স্বপ্ন পূরণ হয়েছিল, মেসির সঙ্গে বিশ্বকাপও জিতেছিলেন—বিদায়ের দিনে ভেঙে পড়লেন ফার্নান্দেজ
ক্রীড়া ডেস্ক
প্রকাশিত: ১১:৫৮, ৭ অক্টোবর ২০২৬
একজন ছিলেন ফুটবলের মহাতারকা, অন্যজন তখন সবে ১৫ বছরের কিশোর। দূর থেকে প্রিয় তারকাকে দেখতেন আর মনে মনে হিসাব কষতেন—কখনো কি মেসির সঙ্গে আর্জেন্টিনার জার্সিতে মাঠে নামতে পারবেন?
সেই কিশোরের স্বপ্ন একদিন সত্যি হয়েছিল। শুধু মেসির সঙ্গে খেলাই নয়, তাঁর পাশে দাঁড়িয়ে বিশ্বকাপও জিতেছেন এনজো ফার্নান্দেজ। কিন্তু সেই স্বপ্নের নায়ক যখন জাতীয় দলের জার্সি তুলে রাখলেন, তখন আবেগ ধরে রাখতে পারলেন না ফার্নান্দেজ। মেসির বিদায়ী বক্তব্যের সময় অঝোরে কেঁদেছেন আর্জেন্টাইন এই মিডফিল্ডার।
বেনিনের বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয় দিয়ে আর্জেন্টিনার জার্সিতে শেষ ম্যাচ খেলেন মেসি। মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামে ম্যাচ শেষে সমর্থকদের উদ্দেশে বিদায়ী বক্তব্য দেন কিংবদন্তি এই ফুটবলার। মেসি কথা বলার সময় ক্যামেরায় ধরা পড়ে ফার্নান্দেজের অশ্রুসিক্ত মুখ। মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে সেই দৃশ্য।
পরে স্টেডিয়াম ছাড়ার সময় ফার্নান্দেজ বলেন, দিনটি ছিল ভীষণ আবেগের। তাঁর ভাষায়, অনেক রকম অনুভূতি একসঙ্গে কাজ করছিল। মেসি রাতটি উপভোগ করেছেন—এমনটাই আশা তাঁর। তবে প্রিয় অধিনায়ককে তাঁরা খুব মিস করবেন বলেও জানান ফার্নান্দেজ।
তবে ফার্নান্দেজের এই কান্নার পেছনে রয়েছে এক দশকের পুরোনো গল্প।
২০১৬ সালে মেসি যখন প্রথমবার আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দেন, তখন মাত্র ১৫ বছরের ফার্নান্দেজ। আর্জেন্টিনার বয়সভিত্তিক ফুটবলে থাকা সেই কিশোর তখন মেসিকে উদ্দেশ করে আবেগঘন একটি চিঠি লিখেছিলেন।
চিঠিতে তিনি জানিয়েছিলেন, মেসির বয়স আর নিজের বয়স মিলিয়ে হিসাব করতেন—কত বছর পর তিনি প্রথম বিভাগে খেলতে পারবেন আর ততদিনে মেসি জাতীয় দলে থাকবেন কি না। স্বপ্ন ছিল খুব ছোট—অন্তত একবার হলেও আর্জেন্টিনার জার্সিতে মেসির সঙ্গে মাঠ ভাগ করে নেওয়া।
সময় গড়াল। মেসিও জাতীয় দলে ফিরে এলেন। আর সেই ১৫ বছরের কিশোরও একদিন পৌঁছে গেলেন আর্জেন্টিনা জাতীয় দলে।
এরপর যে গল্প লেখা হলো, সেটি যেন সিনেমার চিত্রনাট্য। মেসির সঙ্গে একই ড্রেসিংরুম, একই মাঠ, একই জার্সি—সবই হলো। শুধু তাই নয়, ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে মেসির সঙ্গেই বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হলেন ফার্নান্দেজ।
ফার্নান্দেজের কাছে মেসি তাই শুধু অধিনায়ক নন, শৈশবের সেই স্বপ্নের মানুষও। মেসির কাছ থেকে পাওয়া ভালোবাসা, সহযোগিতা ও পরামর্শের কথাও তিনি বারবার স্মরণ করেছেন।
মেসির বিদায়ের পর নিজের আবেগঘন বার্তায় ফার্নান্দেজ সেই পুরোনো দিনের কথাই যেন আবার মনে করিয়ে দেন। যে কিশোর একসময় মেসির সঙ্গে খেলার সম্ভাবনা নিয়ে হিসাব কষত, সেই কিশোরই শেষ পর্যন্ত তাঁর সঙ্গে বিশ্বকাপ জিতেছে।
কিন্তু এখন সামনে কঠিন বাস্তবতা—পরের জাতীয় দলের ক্যাম্পে মেসিকে দেখা যাবে না, মাঠে ১০ নম্বর জার্সিটাও আর থাকবে না।
ফার্নান্দেজের ভাষায়, এত বছর ধরে মেসিকে সেখানে দেখে অভ্যস্ত হওয়ার পর তাঁকে ছাড়া আর্জেন্টিনাকে কল্পনা করাই কঠিন।
২০১৬-এর সেই ১৫ বছরের কিশোর তাঁর স্বপ্ন পূরণ করেছিলেন। মেসির সঙ্গে খেলেছেন, বিশ্বকাপ জিতেছেন। কিন্তু বিদায়ের দিন সেই কিশোরের চোখেই আবার ফিরে এল পুরোনো আবেগ—এবার আর প্রিয় নায়ককে আটকে রাখার কোনো সুযোগ নেই।
এফএইচ/বিএ/পিআর