সুন্দরবন ঘেঁষে ১৮ রিসোর্ট বন্ধের নির্দেশ, সরাতে হবে সব স্থাপনা
বিশেষ প্রতিবেদন
প্রকাশিত: ০৯:২১, ৬ অক্টোবর ২০২৬
নিজস্ব প্রতিবেদক
সুন্দরবনসংলগ্ন এলাকায় অনুমোদন ছাড়া গড়ে ওঠা ১৮টি রিসোর্টের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর। এসব রিসোর্টের কার্যক্রম বন্ধের পাশাপাশি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সব স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্দেশ অমান্য করলে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা, বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন এবং নিয়মিত মামলা করার মতো কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।
রোববার (৪ অক্টোবর) পরিবেশ অধিদপ্তরের খুলনা জেলা কার্যালয় থেকে সংশ্লিষ্ট রিসোর্ট মালিকদের লিখিতভাবে এ নির্দেশ দেওয়া হয়। এর মধ্যে ১০টি প্রতিষ্ঠানকে ৩০ দিনের মধ্যে সব স্থাপনা অপসারণ করতে বলা হয়েছে। আর নতুন করে গড়ে ওঠা আটটি রিসোর্টকে ১৫ দিনের মধ্যে স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পরিবেশ অধিদপ্তর জানিয়েছে, বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ (সংশোধিত ২০১০) ও সংশ্লিষ্ট বিধিমালা অনুযায়ী এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনা না মানলে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পরিবেশ অধিদপ্তর খুলনা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. হারুন-অর রশীদ জানান, খুলনার ঢাংমারী, কৈলাসগঞ্জ ও বাণিশান্তা এলাকায় এসব রিসোর্ট অবস্থিত। সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ের আওতাধীন হওয়ায় অনুমোদনহীন স্থাপনাগুলোর বিরুদ্ধে পরিবেশ আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, অনুমোদন ছাড়া রিসোর্ট নির্মাণের অভিযোগে এর আগে ১০টি প্রতিষ্ঠানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। জবাবে রিসোর্ট মালিকরা অনুমোদনের আবেদন করলেও পরিবেশ অধিদপ্তরের চাহিদা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে পারেননি। ফলে গত ৩০ সেপ্টেম্বর তাদের আবেদন বাতিল করা হয়। এরপর সব প্রতিষ্ঠানকে কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, নতুন করে নির্মাণ করা আটটি রিসোর্টকে গত ৩০ সেপ্টেম্বর সাত দিনের মধ্যে গ্রহণযোগ্য স্থানে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় এবার এসব রিসোর্ট বন্ধ এবং ১৫ দিনের মধ্যে স্থাপনা অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পরিবেশ অধিদপ্তরের তালিকায় থাকা রিসোর্টগুলো হলো—অরণ্যছায়া, অরণ্যবাড়ী, কেওড়াবন, মায়াবন, গহন, দ্য ফরেস্ট রিট্রিট, নিকুঞ্জ ভ্যালি, লা সিলভা কটেজ, বনবিবি, সুন্দরী, ইরাবতী, বনমালী, গোলকানন, পিয়ালী, ম্যানগ্রোভ, জঙ্গলবাড়ী, বনবাস ও বনলতা ইকো কটেজ।
পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, সুন্দরবনসংলগ্ন এলাকায় অনুমোদনহীন স্থাপনা নির্মাণের বিষয়টি পরিবেশ আইন অনুযায়ী গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তবে মোংলা উপজেলার চিলা, বৈদ্যমারী ও চাঁদপাই এলাকায় থাকা রিসোর্টগুলো বাগেরহাট জেলার আওতাধীন হওয়ায় সেগুলোর বিষয়ে খুলনা জেলা কার্যালয়ের কাছে তথ্য নেই।
এফএইচ/বিএ/পিআর