গঙ্গা চুক্তি নিয়ে নাহিদের সাফ কথা—নবায়ন নয়, চাই নতুন চুক্তি
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: ১২:২৮, ৮ অক্টোবর ২০২৬
গঙ্গা চুক্তি শুধু নবায়ন নয়, বাংলাদেশের স্বার্থ নিশ্চিত করে নতুন চুক্তি করতে হবে—এমন দাবি জানিয়েছেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। একই সঙ্গে তিস্তাসহ অভিন্ন সব নদীতে বাংলাদেশের ন্যায্য হিস্যা ও সমান অংশীদারত্ব নিশ্চিত করার দাবি তুলেছেন তিনি।
বুধবার (৭ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর পলাশী চত্বরে আগ্রাসনবিরোধী আট স্তম্ভের পাদদেশে শহীদ আবরার ফাহাদের সপ্তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণসভায় এসব কথা বলেন তিনি।
পুরোনো চুক্তি নয়, নতুন শর্তে নতুন চুক্তি
নাহিদ ইসলাম বলেন, ১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত গঙ্গা পানিবণ্টন চুক্তির ৩০ বছরের মেয়াদ চলতি বছরের ডিসেম্বরে শেষ হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে শুধু চুক্তির মেয়াদ বাড়ানো যথেষ্ট নয়; বাংলাদেশের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে নতুন করে চুক্তি করতে হবে।
তিনি বলেন, বিষয়টি কেবল পানিবণ্টনে সীমাবদ্ধ নয়। অভিন্ন নদীগুলোর যৌথ ব্যবস্থাপনায়ও বাংলাদেশের সমান অংশীদারত্ব থাকতে হবে।
চুক্তিতে ‘গ্যারান্টি ক্লজ’ চান নাহিদ
পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করতে নতুন চুক্তিতে গ্যারান্টি ক্লজ রাখার দাবি জানিয়েছেন এনসিপির আহ্বায়ক।
নাহিদ বলেন, নদীর নাব্যতা বজায় রাখতে ন্যূনতম পানিপ্রবাহ সব সময় নিশ্চিত করতে হবে। শুষ্ক মৌসুমে পানির ঘাটতি দেখা দিলে সেই ঘাটতির দায়ও দুই দেশকে সমানভাবে বহন করতে হবে।
তাঁর ভাষায়, এই গ্যারান্টি ক্লজসহ নতুন চুক্তি করতে হবে।
‘শুধু গঙ্গা নয়, তিস্তাসহ সব নদীতে ন্যায্য হিস্যা’
ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের প্রসঙ্গ টেনে নাহিদ ইসলাম বলেন, প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে শত্রুতা চায় না এনসিপি। তবে সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের স্বার্থ ও সমতার বিষয়টি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, গঙ্গার পাশাপাশি তিস্তাসহ অভিন্ন নদীগুলোর পানিবণ্টনেও ন্যায্যতা নিশ্চিত করতে হবে।
নাহিদের দাবি, আন্তর্জাতিক নদী আইন অনুযায়ী এসব নদীর পানিতে বাংলাদেশের ন্যায্য হিস্যা পাওয়ার কথা থাকলেও গত পাঁচ দশকে সেই হিস্যা যথাযথভাবে পাওয়া যায়নি।
ফারাক্কা নিয়ে ক্ষোভ
ফারাক্কা বাঁধের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন এনসিপির আহ্বায়ক। তাঁর অভিযোগ, ভারত ফারাক্কা ব্যারাজের মাধ্যমে গঙ্গার পানিপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করছে। এর প্রভাব বাংলাদেশে পড়ছে এবং দীর্ঘদিন ধরেই পানির ন্যায্য হিস্যার বিষয়টি অমীমাংসিত রয়েছে।
আন্তর্জাতিক চুক্তি সংসদে আলোচনার দাবি
গঙ্গা চুক্তিসহ বাংলাদেশের সব আন্তর্জাতিক চুক্তি সংসদে আলোচনার মাধ্যমে জনগণের সামনে আনার দাবি জানিয়েছেন নাহিদ ইসলাম।
তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক কোনো চুক্তির ক্ষেত্রে জনগণের স্বার্থ সুরক্ষার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব পেতে হবে। সংসদে আলোচনা করেই এসব চুক্তির পক্ষে বা বিপক্ষে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।
সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, শুধু বিভিন্ন দেশে সফর কিংবা বৈঠক করলেই হবে না। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশ কী অর্জন করেছে, সেটিও জনগণের সামনে স্পষ্ট করতে হবে।
বিশেষ করে গঙ্গা পানিবণ্টন চুক্তির ক্ষেত্রে সরকার বাংলাদেশের স্বার্থ কতটা আদায় করতে পারে, তা তাঁরা দেখতে চান বলে জানান নাহিদ।
আবরারের ‘ন্যায্যতার’ প্রশ্ন সামনে আনলেন নাহিদ
শহীদ আবরার ফাহাদের প্রসঙ্গ টেনে নাহিদ ইসলাম বলেন, বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব, জাতীয় স্বার্থ এবং ভারতের সঙ্গে অসম সম্পর্কের বিরোধিতা ছিল আবরারের লেখালেখির অন্যতম বিষয়।
তাই আবরার হত্যাকাণ্ডকে শুধু একটি হত্যাকাণ্ড হিসেবে দেখার সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি। এর সঙ্গে বাংলাদেশের গণতন্ত্র, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নও জড়িত বলে দাবি করেন এনসিপির আহ্বায়ক।
আবরার হত্যা মামলার রায় দ্রুত কার্যকরের দাবি
স্মরণসভা থেকে আবরার ফাহাদ হত্যা মামলায় দেওয়া মৃত্যুদণ্ড দ্রুত কার্যকর করার দাবিও জানান নাহিদ ইসলাম।
তিনি বলেন, খুনিদের যে ফাঁসির দণ্ড হয়েছে, সেই রায় অবিলম্বে কার্যকর দেখতে চান তাঁরা।
স্মরণসভায় আবরার ফাহাদের বাবা মো. বরকতউল্লাহ, কবি ও চিন্তক ফরহাদ মজহার, মানবাধিকারকর্মী আদিলুর রহমান খানসহ এনসিপির নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে আবরার ফাহাদ স্মৃতি সংসদ।
এফএইচ/বিএ/পিআর