স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে নাহিদের হুঁশিয়ারি
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১০:৫৬, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্থানীয় সরকার নির্বাচন সুষ্ঠু না হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হলে কিংবা নির্বাচন ‘ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের’ চেষ্টা করা হলে তা মেনে নেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেছেন, নির্বাচন প্রক্রিয়ায় কারচুপি বা প্রভাব বিস্তারের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হলে দেশের স্থিতিশীলতার কথা বিবেচনা করে চুপ করে থাকবে না এনসিপি। তিনি আরো মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে দায়িত্বে রেখে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি করা সম্ভব নয়।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন। এর আগে দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম রাজনৈতিক পর্ষদের জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়।
নাহিদ ইসলাম বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিভিন্ন সময়ে অসংলগ্ন বক্তব্য দিয়েছেন এবং দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছেন বলে তারা মনে করেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সংসদে প্রশ্নের মুখোমুখি হলেও তিনি বিভিন্ন বক্তব্যের মাধ্যমে বিষয়গুলো এড়িয়ে গেছেন বলেও অভিযোগ করেন এনসিপির এই নেতা।
তার ভাষ্য, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে মানুষের সামনে এখন উদ্বেগের বিষয়গুলো স্পষ্ট। দ্রুত পরিস্থিতির উন্নতি করতে হলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে দায়িত্বে রেখে তা সম্ভব নয় বলে মনে করে এনসিপি।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে নাহিদ ইসলাম বলেন, মিরপুরের রাড্ডা সেন্টার ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে ভাঙচুরের ঘটনা রাজধানীতে হওয়ায় তা বেশি আলোচনায় এসেছে। কিন্তু তার দাবি, সারাদেশের পরিস্থিতির চিত্রও একই রকম।
সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ভাঙচুরের ঘটনায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। নাহিদ ইসলামের অভিযোগ, অপরাধ সংঘটনের সময় প্রশাসন তা ঠেকাতে পারেনি। পরে ঘটনার দায় নিয়ে নানা ধরনের বক্তব্য সামনে আসছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এর আগে রাড্ডা সেন্টার ভাঙার ঘটনায় পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। জাসদ কার্যালয়ে পুলিশের অভিযান নিয়েও তিনি বলেছিলেন, সেটি কাউকে হয়রানি করার উদ্দেশ্যে ছিল না।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেওয়া বক্তব্য নিয়েও সমালোচনা করেন নাহিদ ইসলাম।
তিনি বলেন, বিশ্বমঞ্চে দেশের জনগণের প্রত্যাশা ও গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় বিষয়গুলো যথাযথভাবে তুলে ধরা হয়নি। ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডসহ সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচির প্রসঙ্গ তুলে ধরা হলেও সেগুলোর বাস্তবায়ন নিয়ে দেশে যে প্রশ্ন রয়েছে, তা তিনি উল্লেখ করেন।
জ্বালানি সংকট ও মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির প্রভাব নিয়েও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের অবস্থান আরও জোরালোভাবে তুলে ধরার প্রয়োজন ছিল বলে মন্তব্য করেন এনসিপির আহ্বায়ক।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়েও বক্তব্য দেন নাহিদ ইসলাম। তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচন আয়োজনের প্রক্রিয়া দফায় দফায় পিছিয়ে যাচ্ছে এবং নির্বাচন কমিশনকে দলীয়করণের মাধ্যমে নির্বাচনকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন সুষ্ঠু না হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হলে কিংবা নির্বাচন ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’ করার চেষ্টা হলে এনসিপি তা প্রতিহত করবে।
এর আগে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছিল, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রথম ধাপ বছরের শেষ দিকে আয়োজনের লক্ষ্য রয়েছে এবং সময়সূচি সেপ্টেম্বর বা প্রয়োজনে অক্টোবরে ঘোষণা করা হতে পারে।
সংবিধান সংস্কার নিয়ে আপত্তি
সংবিধান সংশোধন কমিটি নিয়েও আপত্তি জানান নাহিদ ইসলাম। তাঁর অভিযোগ, সংশোধনের নামে মৌলিক সংস্কারের আকাঙ্ক্ষাকে সীমিত করার চেষ্টা চলছে।
তিনি বলেন, এনসিপি ‘কসমেটিক’ পরিবর্তনের পরিবর্তে রাষ্ট্রের মৌলিক সংস্কার চায়। দ্রুত সংবিধান সংস্কার পরিষদের সভা আহ্বানেরও দাবি জানান তিনি।
শিক্ষক নিয়োগে বাদ পড়াদের পাশে থাকার ঘোষণা
প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগের ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়ায় চাকরিপ্রত্যাশীদের বাদ দেওয়ার অভিযোগ নিয়েও কথা বলেন নাহিদ ইসলাম।
তিনি দাবি করেন, প্রায় আড়াই হাজার প্রার্থীকে বাদ দেওয়া হয়েছে এবং তাদের অধিকাংশের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বা রাষ্ট্রবিরোধী কার্যক্রমের সুস্পষ্ট তথ্য-প্রমাণ নেই।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া অনেক সহযোদ্ধাও এই প্রক্রিয়ায় বাদ পড়েছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। অন্যায্যভাবে কোনো চাকরিপ্রার্থী বাদ পড়লে এনসিপি তার পক্ষে অবস্থান নেবে বলেও জানান নাহিদ।
সংবাদ সম্মেলনে দলের সদস্য সচিব আখতার হোসেনসহ রাজনৈতিক পর্ষদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
এফএইচ/বিএ/পিআর