দখল-চাঁদাবাজি বন্ধে ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে: টিআইবি
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০১:০৯, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে লুটপাট, ভাঙচুর ও জবরদখল, কিশোরগঞ্জে জলমহাল দখলকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ এবং কনটেন্ট ক্রিয়েটরের কার্যালয়ে হামলা-ভাঙচুরের ঘটনায় উদ্বেগ ও ক্ষোভ জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।
এসব ঘটনাকে বিচ্ছিন্ন নয়, বরং দখলবাজি, চাঁদাবাজি ও আধিপত্য বিস্তারের ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে উল্লেখ করে টিআইবি বলেছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা সরকারের জন্য ‘অশনিসংকেত’। সংগঠনটি জড়িতদের জবাবদিহির আওতায় আনা এবং দলীয় পর্যায়ে আত্মশুদ্ধিমূলক পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দেওয়া এক বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান এসব কথা বলেন।
বিবৃতিতে মিরপুরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে লুটপাট, ভাঙচুর ও জবরদখলের ঘটনাকে সরকার ও ক্ষমতাসীন দলের জন্য ‘বিব্রতকর দৃষ্টান্ত’ বলে উল্লেখ করেন তিনি। টিআইবির ভাষ্য অনুযায়ী, সংরক্ষিত আসনের একজন সংসদ সদস্যের পৃষ্ঠপোষকতায় পুলিশের উপস্থিতিতে ওই হামলার ঘটনা ঘটে।
ইফতেখারুজ্জামান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে নিম্নআয়ের মা ও শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে আসা একটি দাতব্য প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের ঘটনা ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করে। রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর সাধারণ মানুষের প্রত্যাশার প্রেক্ষাপটে এ ধরনের কর্মকাণ্ড দলের ভাবমূর্তির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক আরও বলেন, ২০২৪ সালের আগস্টের পর থেকে বিএনপির নেতাকর্মীদের একাংশের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে দখলবাজি, চাঁদাবাজি ও আধিপত্য বিস্তারের অভিযোগ বিভিন্ন গণমাধ্যম, পর্যবেক্ষক ও রাজনৈতিক মহলে আলোচিত হচ্ছে। বাস টার্মিনাল, ফুটপাত, বাজার, জলমহাল, বালুমহাল, হাটবাজার, কেবল ও ইন্টারনেট ব্যবসাসহ বিভিন্ন খাতে এসব অভিযোগ রয়েছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
কিশোরগঞ্জের জলমহাল দখলকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ এবং কনটেন্ট ক্রিয়েটরের কার্যালয়ে হামলার ঘটনাকেও একই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে উল্লেখ করেছে টিআইবি। সংগঠনটির মতে, দলীয় নেতাকর্মীদের একাংশের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিরোধ অনেক ক্ষেত্রে সহিংসতায় রূপ নিচ্ছে।
ইফতেখারুজ্জামান বলেন, দলীয় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে কোথাও কোথাও বহিষ্কারসহ সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হলেও দখল ও চাঁদাবাজি প্রতিরোধে আরও কার্যকর ও কঠোর পদক্ষেপ প্রয়োজন। রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার কারণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কার্যকর ব্যবস্থা নিতে না পারলে স্বেচ্ছাচারিতা, দুর্নীতি, অনিয়ম ও বিচারহীনতার সংস্কৃতি পুনঃপ্রতিষ্ঠার আশঙ্কা রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
টিআইবি বলেছে, প্রতিটি ঘটনার যথাযথ তদন্ত করে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনতে হবে। পাশাপাশি দখলবাজি ও চাঁদাবাজি বন্ধে রাজনৈতিক দল ও সরকারের পক্ষ থেকে কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
এফএইচ/বিএ/পিআর