রূপপুরে ফের ইউরেনিয়াম, নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা পড়ল পুরো বহর
ঈশ্বরদী (পাবনা) সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৯:৩৯, ৩ অক্টোবর ২০২৬
কঠোর নিরাপত্তাবলয়ের মধ্য দিয়ে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে পৌঁছেছে পারমাণবিক জ্বালানি ইউরেনিয়ামের নতুন চালান। শনিবার (৩ অক্টোবর) দুপুর ১২টা ২০ মিনিটের দিকে ইউরেনিয়ামবাহী বিশেষ গাড়িবহরটি পাবনার ঈশ্বরদীতে রূপপুর প্রকল্প এলাকায় প্রবেশ করে।
এর আগে শুক্রবার রাত ১১টা ৪৫ মিনিটের দিকে রাশিয়া থেকে আসা তেজস্ক্রিয় জ্বালানিবাহী বিশেষ কার্গো বিমান ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। পরে শনিবার সকাল ৭টা ১৫ মিনিটে সেনাবাহিনীর কঠোর নিরাপত্তায় সড়কপথে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করে বিশেষ বহরটি।
বঙ্গবন্ধু সেতু পেরিয়ে নাটোরের বনপাড়া ও পাবনার দাশুড়িয়া হয়ে ইউরেনিয়ামবাহী গাড়িবহরটি রূপপুরে পৌঁছায়। প্রকল্প এলাকায় পৌঁছানোর পর প্রকল্প পরিচালক ড. কবীর হোসেন এবং নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের (এনপিসিবিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. জায়েদুল হাসানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা চালানটি গ্রহণ করেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আকাশপথে কাজাখস্তান, আফগানিস্তান, পাকিস্তান ও ভারতে নির্ধারিত বিরতি দিয়ে ইউরেনিয়ামের চালানটি বাংলাদেশে আনা হয়। নির্ধারিত সময়ের পরিবর্তন করে শুক্রবার গভীর রাতে বিশেষ কার্গো বিমানটি ঢাকায় পৌঁছায়।
সড়কপথে ইউরেনিয়াম পরিবহনের সময় নিরাপত্তা নিশ্চিত ও যানজট এড়াতে মহাসড়কে যান চলাচল সাময়িকভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হয়।
পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ঈশ্বরদী সার্কেল) প্রণব কুমার জানান, ইউরেনিয়ামবাহী গাড়িবহরটি নির্বিঘ্নে রূপপুরে পৌঁছাতে জেলা পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট কঠোর নিরাপত্তাবলয় তৈরি করে। বেলা পৌনে ১২টা থেকে সোয়া ১২টা পর্যন্ত পাবনা-নাটোর-কুষ্টিয়া মহাসড়কে যান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। বহরটি প্রকল্প এলাকায় প্রবেশের পর যান চলাচল স্বাভাবিক করে দেওয়া হয়।
আসছে আরও ইউরেনিয়াম
রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রের সরবরাহ পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে মোট ৯টি কার্গো ফ্লাইটে আরও ইউরেনিয়াম অ্যাসেম্বলি বাংলাদেশে আসার কথা রয়েছে। এর মধ্যে প্রথম ইউনিটের পরবর্তী রিফুয়েলিংয়ের জন্য ৪৮টি এবং দ্বিতীয় ইউনিটের মূল জ্বালানির জন্য ১৬৩টি অ্যাসেম্বলি আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি করপোরেশন রসাটম জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী ডিসেম্বরের মধ্যেই পুরো জ্বালানি সরবরাহ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে।
কমিশনিংয়ের প্রস্তুতি
২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতার রূপপুর প্রকল্পের প্রথম ইউনিটে এরই মধ্যে জ্বালানি লোডিং সম্পন্ন হয়েছে। তবে কমিশনিংয়ের কিছু কারিগরি জটিলতার কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর কার্যক্রমে বিলম্ব হয়েছে।
বিশেষ করে প্রেসার অপারেটেড রিলিফ ভালভ (পিওআরভি/পিওএসভি) সংক্রান্ত কারিগরি সমস্যার কারণে কার্যক্রমে জটিলতা দেখা দিয়েছিল। সম্প্রতি ১৬ মেগাপ্যাসকেল উচ্চচাপে সেফটি ভালভের সফল পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছে এনপিসিবিএল।
জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের আগে আরও কয়েকটি বাধ্যতামূলক ও গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা সম্পন্ন করার প্রস্তুতি চলছে।
বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যে সরকার-টু-সরকার (জিটুজি) চুক্তির আওতায় দেশের সবচেয়ে বড় এই পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। প্রকল্পটির প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছিল প্রায় ১ লাখ ১৩ হাজার ১০০ কোটি টাকা। সংশোধিত প্রাক্কলনে তা বেড়ে প্রায় ১ লাখ ৩৮ হাজার ৭০০ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।
এফএইচ/বিএ/পিআর