ঢাকা, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
১২ কার্তিক, ১৪৩৩

/ Breaking News

ঘুষের ভিডিও ভাইরাল, ইয়াবায় ফাঁসানোর অভিযোগ—১২ দিনে চুনারুঘাট থানার ৪ পুলিশ প্রত্যাহার

হবিগঞ্জ সংবাদদাতা

প্রকাশিত: ০৯:১০, ৭ অক্টোবর ২০২৬

ঘুষের ভিডিও ভাইরাল, ইয়াবায় ফাঁসানোর অভিযোগ—১২ দিনে চুনারুঘাট থানার ৪ পুলিশ প্রত্যাহার

হবিগঞ্জের চুনারুঘাট থানায় যেন একের পর এক অভিযোগের ঝড়! ঘুষ গ্রহণ, মামলায় ফাঁসানোর হুমকি, ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানোর চেষ্টাসহ নানা অভিযোগে মাত্র ১২ দিনের ব্যবধানে থানার চার পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন একজন উপপরিদর্শক (এসআই), দুইজন সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) ও একজন কনস্টেবল।

সর্বশেষ মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) এক ব্যক্তিকে মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে এএসআই অতনু বণিককে প্রত্যাহার করা হয়। ঘুষ নেওয়ার ওই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পরই বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। পরে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তাকে থানা থেকে সরিয়ে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়।

এর একদিন আগে সোমবার (৫ অক্টোবর) এএসআই মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসাইনের একটি বক্তব্যের ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে তাকেও প্রত্যাহার করা হয়। ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘আমি পোশাক লাগিয়েছি ঘুষের টাকা দিয়ে, ঘুষ খাওয়ার জন্যই।’

জানা গেছে, সম্প্রতি একটি মামলার তদন্তের কাজে চুনারুঘাট উপজেলার রানীগাঁও বাজারে গেলে এএসআই ইলিয়াস হোসাইন ওই বক্তব্য দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় এক ব্যক্তি মোবাইল ফোনে তার বক্তব্য ধারণ করেন। পরে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়।

এর আগে গত ২৫ সেপ্টেম্বর ইয়াবা দিয়ে একই পরিবারের তিন সদস্যকে ফাঁসানোর চেষ্টার অভিযোগে এসআই মাসুম আল-মামুন ও কনস্টেবল রহুল আমীনকে প্রত্যাহার করা হয়।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, চুনারুঘাট উপজেলার কালিশিরী গ্রামের ছায়েদ মিয়া (৫০), তার মেয়ে জাসমিন আক্তার (২৪) ও ছোট ভাই ইউনুস মিয়া (৪৫)-এর সঙ্গে প্রতিবেশীদের বাড়িতে যাতায়াতের রাস্তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এর জের ধরে গত ২৪ সেপ্টেম্বর তাদের ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে।

বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে এলে তদন্ত শুরু হয়। একই সঙ্গে এসআই মাসুম আল-মামুন ও কনস্টেবল রহুল আমীনকে থানা থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়।

এ বিষয়ে সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মো. রাফিউর রহমান বলেন, ‘তদন্তের স্বার্থে তাদের পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। তদন্তে কেউ দোষী প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

মাত্র ১২ দিনের ব্যবধানে চার পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহারের ঘটনায় চুনারুঘাটে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ঘুষ গ্রহণের ভিডিও, পুলিশ সদস্যের বিতর্কিত বক্তব্য এবং ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানোর অভিযোগে থানার কার্যক্রম নিয়েও নানা প্রশ্ন উঠেছে।

তবে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা এখনো তদন্তাধীন। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে এসব অভিযোগকে চূড়ান্তভাবে সত্য বলে ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই।

এফএইচ/বিএ/পিআর

সর্বোচ্চ পঠিত - Breaking News

আপনার জন্য নির্বাচিত