ঢাকা, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
১২ কার্তিক, ১৪৩৩

/ Breaking News

একটি আসনের জন্য এত নাম! মিষ্টির জায়গা নিতে বিএনপিতে শুরু ‘মিষ্টি লড়াই

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১১:২২, ৬ অক্টোবর ২০২৬

একটি আসনের জন্য এত নাম! মিষ্টির জায়গা নিতে বিএনপিতে শুরু ‘মিষ্টি লড়াই

একটি আসন, প্রার্থী একাধিক—বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসন-২৩ ঘিরে জমে উঠেছে মনোনয়ন-সমীকরণ। ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির পদত্যাগে আসনটি শূন্য হওয়ার পর থেকেই কে পাচ্ছেন এই আসন—তা নিয়ে দলের ভেতরে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। প্রভাবশালী নেতাদের পরিবারের সদস্য, মহিলা দল ও ছাত্রদলের সক্রিয় নেত্রী, রাজনৈতিক পরিবারের উত্তরসূরি থেকে শুরু করে গণমাধ্যমের পরিচিত মুখ—সম্ভাব্য তালিকায় উঠে এসেছে একাধিক নাম। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি।

ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির ছেড়ে যাওয়া সংরক্ষিত নারী আসনটি এখন বিএনপির রাজনীতিতে রীতিমতো ‘হট সিট’। একদিকে দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের পরিবারের সদস্যদের নাম, অন্যদিকে মাঠের রাজনীতিতে সক্রিয় নারী নেত্রীদের আগ্রহ—সব মিলিয়ে মনোনয়ন ঘিরে তৈরি হয়েছে নানা সমীকরণ।

দলীয় সূত্র ও রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচিত সম্ভাব্য নামগুলোর মধ্যে রয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যদের পরিবারের সদস্য, জাতীয়তাবাদী মহিলা দল ও ছাত্রদলের নেত্রী, রাজনৈতিক পরিবারের উত্তরসূরি এবং পেশাজীবী অঙ্গনের পরিচিত মুখ। ফলে শেষ পর্যন্ত কার হাতে উঠবে শূন্য আসনের টিকিট, তা নিয়ে কৌতূহল বাড়ছে।

আলোচনার শীর্ষে নওশিন, আফরোজা

সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় আলোচনায় রয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আব্দুল মঈন খানের মেয়ে নওশিন খান। তিনি বিশ্বব্যাংকে কর্মরত।

এ ছাড়া বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের স্ত্রী এবং জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাসের নামও জোরেশোরে আলোচিত হচ্ছে।

পাশাপাশি বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হারুনুর রশিদের স্ত্রী এবং দলের সহ-মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক সৈয়দা আশরাফী পাপিয়ার নামও সম্ভাব্য তালিকায় রয়েছে।

গোপালগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. কে এম বাবর আলীর স্ত্রী ডা. রাবেয়া আক্তারের নামও মনোনয়ন-দৌড়ে আলোচনায় এসেছে।

‘পরিবারতন্ত্র’ নয়, মাঠের নেত্রীরাও প্রস্তুত

সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়ন ঘিরে শুধু প্রভাবশালী পরিবারের সদস্যদের নামই নয়, দলের সাংগঠনিক রাজনীতিতে সক্রিয় নারী নেত্রীদের নামও সামনে এসেছে।

আলোচনায় রয়েছেন ঢাকা মহানগর উত্তর মহিলা দলের সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট রুনা লায়লা, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি রেহানা আক্তার শিরিন এবং সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মাকসুদা মনি।

অর্থাৎ, এবার মনোনয়ন-সমীকরণে দলের মাঠপর্যায়ে সক্রিয় নারী নেত্রীদেরও জায়গা করে নেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে।

সিগমা-জয়া কাজীও আলোচনায়

রাজনৈতিক পরিবারের উত্তরসূরিদের মধ্যেও কয়েকজনের নাম ঘুরছে। কিশোরগঞ্জ-৪ (ইটনা–মিঠামইন–অষ্টগ্রাম) আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করা কাজী রেহা কবির সিগমার নাম রয়েছে সম্ভাব্য তালিকায়।

তার ঘনিষ্ঠ সূত্রের দাবি, দলীয়ভাবে আবেদন গ্রহণের সুযোগ এলে তিনি মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় যুক্ত হওয়ার প্রস্তুতি রাখছেন।

অন্যদিকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী কাজী জাফরের মেয়ে জয়া কাজীর নামও আলোচনায় রয়েছে। দলীয় সূত্রের দাবি, এর আগেও বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন চেয়ে আবেদন করেছিলেন তিনি।

এবার কি চমক দেখাবেন কাজী জেসিন?

সম্ভাব্য তালিকায় সবচেয়ে আলোচিত নামগুলোর একটি গণমাধ্যমের পরিচিত মুখ কাজী জেসিন। সাংবাদিক ও উপস্থাপক কাজী জেসিন বর্তমানে বাংলাদেশ টেলিভিশনের মহাপরিচালক।

চলতি বছরের আগস্টে তাকে এক বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক গ্রেড-১ পদে বিটিভির মহাপরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রের মতে, সংরক্ষিত নারী আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবেও তার নাম বিবেচনায় রয়েছে।

তার নাম আলোচনায় আসায় মনোনয়ন-সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে।

এক আসন, এত নাম—কেন এত আগ্রহ?

মিষ্টির পদত্যাগের পর সংরক্ষিত নারী আসন-২৩ এখন বিএনপির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আলোচনায় থাকা নামগুলোকে মোটাদাগে তিন ভাগে দেখা যাচ্ছে—শীর্ষ নেতাদের পরিবারের সদস্য, সাংগঠনিক রাজনীতিতে সক্রিয় নারী নেত্রী এবং রাজনৈতিক-পেশাজীবী অঙ্গনের পরিচিত মুখ।

ফলে প্রশ্ন উঠছে—দল এবার কোন সমীকরণকে গুরুত্ব দেবে? সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা, রাজনৈতিক পরিবারের প্রভাব, নাকি পরিচিত মুখ—কোন ফর্মুলায় নির্ধারিত হবে মিষ্টির উত্তরসূরি?

তবে এসব নাম এখনো আলোচনার পর্যায়েই রয়েছে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমান জানিয়েছেন, শূন্য হওয়া সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়ন নিয়ে এখনো দলীয়ভাবে আলোচনা হয়নি।

যেভাবে শূন্য হলো মিষ্টির আসন

রাজধানীর মিরপুরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ ওঠার পর তাকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে মিষ্টি ওই ঘটনায় নিজের সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

এরপর ১ অক্টোবর জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন তিনি। স্পিকার জানান, সংবিধানের বিধান অনুযায়ী পদত্যাগপত্র পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তা কার্যকর হয়েছে। পরে সংসদ সচিবালয় সংরক্ষিত নারী আসন-২৩ শূন্য ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করে।

এখন চোখ বিএনপির চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে। একটি আসনের জন্য যখন এত নামের ছড়াছড়ি, তখন শেষ পর্যন্ত কার ভাগ্যে জুটবে মিষ্টির ছেড়ে যাওয়া আসন—নওশিন, আফরোজা, রুনা, সিগমা, জয়া, জেসিন নাকি অন্য কোনো চমক? উত্তর মিলবে দলীয় সিদ্ধান্তেই।

এফএইচ/বিএ/পিআর

সর্বোচ্চ পঠিত - Breaking News

আপনার জন্য নির্বাচিত