‘জেলেনস্কির বিদায় নেওয়ার সময় হয়েছে’, বিস্ফোরক মন্তব্য ইলন মাস্কের
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১১:৪৫, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে পদত্যাগের আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন ধনকুবের ও স্পেসএক্সের প্রতিষ্ঠাতা ইলন মাস্ক। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে প্রাণহানি অব্যাহত থাকার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেছেন, জেলেনস্কির বিদায় নেওয়ার সময় হয়েছে।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে মাস্ক লেখেন, ‘হত্যাযজ্ঞ তো চলছেই। জেলেনস্কির বিদায় নেওয়ার সময় হয়েছে।’
ইউক্রেনের যুদ্ধ পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন নিয়ে কিয়েভের মধ্যে নতুন করে সংশয় তৈরি হওয়ার প্রেক্ষাপটে মাস্কের এ মন্তব্য সামনে এল। রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলার বিষয়ে আগাম সতর্কবার্তা না দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র মস্কোকে পরোক্ষভাবে সহায়তা করছে বলে অভিযোগ করেছে ইউক্রেন। দেশটির দাবি, মাস্কের প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের স্যাটেলাইট যোগাযোগব্যবস্থায় পরিবর্তনের কারণে তাদের সামরিক প্রতিরোধক্ষমতাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
ইউক্রেনের সামরিক যোগাযোগব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে স্পেসএক্সের স্যাটেলাইটভিত্তিক ইন্টারনেট সেবা স্টারলিংক। তবে সম্প্রতি এ সেবার গতি সীমিত করায় সামরিক কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটছে বলে দাবি করেছে কিয়েভ।
এ পরিস্থিতিতে স্টারলিংক সেবা স্বাভাবিক করার জন্য মাস্কের প্রতি আহ্বান জানান জেলেনস্কি। জবাবে মাস্ক বলেন, এ ধরনের বিধিনিষেধের জন্য যুক্তরাষ্ট্র সরকার দায়ী।
মাস্ক স্টারলিংক ও স্টারশিল্ডের মধ্যে পার্থক্য তুলে ধরে বলেন, ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রে যোগাযোগের জন্য ব্যবহৃত স্টারশিল্ড যুক্তরাষ্ট্র সরকারের নিয়ন্ত্রণে। অন্যদিকে, স্টারলিংক একটি বেসামরিক স্যাটেলাইট সেবা। ইউক্রেন এটি ব্যবহার করলেও আক্রমণাত্মক সামরিক অভিযানে ব্যবহারের অনুমতি নেই বলে তাঁর বক্তব্য।
এদিকে, সম্প্রতি রাশিয়ার সঙ্গে ডিজেল সরবরাহসংক্রান্ত একটি চুক্তির ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রাশিয়ার ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও এ ঘোষণার পর জেলেনস্কিকে প্রশ্ন করা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের আচরণে তিনি বিশ্বাসভঙ্গের শিকার হয়েছেন কি না। জবাবে তিনি ইতিবাচক উত্তর দেন।
কিয়েভের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণসংক্রান্ত তথ্য সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি সম্প্রতি ইউক্রেনকে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এসব তথ্য ব্যবহার করে রুশ হামলা প্রতিহত করার চেষ্টা করে ইউক্রেনের বাহিনী। তবে ট্রাম্প এ ধরনের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
তথ্যসূত্র: এনডিটিভি
এফএইচ/বিএ/পিআর