ঢাকা, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
১২ কার্তিক, ১৪৩৩

/ Breaking News

এক হামলার পর আরেক হামলা, ধ্বংসস্তূপ থেকে যেভাবে উদ্ধার মোজতবা খামেনি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ০১:৫৯, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

এক হামলার পর আরেক হামলা, ধ্বংসস্তূপ থেকে যেভাবে উদ্ধার মোজতবা খামেনি

ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনিকে নিয়ে নতুন করে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। ইরানের অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টসের সদস্য মহসেন হায়দারির দাবি, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় ফের বিমান হামলার শিকার হয়েছিলেন মোজতবা। পরে হাসপাতালের ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে তাঁকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল আরাবিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে হায়দারি এ তথ্য জানিয়েছেন বলে নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, আহত হওয়ার পর মোজতবা তেহরানের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। এরপর তেহরানের তিনটি হাসপাতালে ধারাবাহিকভাবে হামলা হয়। তৃতীয় হাসপাতালটিতেই অবস্থান করছিলেন মোজতবা। হামলার পর ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে তাঁকে উদ্ধার করা হয়।

মোজতবার বর্তমান অবস্থান ও শারীরিক পরিস্থিতি নিয়ে এর আগে নানা ধরনের তথ্য ছড়িয়েছিল। তিনি প্রকাশ্যে না আসায় গুঞ্জন আরও বাড়ে। তবে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, তিনি নতুন সর্বোচ্চ নেতার সঙ্গে প্রায় আড়াই ঘণ্টা বৈঠক করেছেন।

মহসেন হায়দারি মোজতবা খামেনির সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়া নিয়েও বিস্তারিত দাবি করেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ৮ মার্চ কোম শহরে অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টসের বৈঠকের সময়ও বোমা হামলা হয়। এতে কয়েকজন নিহত হন এবং গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে তিনি দাবি করেন।

এরপর নিরাপত্তাজনিত কারণে সদস্যরা গোপন বৈঠকে ভোট দেন। হায়দারির দাবি, ৫৯টি ভোটের মধ্যে ৫০টি ভোট পেয়ে মোজতবা খামেনি নির্বাচিত হন। আলিজা আরাফি পান ৮ ভোট এবং একজন সদস্য ভোটদানে বিরত থাকেন।

তবে ভোটের সংখ্যা ও প্রক্রিয়া নিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে ভিন্ন তথ্য পাওয়া যায়। ইরানের অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস ৮ মার্চ মোজতবাকে নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের ঘোষণা দেয়। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধকালীন নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে গোপনীয়তা ও মতপার্থক্য ছিল।

সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত হওয়ার পরও মোজতবা খামেনিকে প্রকাশ্যে খুব কমই দেখা গেছে। তাঁর পক্ষ থেকে লিখিত বিবৃতির মাধ্যমে যোগাযোগের খবর এসেছে। বাবার জানাজাতেও তিনি উপস্থিত ছিলেন না বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তাঁর শারীরিক অবস্থা নিয়েও নানা গুঞ্জন ছড়ায়। এর মধ্যে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান তাঁর সঙ্গে বৈঠকের কথা জানান। অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও মোজতবার অবস্থা নিয়ে মন্তব্য করেছেন। ট্রাম্পের দাবি, মোজতবা মারা যাননি; তবে তিনি গুরুতর আহত হয়েছেন এবং শরীরের বাম পাশ, হাত ও পায়ে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

মোজতবার হাসপাতাল থেকে ধ্বংসস্তূপের নিচে পড়া ও উদ্ধারের তথ্যটি অবশ্য মহসেন হায়দারির বক্তব্যের ওপর ভিত্তি করে প্রকাশিত হয়েছে। এ দাবির স্বাধীন নিশ্চিতকরণ সম্পর্কে প্রতিবেদনে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

এফএইচ/বিএ/পিআর

সর্বোচ্চ পঠিত - Breaking News

আপনার জন্য নির্বাচিত