ঢাকা, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
১২ কার্তিক, ১৪৩৩

/ Breaking News

রূপপুরের দ্বিতীয় ইউনিটের জ্বালানি পৌঁছাল, পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনে এগোচ্ছে বাংলাদেশ

ঈশ্বরদী (পাবনা) সংবাদদাতা

প্রকাশিত: ১১:৩৪, ২১ অক্টোবর ২০২৬

রূপপুরের দ্বিতীয় ইউনিটের জ্বালানি পৌঁছাল, পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনে এগোচ্ছে বাংলাদেশ

পাবনার ঈশ্বরদীতে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য পারমাণবিক জ্বালানির নতুন চালান পৌঁছেছে। বুধবার (২১ অক্টোবর) সকাল ১০টা ৩ মিনিটে সেনাবাহিনীর বিশেষ নিরাপত্তায় জ্বালানিবাহী গাড়িগুলো প্রকল্প এলাকায় প্রবেশ করে।

এর আগে মঙ্গলবার রাতে রাশিয়া থেকে পারমাণবিক জ্বালানিবাহী বিমান ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। সেখানে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের কর্মকর্তারা জ্বালানি গ্রহণ করেন।

বুধবার ভোরে তিনটি লরিতে করে জ্বালানি নিয়ে রূপপুরের উদ্দেশে রওনা হন সংশ্লিষ্টরা। সেনাবাহিনীর নিরাপত্তায় বঙ্গবন্ধু সেতু পার হয়ে নাটোরের বনপাড়া ও পাবনার ঈশ্বরদীর দাশুড়িয়া হয়ে চালানটি প্রকল্প এলাকায় পৌঁছায়।

জ্বালানি পরিবহনের পুরো পথে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়। মহাসড়কের বিভিন্ন মোড়ে পুলিশ সদস্যদের অবস্থান দেখা যায়। সেনাবাহিনীর পাশাপাশি এসআরবি ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরাও নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করেন। পরিবহনের সময় যানজট এড়াতে মহাসড়কে সাময়িকভাবে ভারী যানবাহন চলাচল বন্ধ রাখা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

প্রকল্পসংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, রূপপুরের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য সাতটি কার্গোতে ১৬৩টি ইউরেনিয়াম অ্যাসেম্বলি আনার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি প্রথম ইউনিটে জ্বালানি পুনঃস্থাপনের জন্য দুটি কার্গোতে আরও ৪৮টি ইউরেনিয়াম অ্যাসেম্বলি দেশে আনার কথা রয়েছে। বুধবারের চালানটি এই সরবরাহ কার্যক্রমের অংশ।

সূত্রগুলো আরও জানিয়েছে, আগামী নভেম্বর ও ডিসেম্বরের মধ্যে রাশিয়া থেকে আরও আটটি ফ্লাইটে জ্বালানি দেশে আসার কথা রয়েছে। এসব চালান বিভিন্ন দেশের ওপর দিয়ে বাংলাদেশে পৌঁছাবে। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি করপোরেশন রসাটমের তথ্য অনুযায়ী, ডিসেম্বরের মধ্যে জ্বালানি সরবরাহের পুরো প্রক্রিয়া শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

এর আগে ২০২৩ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের জ্বালানি দেশে পৌঁছায়। ওই বছরের অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে আরও চারটি চালানে জ্বালানি রূপপুরে নেওয়া হয়। চলতি বছরের মে মাসে প্রথম ইউনিটের পারমাণবিক চুল্লিতে জ্বালানি স্থাপনের কাজ সম্পন্ন হয়।

প্রকল্পসংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথম ইউনিটের ব্যবহৃত জ্বালানির এক-চতুর্থাংশ প্রায় দেড় বছর পর পরিবর্তন করতে হবে। এ জন্য চলতি মাসের ৩ অক্টোবর প্রথম ইউনিটের অতিরিক্ত জ্বালানির একটি চালান রূপপুরে আনা হয়। চুক্তি অনুযায়ী, প্রথম তিন বছর রাশিয়া জ্বালানি সরবরাহ করবে। এরপর নির্ধারিত সময় পরপর জ্বালানি পরিবর্তনের জন্য বাংলাদেশকে তা আমদানি করতে হবে।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দুটি ইউনিটের মোট উৎপাদনক্ষমতা ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট। প্রথম ইউনিটে জ্বালানি স্থাপনের কাজ শেষ হলেও বিভিন্ন কারিগরি জটিলতায় বিদ্যুৎ উৎপাদনের সময়সূচি পিছিয়েছে।

চলতি মাসে প্রথম ইউনিট থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা থাকলেও স্বয়ংক্রিয় চাপ প্রশমন ব্যবস্থার নিরাপত্তা ভালভে ত্রুটি দেখা দেওয়ায় তা সম্ভব হয়নি। পরে ৩০ সেপ্টেম্বর ভালভটির তৃতীয় পরীক্ষা সম্পন্ন হয়। সংশ্লিষ্ট অনুমোদন পাওয়ার পর ১১ অক্টোবর প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরু করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রকল্পসংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে প্রথম ইউনিট থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ আগামী নভেম্বরে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হতে পারে। পাশাপাশি দ্বিতীয় ইউনিটের নির্মাণ ও কমিশনিং কার্যক্রমও এগিয়ে চলছে।

দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য জ্বালানি পৌঁছানোর মধ্য দিয়ে রূপপুর প্রকল্পের গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ এগোল। তবে কেন্দ্রটির পূর্ণাঙ্গ বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর সময় নির্ভর করছে প্রয়োজনীয় কারিগরি পরীক্ষা, নিরাপত্তা যাচাই ও কমিশনিং কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ার ওপর।

এফএইচ/বিএ/পিআর

সর্বোচ্চ পঠিত - Breaking News

আপনার জন্য নির্বাচিত