হুথিদের হামলা থামাতে ১ বিলিয়ন ডলারের টোপ সৌদি আরবের!
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০১:১৭, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের হামলা বন্ধ এবং যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করতে ১০০ কোটি মার্কিন ডলার দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে সৌদি আরব—এমন দাবি করেছে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ইসরায়েল হায়োম। ইরানের মধ্যস্থতায় সম্ভাব্য সমঝোতার অংশ হিসেবে এ অর্থ দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে অর্থ দেওয়ার প্রস্তাব কিংবা অর্থ হস্তান্তরের বিষয়টি সৌদি আরব আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে উপসাগরীয় অঞ্চলের কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়, সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমান হুথিদের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনার উদ্দেশ্যে তেহরান সফর করেন। সেখানে ইরানের মধ্যস্থতায় সম্ভাব্য সমঝোতা এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা কমানোর বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। টাইমস অব ইন্ডিয়া ও দ্য ইকোনমিক টাইমসও ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে খবরটি প্রকাশ করেছে। তবে এসব প্রতিবেদনে অর্থ দেওয়ার দাবির পক্ষে স্বাধীন কোনো নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি।
অর্থ নিয়ে তেহরানে যাওয়ার দাবি
ইসরায়েল হায়োমের প্রতিবেদনে একটি কূটনৈতিক সূত্রের দাবি, সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী যে হারকিউলিস সামরিক পরিবহন বিমানে তেহরানে পৌঁছান, সেই বিমানেই অর্থ নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। তবে এ দাবির সত্যতা নিশ্চিত করা যায়নি। সৌদি কর্মকর্তারাও অর্থ হস্তান্তরের বিষয়টি নিশ্চিত করেননি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রস্তাবিত অর্থের একটি অংশ হুথিদের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায় সরকারি কর্মীদের বেতন পরিশোধ এবং বেসামরিক অবকাঠামো পুনর্গঠনে ব্যয় করার কথা রয়েছে। এর বিনিময়ে হুথিদের যুদ্ধবিরতি বজায় রাখা এবং সৌদি আরবে হামলা বন্ধ করার কথা বলা হয়েছে।
তবে সৌদি আরবের অবস্থান নিয়ে একই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হুথিদের সামরিক চাপের মুখে নতুন কোনো যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে রাজি হওয়া কিংবা অর্থ দেওয়ার বিষয়ে রিয়াদ অনাগ্রহী। ফলে ১০০ কোটি ডলারের প্রস্তাবটি বাস্তব সমঝোতায় রূপ নিয়েছে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
তেহরানে সৌদি, পাকিস্তান ও তুরস্কের প্রতিনিধিরা
সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ২৬ অক্টোবর এক বিবৃতিতে জানায়, দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমান এবং মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির সদস্যদেশগুলোর প্রতিনিধিরা তেহরান সফর করেছেন। আঞ্চলিক সংকটের উত্তেজনা কমানো, সংলাপের সুযোগ তৈরি এবং কূটনৈতিক সমাধান এগিয়ে নেওয়াই এ সফরের উদ্দেশ্য।
সৌদি বিবৃতিতে কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতার প্রচেষ্টাকে সমর্থন জানানোর কথাও বলা হয়েছে। তবে বিবৃতিতে হুথিদের ১০০ কোটি ডলার দেওয়ার কোনো প্রস্তাব বা অর্থ হস্তান্তরের কথা উল্লেখ করা হয়নি।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তেহরানের আলোচনায় পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এবং তুরস্কের গোয়েন্দাপ্রধান ইব্রাহিম কালিন অংশ নেন। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ও দেশটির জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের সঙ্গেও প্রতিনিধিদের বৈঠক হয়।
আগের সমঝোতা নিয়ে বিরোধ
ইসরায়েল হায়োমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় তিন বছর আগে সৌদি আরব ও হুথিদের মধ্যে হওয়া সমঝোতার বাস্তবায়ন নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। ওই সমঝোতার আওতায় হুথি নিয়ন্ত্রিত এলাকায় সরকারি কর্মীদের বেতন পরিশোধ এবং বেসামরিক অবকাঠামো পুনর্গঠনে সৌদি আরবের আর্থিক সহায়তা দেওয়ার কথা ছিল বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
এর বিনিময়ে হুথিদের যুদ্ধবিরতি বজায় রাখা এবং সৌদি আরবে হামলা বন্ধ করার প্রত্যাশা ছিল। তবে হুথিরা অভিযোগ করেছে, সৌদি আরব আগের সমঝোতা বাস্তবায়ন করেনি। এ বিরোধকে কেন্দ্র করেই নতুন করে অর্থসহায়তা ও যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, সৌদি আরব হুথিদের দখলে থাকা ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকাগুলো ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়টিকে গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হিসেবে বিবেচনা করছে বলে একই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
আঞ্চলিক উত্তেজনা কমাতে কূটনৈতিক তৎপরতা
তেহরানের বৈঠক এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হলো, যখন মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের প্রতিনিধিদের ইরান সফরকে আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রশমনের একটি কূটনৈতিক উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সৌদি আরবের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যে আলোচনার মাধ্যমে সংকট নিরসন, মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা জোরদার এবং নতুন করে সামরিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়া ঠেকানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
তবে হুথিদের হামলা বন্ধের বিনিময়ে সৌদি আরব সত্যিই ১০০ কোটি ডলার দিতে সম্মত হয়েছে কি না, সম্ভাব্য চুক্তির শর্ত কী এবং হুথিরা এতে রাজি হয়েছে কি না—এসব বিষয়ে এখনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে আপাতত অর্থ দেওয়ার বিষয়টিকে নিশ্চিত চুক্তি হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
সূত্র: ইসরায়েল হায়োম, টাইমস অব ইন্ডিয়া, দ্য ইকোনমিক টাইমস ও সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
এফএইচ/বিএ/পিআর