সেনা পাহারায় আল-আকসায় ১১৪৩ ইসরায়েলি, ধর্মীয় আচার ঘিরে নতুন উত্তেজনা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০২:১৯, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমের পবিত্র আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে রোববার একদিনে ১ হাজার ১৪৩ জন ইসরায়েলি প্রবেশ করেছেন বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিনি জেরুজালেম গভর্নরেট। ইসরায়েলি পুলিশের কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে তারা দফায় দফায় মসজিদ প্রাঙ্গণে প্রবেশ করেন।
ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, ইহুদিদের সুকোত উৎসবের দ্বিতীয় দিনে এসব প্রবেশের ঘটনা ঘটে। প্রবেশকারীদের কয়েকজন সেখানে তালমুদিক ধর্মীয় আচার, প্রার্থনা, গান ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা পালন করেন। এ সময় কিছু ব্যক্তি উদ্ভিদজাত নৈবেদ্যও প্রাঙ্গণে নিয়ে যান বলে জেরুজালেম গভর্নরেট জানিয়েছে।
জেরুজালেম গভর্নরেটের বিবৃতিতে বলা হয়, প্রবেশকারীরা বাব আল-মাগারিবাহ বা মরক্কান গেট দিয়ে কয়েক দফায় আল-আকসা প্রাঙ্গণে প্রবেশ করেন। পরে তারা বাব আল-কাতানিনের কাছে ধর্মীয় আচার পালন, গান ও নৃত্যের আয়োজন এবং মাটিতে শুয়ে প্রার্থনার মতো কর্মকাণ্ডে অংশ নেন বলে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের দাবি।
ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ এসব কর্মকাণ্ডকে আল-আকসা মসজিদের ঐতিহাসিক ও আইনগতভাবে প্রতিষ্ঠিত ‘স্ট্যাটাস কুও’ বা প্রচলিত ব্যবস্থার লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করেছে। একই সঙ্গে সেখানে ইহুদি ধর্মীয় আচার পালনের প্রবণতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে তারা।
জেরুজালেমের পুরোনো শহরে অবস্থিত আল-আকসা মসজিদ মুসলিমদের অন্যতম পবিত্র স্থান। একই স্থানের সঙ্গে ইহুদি ধর্মীয় ইতিহাসও গভীরভাবে যুক্ত। ইহুদিদের কাছে এলাকাটি টেম্পল মাউন্ট নামে পরিচিত।
আল-আকসা প্রাঙ্গণে মুসলিমদের নামাজ ও ইবাদতের পাশাপাশি ইহুদি দর্শনার্থীদের নির্দিষ্ট নিয়মে প্রবেশের দীর্ঘদিনের ব্যবস্থা রয়েছে। তবে সেখানে ইহুদি ধর্মীয় প্রার্থনা ও আচার পালনের বিষয়টি ঐতিহাসিকভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং এ নিয়ে ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনি পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ রয়েছে।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইহুদি ধর্মীয় উৎসবকে কেন্দ্র করে আল-আকসায় ইসরায়েলিদের প্রবেশের ঘটনা একাধিকবার ঘটেছে। ১৩ সেপ্টেম্বর প্রায় ৫৯৩ জন ইসরায়েলি সেখানে প্রবেশ করেছিলেন বলে জেরুজালেম গভর্নরেট জানিয়েছিল। এর আগে আগস্টে এক মাসে ৫ হাজার ২০৯ জন ইসরায়েলির প্রবেশের তথ্যও প্রকাশ করেছিল তারা।
এর মধ্যেই ২০ সেপ্টেম্বর প্রায় ১০০ জন ইসরায়েলি আল-আকসা প্রাঙ্গণে প্রবেশ করে ধর্মীয় আচার পালন করেন বলে জানিয়েছিল জেরুজালেম গভর্নরেট।
ফলে রোববারের ১ হাজার ১৪৩ জনের প্রবেশের ঘটনা আল-আকসা প্রাঙ্গণের ধর্মীয় কর্মকাণ্ড ও ঐতিহাসিক ব্যবস্থাকে ঘিরে চলমান বিরোধকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, এ ধরনের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে আল-আকসার প্রচলিত ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনার চেষ্টা চলছে।
এফএইচ/বিএ/পিআর