ঢাকা, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
১২ কার্তিক, ১৪৩৩

/ Breaking News

ঘোড়ায় চড়ে আসছেন দেবী দুর্গা, শুক্রবার থেকে শুরু শারদীয় দুর্গোৎসব

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৮:৫২, ১৫ অক্টোবর ২০২৬

ঘোড়ায় চড়ে আসছেন দেবী দুর্গা, শুক্রবার থেকে শুরু শারদীয় দুর্গোৎসব

বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা শুরু হচ্ছে আগামী ১৬ অক্টোবর শুক্রবার। মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে শুরু হবে পাঁচ দিনের মূল উৎসব। এর আগে গত ১০ অক্টোবর শনিবার পালিত হয়েছে মহালয়া। এবার সারা দেশে ৩৩ হাজার ৮৫১টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজার আয়োজন করা হচ্ছে। উৎসবকে ঘিরে মণ্ডপে মণ্ডপে চলছে প্রতিমা নির্মাণ, সাজসজ্জা, আলোকসজ্জা ও শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি।

পঞ্জিকা অনুযায়ী, এবার দেবী দুর্গার আগমন ঘোটক বা ঘোড়ায় এবং গমন নৌকায়—এমন হিসাব রয়েছে। তবে পঞ্জিকাভেদে দেবীর আগমনের বাহন নিয়ে ভিন্নতা রয়েছে। তাই নির্দিষ্ট পঞ্জিকার হিসাব অনুসরণ করেই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) প্রকাশিত প্রতিবেদনে ঘোড়ায় আগমন ও নৌকায় গমনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

ষষ্ঠী থেকে বিজয়া দশমী, পূজার দিনক্ষণ

পঞ্জিকা অনুযায়ী, ১৬ অক্টোবর শুক্রবার মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে দুর্গাপূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। এদিন দেবীর বোধন, আমন্ত্রণ ও অধিবাসের মধ্য দিয়ে পূজার সূচনা হবে। এরপর ১৭ ও ১৮ অক্টোবর শনি ও রবিবার পালিত হবে সপ্তমীসংক্রান্ত পূজার আচার। ১৯ অক্টোবর সোমবার মহাষ্টমী এবং ২০ অক্টোবর মঙ্গলবার মহানবমী। ২১ অক্টোবর বুধবার বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে শেষ হবে দুর্গোৎসব।

তবে ষষ্ঠী ও বোধনের আচার পালনের সময় পঞ্জিকাভেদে কিছু পার্থক্য রয়েছে। এ কারণে পূজামণ্ডপ ও মন্দিরগুলো নিজ নিজ অনুসৃত পঞ্জিকা অনুযায়ী পূজার সময় নির্ধারণ করবে।

পাঁচ দিনের ছুটি, ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর

দুর্গাপূজা উপলক্ষে সরকারি ছুটি বাড়ানো হয়েছে। সরকারের ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, ২০ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত ছুটি থাকবে। এর সঙ্গে ২৩ ও ২৪ অক্টোবর সাপ্তাহিক ছুটি যুক্ত হওয়ায় সরকারি চাকরিজীবীরা টানা পাঁচ দিনের ছুটি পাবেন। তবে ১৭ অক্টোবর শনিবার সরকারি অফিস খোলা রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

দেশজুড়ে ৩৩ হাজার ৮৫১ মণ্ডপে আয়োজন

এ বছর সারা দেশে ৩৩ হাজার ৮৫১টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। গত বছরের তুলনায় মণ্ডপের সংখ্যা বেড়েছে প্রায় দেড় হাজার। রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে জেলা-উপজেলা ও গ্রামাঞ্চলের মণ্ডপগুলোতে চলছে প্রস্তুতি। প্রতিমাশিল্পীরা শেষ করছেন প্রতিমার রং ও অলংকরণের কাজ। পাশাপাশি মণ্ডপ সাজানো, আলোকসজ্জা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং দর্শনার্থীদের ব্যবস্থাপনা নিয়েও ব্যস্ত আয়োজকেরা।

দুর্গাপূজা উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও নিরাপত্তা জোরদারের প্রস্তুতি নিয়েছে। পূজামণ্ডপ, জনসমাগমস্থল ও গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথে নজরদারি বাড়ানো হচ্ছে। উৎসব নির্বিঘ্ন রাখতে আয়োজক ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

অশুভ শক্তির বিনাশ ও শুভ শক্তির বিজয়ের বার্তা

হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, দেবী দুর্গা মহিষাসুরকে পরাজিত করে অশুভ শক্তির বিনাশ ও শুভ শক্তির বিজয় প্রতিষ্ঠা করেন। সেই পৌরাণিক কাহিনিকে কেন্দ্র করেই শারদীয় দুর্গোৎসব পালিত হয়। পূজার দিনগুলোতে ভক্তরা দেবীর আরাধনা, অঞ্জলি, প্রসাদ গ্রহণ ও বিভিন্ন ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার পাশাপাশি দুর্গাপূজা বাংলাদেশের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। মণ্ডপে মণ্ডপে মানুষের সমাগম, আলোকসজ্জা, সাংস্কৃতিক আয়োজন এবং শুভেচ্ছা বিনিময়ের মধ্য দিয়ে উৎসবটি সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের বার্তা ছড়িয়ে দেয়।

বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে এবারের শারদীয় দুর্গোৎসব। দেবীকে বিদায় জানিয়ে ভক্তরা পরস্পরের সঙ্গে বিজয়ার শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন।

এফএইচ/বিএ/পিআর

সর্বোচ্চ পঠিত - Breaking News

আপনার জন্য নির্বাচিত