ত্বকে রোগ, ছোঁয়াচে নয়—সোরিয়াসিস নিয়ে ভুল ধারণা ভাঙার আহ্বান বিএমইউ উপাচার্যের
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮:৪০, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
সোরিয়াসিস কোনো ছোঁয়াচে রোগ নয়। আধুনিক চিকিৎসার মাধ্যমে এ রোগ নিয়ন্ত্রণে রেখে আক্রান্ত ব্যক্তিরা স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারেন। তাই সোরিয়াসিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের প্রতি বৈষম্য নয়, বরং সচেতনতা ও সহমর্মিতা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফএম সিদ্দিকী।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিশ্ব সোরিয়াসিস দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সচেতনতামূলক কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ‘ত্বকের গণ্ডি পেরিয়ে মানুষটিকে দেখুন’—‘লুক বিয়ন্ড মাই স্কিন’ প্রতিপাদ্যে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে দিবসটি পালন করা হয়।
দিবসটি উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা থেকে একটি সচেতনতামূলক শোভাযাত্রা বের করা হয়। সোরিয়াসিস অ্যাওয়ারনেস ক্লাব ও বাংলাদেশ ডার্মাটোলজিস্ট সোসাইটির উদ্যোগে আয়োজিত শোভাযাত্রাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থান প্রদক্ষিণ করে সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে গিয়ে শেষ হয়। পরে হাসপাতালের ৫০৭ নম্বর লেকচার হলে একটি বৈজ্ঞানিক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।
শোভাযাত্রার উদ্বোধন করে উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফএম সিদ্দিকী বলেন, সোরিয়াসিস ত্বকে দৃশ্যমান হওয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের অনেক সময় পরিবার, সমাজ ও কর্মক্ষেত্রে অবহেলা বা বৈষম্যের শিকার হতে হয়। অথচ রোগটি কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। আক্রান্ত ব্যক্তিদের সঙ্গে এমন আচরণ করা উচিত নয়, যাতে তাঁরা নিজেদের বিচ্ছিন্ন বা অবহেলিত মনে করেন।
তিনি বলেন, সোরিয়াসিসের সঙ্গে আর্থ্রাইটিসেরও সম্পর্ক রয়েছে। আক্রান্ত ব্যক্তিদের একাংশের ক্ষেত্রে এ ধরনের জটিলতা দেখা দিতে পারে। শুরুতেই আর্থ্রাইটিস শনাক্ত করে যথাযথ চিকিৎসা দেওয়া গেলে তা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। অবহেলা করলে এ জটিলতা অস্থিসন্ধি ও মেরুদণ্ডের ক্ষতি করতে পারে এবং চলাফেরায় গুরুতর সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।
উপাচার্য আরও বলেন, চিকিৎসাবিজ্ঞানের অগ্রগতির ফলে সোরিয়াসিসের চিকিৎসায় আধুনিক পদ্ধতি এসেছে। যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করা গেলে আক্রান্ত ব্যক্তিরা স্বাভাবিক ও সুন্দর জীবনযাপন করতে পারেন। এ বিষয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরিতে চিকিৎসক ও গণমাধ্যমকর্মীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
শোভাযাত্রায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ডা. মো. নজরুল ইসলাম, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মো. আবুল কালাম আজাদ, উপ-উপাচার্য (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মো. মুজিবুর রহমান হাওলাদার, চর্ম ও যৌনরোগ বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. এম আবু হেনা চৌধুরী এবং বাংলাদেশ ডার্মাটোলজিস্ট সোসাইটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. মুহাম্মদ মুনীর রশিদসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, চিকিৎসক, রেসিডেন্ট, কর্মকর্তা, নার্স ও কর্মচারীরা অংশ নেন।
সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাজমুল হোসেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. জালাল উদ্দিন মোহাম্মদ রুমি, রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. হালিমুর রশীদ এবং বিএমইউর পরিকল্পনা ও উন্নয়ন অফিসের পরিচালক অধ্যাপক ডা. এরফানুল হক সিদ্দিকী।
আয়োজকেরা জানান, দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে তিন শতাধিক চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ অনলাইনে যুক্ত হয়ে সোরিয়াসিসের চিকিৎসা, রোগ ব্যবস্থাপনা ও আধুনিক চিকিৎসাপদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সোরিয়াসিস সম্পর্কে ভুল ধারণা দূর করা, দ্রুত রোগ শনাক্ত করা এবং যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করার পাশাপাশি আক্রান্ত ব্যক্তিদের প্রতি সহমর্মী আচরণ করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এফএইচ/বিএ/পিআর