১৮ বছরে বেরোবি, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে নেই প্রত্যাশিত উৎসবের আমেজ
বেরোবি সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ১১:৪৭, ১২ অক্টোবর ২০২৬
সীমিত সাজসজ্জা, সংক্ষিপ্ত র্যালি, আবাসিক হলে বিশেষ খাবারের ব্যবস্থা না থাকা—এমন নানা অভিযোগে সাদামাটাভাবে উদ্যাপিত হচ্ছে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) ১৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। বাইরের অতিথিদের আমন্ত্রণ না জানানো, বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের অনুষ্ঠানে উপাচার্যের অনুপস্থিতি এবং আলোচনা সভায় তিনটি অনুষদের ডিনকে আলোচক হিসেবে না রাখার বিষয়টিও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। সামগ্রিক আয়োজন নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা।
সোমবার (১২ অক্টোবর) সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি শুরু হয়। এরপর একটি সংক্ষিপ্ত র্যালি বের করা হয়। কেক কাটার মধ্য দিয়ে শেষ হয় সকালের কর্মসূচি। তবে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে ক্যাম্পাসে প্রত্যাশিত উৎসবের আমেজ দেখা যায়নি।
শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষে ক্যাম্পাসের কয়েকটি সড়ক ও প্রশাসনিক ভবনে সীমিত পরিসরে আলোকসজ্জা করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র নারী হলের সড়কসহ ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে তেমন সাজসজ্জা চোখে পড়েনি। আবাসিক হলগুলোতে বিশেষ খাবারের ব্যবস্থা এবং শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে জাঁকজমকপূর্ণ সাংস্কৃতিক আয়োজন না থাকায় দিনটির আনন্দ অনেকটাই ম্লান হয়েছে বলে মনে করছেন তাঁরা।
এদিকে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন না বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলী। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জার্মান উন্নয়ন সংস্থা জিআইজেডের আমন্ত্রণে তিনি বর্তমানে ভিয়েতনামে অবস্থান করছেন।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় বাইরের কোনো বিশেষ অতিথিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। এ বিষয়ে উদ্যাপন কমিটির আহ্বায়ক ও রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মো. ফেরদৌস রহমান বলেন, এ মাসে বিশ্ববিদ্যালয়ে আরও অনেকগুলো অনুষ্ঠান হয়েছে। ফলে বাইরে থেকে তেমন কোনো অতিথিকে আমন্ত্রণ জানানোর সুযোগ হয়নি।
আলোচনা সভার আলোচক নির্বাচন নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষার্থীরা। সভায় মুখ্য আলোচক হিসেবে রয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স সেলের (আইকিউএসি) পরিচালক ড. মো. তাইজুল ইসলাম। আলোচক হিসেবে রয়েছেন সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. নজরুল ইসলাম, ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ডিন অধ্যাপক নুর আলম সিদ্দিক এবং জীব ও ভূবিজ্ঞান অনুষদের ডিন ড. মোছা. সিফাত রুমানা। তবে কলা, বিজ্ঞান এবং প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের ডিনদের আলোচক হিসেবে রাখা হয়নি।
ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষার্থী হুমায়রা দীপা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষে এবারের আয়োজন একেবারেই সাদামাটা। ক্যাম্পাসের পরিবেশ দেখে বোঝার উপায় নেই যে আজ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। এমন একটি বিশেষ দিনে সবার মধ্যে যে উৎসাহ-উদ্দীপনা ও উৎসবের আমেজ থাকার কথা, তা চোখে পড়ছে না।
তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় দিবস আরও জাঁকজমকপূর্ণ ও বর্ণিল আয়োজনে উদ্যাপন করা উচিত। শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, আনন্দ আয়োজন ও উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি করা প্রয়োজন। তাঁর মতে, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়; এটি শিক্ষার্থীদের আবেগ, ভালোবাসা ও গর্বের জায়গা।
আরেক শিক্ষার্থী সানোয়ার অভি বলেন, “দিন দিন মানুষের উন্নতি হয়, কিন্তু আমাদের হয় অবনতি। আগের অনুষ্ঠানগুলো জাঁকজমকপূর্ণ করা হলেও এবার খুবই সাদামাটাভাবে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্যাপন করা হয়েছে।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মুখতার ইলাহী হলের আবাসিক ও মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থী শাহরিয়ার আমিন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষ দিবসগুলোতে আবাসিক হলে বিশেষ খাবারের আয়োজন দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য। এ ধরনের দিনে উন্নত মানের খাবার শিক্ষার্থীদের মধ্যে উৎসবের আমেজ বাড়ায়। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় দিবসেও হলে বিশেষ খাবারের ব্যবস্থা না থাকায় তাঁরা হতাশ।
তবে আয়োজকেরা বলছেন, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি সারাদিনব্যাপী। উদ্যাপন কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো. ফেরদৌস রহমান বলেন, সকালের পর্ব শেষ হয়েছে। বিকেলে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হবে। সন্ধ্যায় আতশবাজি ও ফানুস ওড়ানোর আয়োজন রয়েছে। সব মিলিয়ে সুন্দর ও গোছানো একটি অনুষ্ঠান হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
এফএইচ/বিএ/পিআর