কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে দিল্লির নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পরিস্থিতি মোকাবিলায় অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েনের জন্য কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছেও আবেদন করা হয়েছে।
এফএইচ/বিএ/পিআর