৪৯৪ কোটি টাকার সিগারেট তৈরির তামাক জব্দ, আমদানি মূল্যে বড় গরমিল
চট্টগ্রাম সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ১২:০৬, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
চট্টগ্রাম বন্দরে পাকিস্তান থেকে আমদানি করা ১৫০ মেট্রিক টন কাঁচা তামাকের চালান জব্দ করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। ১০টি কনটেইনারে আনা এই তামাক দিয়ে প্রায় ২১ কোটি ৪৩ লাখ শলাকা প্রিমিয়াম সিগারেট উৎপাদন করা সম্ভব। এসব সিগারেটের সম্ভাব্য খুচরা বাজারমূল্য প্রায় ৪৯৩ কোটি ৮৬ লাখ টাকা।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কার্যালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গ্লোবাল লিফ টোব্যাকো কোম্পানি লিমিটেডের বন্ড সুবিধায় পাকিস্তান থেকে চালানটি আমদানি করা হয়েছিল। চালানটির প্রাথমিক পর্যালোচনায় আমদানি মূল্যে উল্লেখযোগ্য অসংগতি পাওয়া গেছে। এ কারণে বিষয়টি কাস্টমস গোয়েন্দাদের নজরে আসে এবং চালানটি জব্দ করা হয়।
ঘোষিত আমদানি মূল্যে বড় অসংগতি
কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, একই এইচএস কোডের পণ্যের ক্ষেত্রে প্রতি কেজি ৫ দশমিক ১০ মার্কিন ডলার দরে অ্যাসেসমেন্ট করা হলেও আটক চালানে প্রতি কেজি কাঁচা তামাকের ঘোষিত মূল্য দেখানো হয়েছে মাত্র ১ দশমিক ৪৫ মার্কিন ডলার।
অর্থাৎ, একই শ্রেণির পণ্যের আগের মূল্যায়নের তুলনায় এই চালানে ঘোষিত আমদানি মূল্য উল্লেখযোগ্যভাবে কম। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, আগের আমদানি মূল্য বিবেচনায় চালানটি থেকে আমদানি পর্যায়ে সম্ভাব্য রাজস্বের পরিমাণ প্রায় ২১ কোটি ১২ লাখ টাকা।
বন্ড সুবিধার অপব্যবহারে শুল্ক-কর ফাঁকির ঝুঁকি
কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর জানিয়েছে, বন্ড সুবিধায় আমদানি করা পণ্যের প্রকৃত ব্যবহার এবং তা থেকে উৎপাদিত পণ্যের হিসাব যথাযথভাবে সংরক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ করা না হলে শুল্ক-কর ফাঁকির ঝুঁকি তৈরি হয়। আমদানি থেকে শুরু করে উৎপাদন ও বাজারজাতকরণের প্রতিটি পর্যায়েই এ ধরনের অনিয়মের সুযোগ থাকতে পারে।
বিশেষ করে বন্ড সুবিধায় আমদানি করা কাঁচামাল নির্ধারিত নিয়মে ব্যবহৃত হচ্ছে কি না এবং উৎপাদিত পণ্যের সঠিক হিসাব রাখা হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করা রাজস্ব সুরক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
চট্টগ্রাম বন্দরে জব্দ করা পাকিস্তানি কাঁচা তামাকের এই চালানে ঘোষিত মূল্য ও প্রচলিত মূল্যায়নের মধ্যে পাওয়া অসংগতি আমদানি প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং শুল্ক-কর পরিশোধের বিষয়টি নতুন করে সামনে এনেছে। তবে চালানটির মূল্যসংক্রান্ত অসংগতির বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও সম্ভাব্য দায় নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরবর্তী তদন্ত ও যাচাই গুরুত্বপূর্ণ।
এফএইচ/বিএ/পিআর