ঢাকের তালে, আলোর ঝলকানিতে উৎসবমুখর কলকাতা, শুরু দুর্গাপূজার মূল পর্ব
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১০:০৪, ১৬ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকের বাদ্য, আলোকসজ্জা আর দর্শনার্থীদের উচ্ছ্বাসে উৎসবের রঙে সেজেছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতা। মহালয়া থেকেই শহরজুড়ে পুজোর আমেজ শুরু হলেও শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) মহাষষ্ঠীতে দেবীর বোধন, আমন্ত্রণ ও অধিবাসের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে দুর্গাপূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা।
ঢাকের তালে, ধূপের সুগন্ধে আর বর্ণিল মণ্ডপের আলোয় শহরের অলিগলি এখন উৎসবমুখর। বনেদি বাড়ির ঐতিহ্যবাহী পূজা থেকে শুরু করে পাড়া-মহল্লার বারোয়ারি আয়োজন এবং নজরকাড়া থিমের মণ্ডপ—সব মিলিয়ে কলকাতায় বইছে আনন্দের জোয়ার।
শুক্রবার বিকেল থেকেই বিভিন্ন পূজামণ্ডপে বাড়তে শুরু করে দর্শনার্থীদের ভিড়। সন্ধ্যা নামতেই পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের নিয়ে মণ্ডপে মণ্ডপে ঘুরতে বের হন নানা বয়সী মানুষ। উত্তর থেকে দক্ষিণ কলকাতা—শহরের বিভিন্ন এলাকায় জমে ওঠে প্যান্ডেল হপিং, কেনাকাটা ও খাওয়াদাওয়ার আয়োজন।
দুর্গাপূজার আচার-অনুষ্ঠানে মহাষষ্ঠী বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। সনাতন ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী, এদিন অকালবোধনের মধ্য দিয়ে দেবী দুর্গার আরাধনার আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়। বোধনের পাশাপাশি আমন্ত্রণ ও অধিবাসের মতো ধর্মীয় আচার পালনের মধ্য দিয়ে পূজার পরিবেশ আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। মণ্ডপে মণ্ডপে চলছে মন্ত্রোচ্চারণ, চণ্ডীপাঠ ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা।
কলকাতার দুর্গাপূজার অন্যতম আকর্ষণ এর ঐতিহ্য ও বৈচিত্র্য। সাবর্ণ রায়চৌধুরী পরিবার, শোভাবাজার রাজবাড়ি, হাটখোলা ও দর্পনারায়ণ ঠাকুর স্ট্রিটের মতো বনেদি বাড়িগুলোতে এখনও ধরে রাখা হয়েছে বহু প্রাচীন রীতি ও পারিবারিক ঐতিহ্য। এসব আয়োজনে পুরোনো প্রতিমার কাঠামো, বিশেষ ভোগ এবং ঐতিহ্যবাহী আচার-অনুষ্ঠান বিশেষ গুরুত্ব পায়।
অন্যদিকে বাগবাজার, কুমারটুলি, আহিরীটোলা, কলেজ স্কয়ার, হাতিবাগান, কাশী বোস লেন, চেতলা অগ্রণী ও সুরুচি সংঘের মতো জনপ্রিয় পূজামণ্ডপগুলোও সেজেছে বর্ণিল সাজে। থিমনির্ভর এসব আয়োজনে তুলে ধরা হচ্ছে লোকশিল্প, ইতিহাস, পরিবেশ ও নানা সামাজিক বার্তা। ফলে ধর্মীয় উৎসবের পাশাপাশি দুর্গাপূজা হয়ে উঠেছে শিল্প, সৃজনশীলতা ও সাংস্কৃতিক প্রকাশের বড় মঞ্চ।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে ২০২৫ সালে প্রায় ৪৫ হাজার দুর্গাপূজার আয়োজন হয়েছিল। ২০২৬ সালে নতুন করে ১৩ হাজার ২০০টি পূজামণ্ডপের অনুমোদন দেওয়ায় এ বছর রাজ্যজুড়ে মোট পূজামণ্ডপের সংখ্যা প্রায় ৫৮ হাজার ২০০-তে পৌঁছেছে বলে জানানো হয়েছে।
তবে চাকচিক্য আর থিমের মণ্ডপের বাইরেও কলকাতার প্রাচীন মন্দির ও পারিবারিক দেবালয়গুলোতে চলছে ঐতিহ্যবাহী দুর্গার আরাধনা। সেখানে বাহ্যিক সাজসজ্জার চেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে প্রাচীন রীতি, মন্ত্রোচ্চারণ, ভোগ নিবেদন ও ভক্তি।
মহাষষ্ঠীর সন্ধ্যার পর থেকে দর্শনার্থীদের ভিড় আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সপ্তমী থেকে নবমী পর্যন্ত কলকাতার রাস্তাঘাট ও পূজামণ্ডপগুলোতে মানুষের ঢল নামবে। দশমীর বিসর্জন পর্যন্ত কয়েক দিন ধর্মীয় আচার, আনন্দ, সাংস্কৃতিক আয়োজন ও মিলনমেলায় মেতে থাকবে উৎসবপ্রিয় কলকাতা।
এফএইচ/বিএ/পিআর