ঢাকা, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
১২ কার্তিক, ১৪৩৩

/ Breaking News

আসামে উচ্ছেদের ঝড়, ঘরছাড়া হাজারো পরিবার—মসজিদ ভাঙার অভিযোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১:০৭, ২১ অক্টোবর ২০২৬

আসামে উচ্ছেদের ঝড়, ঘরছাড়া হাজারো পরিবার—মসজিদ ভাঙার অভিযোগ
আসামে সরকারি বনভূমি দখলমুক্ত করতে ব্যাপক উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছে রাজ্য সরকার। এতে বিপুলসংখ্যক পরিবার বাস্তুচ্যুত হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাঙালি মুসলিম বলে দাবি করা হচ্ছে। অভিযানে একাধিক মসজিদ ভেঙে ফেলার অভিযোগও তুলেছে সংখ্যালঘু সংগঠনগুলো।

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় আসাম রাজ্যের গোলাঘাট, হোজাই ও নগাঁও জেলায় সম্প্রতি এই উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। রাজ্য প্রশাসনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এক সপ্তাহের মধ্যে তিন জেলায় ৬৩৮ হেক্টরের বেশি বনভূমি দখলমুক্ত করা হয়েছে। তবে উচ্ছেদ হওয়া পরিবারের সংখ্যা নিয়ে সরকারি হিসাব ও বিভিন্ন সংগঠনের দাবিতে পার্থক্য রয়েছে।

গত শনি ও রোববার তিন জেলায় অভিযান পরিচালনা করে বন বিভাগ। এর মধ্যে নগাঁও জেলার লুতুমাই সংরক্ষিত বনাঞ্চলে সবচেয়ে বড় অভিযান চালানো হয়। সেখানে এক দিনেই প্রায় ৩১৪ হেক্টর জমি দখলমুক্ত করা হয়েছে। এ অভিযানে প্রায় ৫৫০টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে সরকারি হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে। তিন জেলা মিলিয়ে উচ্ছেদ হওয়া পরিবারের সংখ্যা প্রায় এক হাজারের কাছাকাছি।

রাজ্য সরকারের দাবি, সংরক্ষিত বনভূমি রক্ষা এবং অবৈধভাবে গড়ে ওঠা স্থাপনা সরাতেই এ অভিযান চালানো হয়েছে। বন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গত আগস্টে মাইকিং করে বাসিন্দাদের এলাকা ছেড়ে যাওয়ার অনুরোধ করা হয়েছিল। তাঁদের দাবি, অভিযানের আগে প্রায় ৯০ শতাংশ কথিত দখলদার স্বেচ্ছায় জায়গা ছেড়ে চলে যান। পুরো প্রক্রিয়া আদালতের নির্দেশনা অনুসরণ করেই সম্পন্ন হয়েছে বলেও দাবি প্রশাসনের।

তবে উচ্ছেদ অভিযান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে সংখ্যালঘু সংগঠনগুলো। অল আসাম মাইনরিটিজ স্টুডেন্টস ইউনিয়নের অভিযোগ, গত রোববারের অভিযানে এক হাজারের বেশি ঘরবাড়ি উচ্ছেদের পাশাপাশি একাধিক মসজিদ ভেঙে ফেলা হয়েছে। সংগঠনটির দাবি, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর অধিকাংশই বাঙালি মুসলিম।

সংগঠনটির সভাপতি জানিয়েছেন, লুতুমাই বনাঞ্চলে বসবাসকারী পরিবারগুলোর একটি বড় অংশকে ১৯৭৩ সালে সরকার সাময়িকভাবে সেখানে পুনর্বাসিত করেছিল। তাঁদের অভিযোগ, উচ্ছেদ অভিযানে একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের মানুষকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। অন্যদিকে, অন্য ধর্মাবলম্বী বাসিন্দাদের ক্ষেত্রে এখনো উচ্ছেদের নোটিশ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়নি বলে দাবি করেছে সংগঠনটি।

আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা এই অভিযানকে রাজ্যের উন্নয়নে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ হিসেবে তুলে ধরেছেন। তবে উচ্ছেদের ক্ষেত্রে বৈষম্যের অভিযোগ ওঠায় বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

সরকারি হিসাবে উচ্ছেদ হওয়া পরিবারের সংখ্যা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন সংগঠনের দেওয়া তথ্যের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। মসজিদ ভাঙার অভিযোগও স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়ার তথ্য প্রতিবেদনে নেই। ফলে উচ্ছেদের প্রকৃত পরিসর, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সংখ্যা এবং ধর্মীয় স্থাপনা ভাঙার অভিযোগের বিষয়ে আরও যাচাই প্রয়োজন।

এফএইচ/বিএ/পিআর

সর্বোচ্চ পঠিত - Breaking News

আপনার জন্য নির্বাচিত