ঢাকা, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
১২ কার্তিক, ১৪৩৩

/ Breaking News

মেয়াদ বিতর্কের মধ্যেই বড় সিদ্ধান্ত, চসিকের প্রশাসক হলেন শাহাদাত

চট্টগ্রাম সংবাদদাতা

প্রকাশিত: ১০:৪৬, ২৫ অক্টোবর ২০২৬

মেয়াদ বিতর্কের মধ্যেই বড় সিদ্ধান্ত, চসিকের প্রশাসক হলেন শাহাদাত
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র পদে মেয়াদের বিতর্কের মধ্যেই এবার সংস্থাটির পূর্ণকালীন প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বিএনপি নেতা ডা. শাহাদাত হোসেন। রোববার (২৫ অক্টোবর) স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে। এর মধ্য দিয়ে মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করা শাহাদাত এবার সরকারের নিয়োগ দেওয়া প্রশাসক হিসেবে চসিক পরিচালনার দায়িত্ব পেলেন। 

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) (সংশোধন) আইন, ২০২৬-এর ৪ ধারা অনুযায়ী তাঁকে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নতুন সিটি করপোরেশন গঠিত না হওয়া পর্যন্ত অথবা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তিনি এ দায়িত্ব পালন করবেন। এ সময় আইনের ৪ ধারার ৩ উপধারা অনুযায়ী সিটি করপোরেশনের মেয়রের ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালন করবেন তিনি। বিধি অনুযায়ী মাসিক সম্মানী ও অন্যান্য ভাতাও পাবেন।

রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জারি করা প্রজ্ঞাপনে সই করেছেন স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব জুয়েল রানা।

মেয়াদের হিসাব নিয়ে ছিল মতবিরোধ

চসিকের বর্তমান পরিষদের মেয়াদ নিয়ে কয়েক মাস ধরেই আলোচনা-সমালোচনা চলছিল। স্থানীয় সরকার বিভাগের নথি অনুযায়ী, ২০২১ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি নির্বাচিত পরিষদের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়। আইন অনুযায়ী পাঁচ বছরের মেয়াদ গণনা করায় ২০২৬ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি পরিষদের মেয়াদ শেষ হয়।

তবে শাহাদাত হোসেনের বক্তব্য ছিল ভিন্ন। তাঁর দাবি, আদালতের রায়ে মেয়র ঘোষিত হওয়ার পর ২০২৪ সালের ৩ নভেম্বর শপথ নিয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করায় তাঁর মেয়াদ ২০২৯ সালের নভেম্বর পর্যন্ত। অন্যদিকে, স্থানীয় সরকার বিভাগের নথিতে বলা হয়েছিল, আদালত তাঁকে মেয়র ঘোষণা করলেও মেয়াদের বিষয়ে আলাদা কোনো নির্দেশনা দেননি। এ মতপার্থক্য থেকেই তাঁর দায়িত্ব পালনের বৈধতা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। 

আদালতের রায়ে যেভাবে মেয়র হন শাহাদাত

২০২১ সালের ২৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ফলাফল বাতিলের দাবিতে মামলা করেছিলেন ডা. শাহাদাত হোসেন। ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী রেজাউল করিম চৌধুরীকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছিল।

পরে ২০২৪ সালের ১ অক্টোবর নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল রেজাউল করিম চৌধুরীকে নির্বাচিত ঘোষণার সিদ্ধান্ত বাতিল করে শাহাদাত হোসেনকে মেয়র ঘোষণা করেন। আদালতের নির্দেশে ৮ অক্টোবর নির্বাচন কমিশন সংশোধিত গেজেট প্রকাশ করে। এরপর ৩ নভেম্বর মেয়র হিসেবে শপথ নেন শাহাদাত। 

মার্চেও প্রশাসক নিয়োগের উদ্যোগ ছিল

শাহাদাতকে প্রশাসক নিয়োগের উদ্যোগ এবারই প্রথম নয়। প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত মার্চেও তাঁকে পূর্ণকালীন প্রশাসক করার প্রস্তাব তৈরি করেছিল স্থানীয় সরকার বিভাগ। তবে তখন নিয়োগের আদেশ জারি হয়নি। এর আগে নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে গত ৩ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দিয়েছিল স্থানীয় সরকার বিভাগ।

নতুন নিয়োগে কী বদল হলো?

নতুন প্রজ্ঞাপনের ফলে শাহাদাত হোসেন এখন প্রশাসক হিসেবে চসিকের মেয়রের ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালন করবেন। তাঁর প্রশাসক নিয়োগের মাধ্যমে মেয়াদসংক্রান্ত বিতর্কের মধ্যে সংস্থাটির পরিচালনার বিষয়ে সরকারের আনুষ্ঠানিক অবস্থান স্পষ্ট হলো।

তবে প্রজ্ঞাপনে প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়নি; বলা হয়েছে, নতুন সিটি করপোরেশন গঠিত না হওয়া পর্যন্ত অথবা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তিনি দায়িত্বে থাকবেন। ফলে পরবর্তী নির্বাচন ও নতুন করপোরেশন গঠন না হওয়া পর্যন্ত চসিকের প্রশাসনিক নেতৃত্ব তাঁর হাতেই থাকছে। 

এফএইচ/বিএ/পিআর

সর্বোচ্চ পঠিত - Breaking News

আপনার জন্য নির্বাচিত