ঢাকা, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
১২ কার্তিক, ১৪৩৩

/ Breaking News

ঢাকের তালে, আলোর ঝলকানিতে উৎসবমুখর কলকাতা, শুরু দুর্গাপূজার মূল পর্ব

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১০:০৪, ১৬ অক্টোবর ২০২৬

ঢাকের তালে, আলোর ঝলকানিতে উৎসবমুখর কলকাতা, শুরু দুর্গাপূজার মূল পর্ব

ঢাকের বাদ্য, আলোকসজ্জা আর দর্শনার্থীদের উচ্ছ্বাসে উৎসবের রঙে সেজেছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতা। মহালয়া থেকেই শহরজুড়ে পুজোর আমেজ শুরু হলেও শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) মহাষষ্ঠীতে দেবীর বোধন, আমন্ত্রণ ও অধিবাসের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে দুর্গাপূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা।

ঢাকের তালে, ধূপের সুগন্ধে আর বর্ণিল মণ্ডপের আলোয় শহরের অলিগলি এখন উৎসবমুখর। বনেদি বাড়ির ঐতিহ্যবাহী পূজা থেকে শুরু করে পাড়া-মহল্লার বারোয়ারি আয়োজন এবং নজরকাড়া থিমের মণ্ডপ—সব মিলিয়ে কলকাতায় বইছে আনন্দের জোয়ার।

শুক্রবার বিকেল থেকেই বিভিন্ন পূজামণ্ডপে বাড়তে শুরু করে দর্শনার্থীদের ভিড়। সন্ধ্যা নামতেই পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের নিয়ে মণ্ডপে মণ্ডপে ঘুরতে বের হন নানা বয়সী মানুষ। উত্তর থেকে দক্ষিণ কলকাতা—শহরের বিভিন্ন এলাকায় জমে ওঠে প্যান্ডেল হপিং, কেনাকাটা ও খাওয়াদাওয়ার আয়োজন।

দুর্গাপূজার আচার-অনুষ্ঠানে মহাষষ্ঠী বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। সনাতন ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী, এদিন অকালবোধনের মধ্য দিয়ে দেবী দুর্গার আরাধনার আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়। বোধনের পাশাপাশি আমন্ত্রণ ও অধিবাসের মতো ধর্মীয় আচার পালনের মধ্য দিয়ে পূজার পরিবেশ আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। মণ্ডপে মণ্ডপে চলছে মন্ত্রোচ্চারণ, চণ্ডীপাঠ ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা।

কলকাতার দুর্গাপূজার অন্যতম আকর্ষণ এর ঐতিহ্য ও বৈচিত্র্য। সাবর্ণ রায়চৌধুরী পরিবার, শোভাবাজার রাজবাড়ি, হাটখোলা ও দর্পনারায়ণ ঠাকুর স্ট্রিটের মতো বনেদি বাড়িগুলোতে এখনও ধরে রাখা হয়েছে বহু প্রাচীন রীতি ও পারিবারিক ঐতিহ্য। এসব আয়োজনে পুরোনো প্রতিমার কাঠামো, বিশেষ ভোগ এবং ঐতিহ্যবাহী আচার-অনুষ্ঠান বিশেষ গুরুত্ব পায়।

অন্যদিকে বাগবাজার, কুমারটুলি, আহিরীটোলা, কলেজ স্কয়ার, হাতিবাগান, কাশী বোস লেন, চেতলা অগ্রণী ও সুরুচি সংঘের মতো জনপ্রিয় পূজামণ্ডপগুলোও সেজেছে বর্ণিল সাজে। থিমনির্ভর এসব আয়োজনে তুলে ধরা হচ্ছে লোকশিল্প, ইতিহাস, পরিবেশ ও নানা সামাজিক বার্তা। ফলে ধর্মীয় উৎসবের পাশাপাশি দুর্গাপূজা হয়ে উঠেছে শিল্প, সৃজনশীলতা ও সাংস্কৃতিক প্রকাশের বড় মঞ্চ।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে ২০২৫ সালে প্রায় ৪৫ হাজার দুর্গাপূজার আয়োজন হয়েছিল। ২০২৬ সালে নতুন করে ১৩ হাজার ২০০টি পূজামণ্ডপের অনুমোদন দেওয়ায় এ বছর রাজ্যজুড়ে মোট পূজামণ্ডপের সংখ্যা প্রায় ৫৮ হাজার ২০০-তে পৌঁছেছে বলে জানানো হয়েছে।

তবে চাকচিক্য আর থিমের মণ্ডপের বাইরেও কলকাতার প্রাচীন মন্দির ও পারিবারিক দেবালয়গুলোতে চলছে ঐতিহ্যবাহী দুর্গার আরাধনা। সেখানে বাহ্যিক সাজসজ্জার চেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে প্রাচীন রীতি, মন্ত্রোচ্চারণ, ভোগ নিবেদন ও ভক্তি।

মহাষষ্ঠীর সন্ধ্যার পর থেকে দর্শনার্থীদের ভিড় আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সপ্তমী থেকে নবমী পর্যন্ত কলকাতার রাস্তাঘাট ও পূজামণ্ডপগুলোতে মানুষের ঢল নামবে। দশমীর বিসর্জন পর্যন্ত কয়েক দিন ধর্মীয় আচার, আনন্দ, সাংস্কৃতিক আয়োজন ও মিলনমেলায় মেতে থাকবে উৎসবপ্রিয় কলকাতা।

এফএইচ/বিএ/পিআর

সর্বোচ্চ পঠিত - Breaking News

আপনার জন্য নির্বাচিত