একই দিনে জন্ম মাশরাফি-ইমরানের, মিল যেন অবাক করার মতো!
ক্রীড়া ডেস্ক
প্রকাশিত: ১২:৩৩, ৫ অক্টোবর ২০২৬
৫ অক্টোবর—ক্রিকেট ইতিহাসে বাংলাদেশের মাশরাফি বিন মুর্তজা ও পাকিস্তানের ইমরান খানের জন্য বিশেষ এক দিন। একই দিনে জন্ম নেওয়া এই দুই ক্রিকেট কিংবদন্তির ক্যারিয়ারে রয়েছে এমন কিছু মিল, যা সহজেই নজর কাড়ে।
একজন বাংলাদেশের ‘নড়াইল এক্সপ্রেস’, অন্যজন পাকিস্তানের ১৯৯২ বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক। দেশ আলাদা, সময়ও আলাদা; কিন্তু নেতৃত্ব, বিশ্বকাপ সাফল্য, চোটের সঙ্গে লড়াই এবং ক্রিকেটের পর রাজনীতিতে জড়ানো—বেশ কিছু জায়গায় যেন একই গল্পের পুনরাবৃত্তি।
একই জন্মদিন, দুজনই অধিনায়ক
মাশরাফি ও ইমরান দুজনই নিজ নিজ দেশের অন্যতম জনপ্রিয় অধিনায়ক। নেতৃত্বের সময়ে তারা শুধু দলকে মাঠে নেতৃত্বই দেননি, কঠিন পরিস্থিতিতে সতীর্থদের আত্মবিশ্বাসও জুগিয়েছেন।
বিশ্বকাপেও রয়েছে বড় মিল। ইমরানের নেতৃত্বে ১৯৯২ সালে প্রথমবার বিশ্বকাপ জেতে পাকিস্তান। আর মাশরাফির নেতৃত্বে ২০১৫ বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠে বাংলাদেশ। বিশ্বকাপের মঞ্চে নিজ নিজ দেশের ক্রিকেটে নতুন ইতিহাস তৈরির সঙ্গে জড়িয়ে আছে তাদের নাম।
চোটকে হারিয়ে মাঠে ফেরার লড়াই
দুজনের ক্যারিয়ারেই বড় জায়গা দখল করে আছে ইনজুরি। গুরুতর চোট বারবার তাদের ক্যারিয়ারকে থামিয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে। কিন্তু দুজনই লড়াই করে মাঠে ফিরেছেন এবং দলের নেতৃত্ব দিয়েছেন।
মাশরাফি ক্যারিয়ারে একাধিকবার বড় ধরনের চোটে পড়েও ফিরে এসেছেন। হাঁটুর চোটসহ নানা শারীরিক সমস্যার সঙ্গে লড়াই করেই দীর্ঘ সময় বাংলাদেশের ক্রিকেটকে নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি।
ইমরানও চোটকে পাশ কাটিয়ে দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার গড়েছেন। তার অলরাউন্ড পারফরম্যান্স ও নেতৃত্ব পাকিস্তানকে এনে দেয় ১৯৯২ বিশ্বকাপের ঐতিহাসিক শিরোপা।
ক্রিকেট থেকে রাজনীতির মঞ্চেও মিল
ক্রিকেটের পর দুজনের পথও অনেকটা একই দিকে গেছে—রাজনীতি। মাশরাফি ও ইমরান দুজনই ক্রিকেটের জনপ্রিয়তাকে সঙ্গে নিয়ে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন।
ইমরান খান পরবর্তীতে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হন। মাশরাফিও জাতীয় রাজনীতিতে যুক্ত হয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।
তবে রাজনৈতিক বাস্তবতায় এখন তাদের অবস্থান ভিন্ন। ইমরান খান বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। আর বাংলাদেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর মাশরাফি অনেকটাই আড়ালে।
মাশরাফির ১৯৮৩ থেকে আজ
১৯৮৩ সালের ৫ অক্টোবর নড়াইলে জন্ম মাশরাফির। ২০০১ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে আন্তর্জাতিক অভিষেকের পর বাংলাদেশের ক্রিকেটে দীর্ঘ অধ্যায় কাটিয়েছেন তিনি।
বিশেষ করে ওয়ানডেতে অধিনায়ক হিসেবে তার সময়টি বাংলাদেশের ক্রিকেটে স্মরণীয়। ২০১৫ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার পাশাপাশি তার নেতৃত্বে পাকিস্তান, ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজ জেতে বাংলাদেশ।
২০২০ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে বিদায় নেন মাশরাফি। তবে ক্রিকেট মাঠে তার লড়াই, নেতৃত্ব ও প্রত্যাবর্তনের গল্প আজও তাকে ভক্তদের কাছে আলাদা করে রেখেছে।
ইমরানের ১৯৯২ বিশ্বকাপ থেকে রাজনীতি
১৯৫২ সালের ৫ অক্টোবর জন্ম ইমরান খানের। ২১ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে তিনি খেলেছেন ৮৮ টেস্ট ও ১৭৫ ওয়ানডে।
টেস্টে ৩৬২ উইকেটের পাশাপাশি ৩ হাজার ৮০৭ রান এবং ওয়ানডেতে ১৮২ উইকেট ও ৩ হাজার ৭০৯ রান রয়েছে তার নামের পাশে।
তবে ইমরানের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে উজ্জ্বল অধ্যায় ১৯৯২ বিশ্বকাপ। তার নেতৃত্বেই পাকিস্তান প্রথমবার বিশ্বকাপের শিরোপা জেতে। ক্রিকেট ছাড়ার পর রাজনীতিতে এসে দেশটির প্রধানমন্ত্রীও হন তিনি।
একই জন্মদিনে জন্ম নেওয়া এই দুই কিংবদন্তির জীবন তাই শুধু ক্রিকেটের গল্প নয়। একই তারিখে জন্ম, অধিনায়কত্ব, বিশ্বকাপে সাফল্য, চোটের সঙ্গে লড়াই এবং ক্রিকেট থেকে রাজনীতিতে যাত্রা—মাশরাফি ও ইমরানের জীবনের এই মিলগুলোই ৫ অক্টোবরকে করে তুলেছে ক্রিকেটের জন্য আরও বিশেষ।
এফএইচ/বিএ/পিআর