ঢাকা, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
১২ কার্তিক, ১৪৩৩

/ Breaking News

নিম্নমানের বই সরবরাহে জড়িতদের শাস্তি, কঠোর বার্তা শিক্ষামন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০২:২১, ৩ অক্টোবর ২০২৬

নিম্নমানের বই সরবরাহে জড়িতদের শাস্তি, কঠোর বার্তা শিক্ষামন্ত্রীর

নিম্নমানের পাঠ্যবই সরবরাহের সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, পাঠ্যবইয়ের মানের সঙ্গে কোনো ধরনের আপস করা হবে না।

শনিবার (৩ অক্টোবর) ঢাকার আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে কচুয়া উপজেলা সমিতি আয়োজিত ‘কচুয়ার উন্নয়নে জনমনের ভাবনা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। একই অনুষ্ঠানে তিনি শিক্ষা খাতের বিভিন্ন পরিকল্পনা ও উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ইতোমধ্যে যেসব নিম্নমানের বই পাওয়া গেছে, সেগুলো বাতিল ও নষ্ট করা হয়েছে। পাঠ্যবই ছাপা, কাগজ, কালি ও মুদ্রণসহ পুরো প্রক্রিয়ায় গুণগত মান নিশ্চিত করা হবে। নিম্নমানের বই সরবরাহের সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, দেশীয় মুদ্রণশিল্পকে উৎসাহিত করতে এ বছর বিদেশি কোনো প্রতিষ্ঠানকে পাঠ্যবই মুদ্রণের কাজ দেওয়া হয়নি। সময়মতো মানসম্মত বই ছাপানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

শিক্ষামন্ত্রী জানান, বর্তমানে ১৫০টি উপজেলায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘মিড ডে মিল’ কর্মসূচি চালু রয়েছে। ভবিষ্যতে এ কর্মসূচি সারাদেশে সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। শিক্ষার্থীদের খাবার সরবরাহে কুপন ব্যবস্থা চালুর কথাও জানান তিনি। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা ক্যান্টিন থেকে কুপন ব্যবহার করে খাবার সংগ্রহ করতে পারবে।

খাদ্য তালিকায় নতুন কিছু খাবার যুক্ত করার পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতিকে গতিশীল করতে খাবার সরবরাহ প্রক্রিয়া বিকেন্দ্রীকরণের পরিকল্পনার কথাও জানান মন্ত্রী। প্রথমে কয়েকটি জেলায় পরীক্ষামূলকভাবে এ ব্যবস্থা চালুর পর তা সারাদেশে সম্প্রসারণের কথা বলেন তিনি।

শিক্ষা ব্যবস্থায় কারিগরি ও উৎপাদনমুখী শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, পরিবর্তিত বিশ্ব পরিস্থিতিতে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির বিকল্প নেই। প্রত্যেক উপজেলায় টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে তৃতীয় ভাষা চালুর বিষয়েও তিনি কথা বলেন।

তিনি আরও জানান, চতুর্থ শ্রেণিতে স্পোর্টস ও কালচারাল বই অন্তর্ভুক্ত করা হবে। পাশাপাশি নতুন সিলেবাস প্রণয়নের কাজ চলছে।

পরীক্ষা ব্যবস্থাপনা নিয়েও বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি জানান, ভবিষ্যতে পরীক্ষার দুই সেট প্রশ্নপত্র দুই জায়গায় প্রস্তুত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর একটি বিজি প্রেস এবং অন্যটি আর্মি সিকিউরিটি প্রেস থেকে করার কথা রয়েছে। পরীক্ষা সময়মতো আয়োজনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনে অযথা সময়ক্ষেপণ এড়ানো এবং বর্ষাকালীন দুর্যোগের বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়ার কথা জানান তিনি।

খাতা পুনর্মূল্যায়ন প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, বাস্তবতার নিরিখে এ ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা হয়েছে।

উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে ‘এডুকেশন হাব’ হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে শীর্ষ ৫০০-এর মধ্যে থাকা বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বাংলাদেশে শাখা খুলতে চাইলে অনুমোদনের সুযোগ তৈরি করতে বিশ্ববিদ্যালয় আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলেন মন্ত্রী।

কচুয়ার উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি শিক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান। দক্ষ জনবল তৈরিতে কারিগরি ও উৎপাদনমুখী শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়ে কচুয়ার প্রতিটি খাতের উন্নয়নে সংশ্লিষ্টদের নিয়ে কাজ করার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাহাঙ্গীর আলম প্রধান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট নাজমুন নাহার বেবি। এছাড়া কচুয়ার বিশিষ্ট ব্যক্তি, শিক্ষাবিদ, কর্মকর্তা, শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে কচুয়ার কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনাও দেওয়া হয়।

এফএইচ/বিএ/পিআর

সর্বোচ্চ পঠিত - Breaking News

আপনার জন্য নির্বাচিত