কার্যকরের এক দিন আগে নাটকীয় সিদ্ধান্ত ট্রাম্পের, রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা-শুল্ক স্থগিত
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১২:৩০, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
রাশিয়ার ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা ও শুল্ক আরোপের আইন কার্যকর হওয়ার এক দিন আগেই তা স্থগিত করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত মাসে রাশিয়ার ওপর চাপ বাড়াতে এ আইনে সই করলেও শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) হোয়াইট হাউস থেকে প্রকাশিত এক নির্বাহী আদেশে স্থগিতাদেশের ঘোষণা দেন তিনি।
নির্বাহী আদেশে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বার্থ বিবেচনায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পরবর্তী সময়ে তিনি বা তাঁর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা নতুন সিদ্ধান্ত না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিতাদেশ কার্যকর থাকবে।
ইউক্রেনের সঙ্গে যুদ্ধে রাশিয়ার ওপর চাপ বাড়ানোর লক্ষ্যেই আইনটি প্রণয়ন করা হয়েছিল। এতে রাশিয়ার পণ্যে শুল্ক আরোপের পাশাপাশি রুশ তেল ও গ্যাস কেনে—এমন দেশগুলোর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রাখা হয়।
আইন অনুযায়ী, রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল বা গ্যাসের সবচেয়ে বড় পাঁচ আমদানিকারক দেশের পণ্যে যুক্তরাষ্ট্র সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করতে পারত। এ ছাড়া আইন কার্যকরের ৩০ দিন পরও যেসব দেশ জেনেশুনে রাশিয়ার তেল বা গ্যাস কিনত, তাদের পণ্যের ওপরও শুল্ক আরোপের সুযোগ ছিল। রাশিয়াকে নিষেধাজ্ঞা এড়াতে সহায়তাকারী শীর্ষ পাঁচ দেশের ক্ষেত্রেও একই ব্যবস্থা নেওয়া যেত।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে রাশিয়ার বিষয়ে ট্রাম্পের অবস্থান তুলনামূলক নমনীয় বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকেরা। অন্যদিকে, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সমালোচনা করেছেন তিনি। এমনকি ইউক্রেনে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের সময় এসেছে বলেও মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচনের আর কয়েক সপ্তাহ বাকি। কংগ্রেসের উভয় কক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে লড়ছে ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি। বিশ্লেষকদের মতে, নতুন শুল্ক ও নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা ছিল। ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আগ্রাসনের পর জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় এমনিতেই চাপের মুখে রয়েছেন মার্কিন ভোক্তারা।
আইনটির অন্যতম প্রধান পৃষ্ঠপোষক ছিলেন দক্ষিণ ক্যারোলাইনার প্রয়াত রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম।
ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন ভার্জিনিয়ার ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস সদস্য ডন বেয়ার। তাঁর অভিযোগ, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের কাছে নতি স্বীকার করছেন ট্রাম্প। এক বিবৃতিতে বেয়ার বলেন, এ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ইউক্রেনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের অংশীদারত্বের প্রতি আঘাত করা হয়েছে এবং রাশিয়ার আগ্রাসনের শাস্তি দিতে কংগ্রেসের নেওয়া উদ্যোগ উপেক্ষা করা হয়েছে।
এর আগে রাশিয়ার সঙ্গে ডিজেল সরবরাহসংক্রান্ত একটি চুক্তি নিয়েও ট্রাম্প সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন। ওই চুক্তিতে বিশ্ববাজারে ডিজেল সরবরাহের বিনিময়ে রাশিয়ার রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার বিষয়ে সম্মতি দেওয়া হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। জ্বালানির দাম কমানো ছিল এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।
রাশিয়ার ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা ও শুল্ক স্থগিতের সিদ্ধান্তে ওয়াশিংটনের রাশিয়া-নীতি এবং ইউক্রেন যুদ্ধ ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
এফএইচ/বিএ/পিআর