পিকনিকের কথা বলে ডেকে র্যাগিং! শ্বাসকষ্টে হাসপাতালে পাবিপ্রবির ছাত্রী
পাবিপ্রবি সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ১১:১৭, ৯ অক্টোবর ২০২৬
পিকনিকের কথা বলে ডেকে নেওয়া হয়েছিল নবীন ছাত্রীদের। কিন্তু সেখানে যাওয়ার পর শুরু হয় জিজ্ঞাসাবাদ, গালাগাল ও ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে হেনস্তা করার অভিযোগ। একপর্যায়ে শ্বাসকষ্টে অসুস্থ হয়ে পড়েন আনিকা আফরিন নামের এক শিক্ষার্থী। পরে তাঁকে নেওয়া হয় হাসপাতালে। পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পাবিপ্রবি) এমন র্যাগিংয়ের অভিযোগ ঘিরে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে শিক্ষার্থীদের মধ্যে।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিকেল ৫টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের গণতন্ত্র হলের ১০৩৫ নম্বর কক্ষে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা। আনিকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং (আইসিই) বিভাগের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। অসুস্থ হওয়ার পর তাঁকে পাবনা শহরের মোজাহিদ ক্লাব এলাকার এসোর্ট হাসপাতালে নেওয়া হয়।
পিকনিকের কথা বলে ডেকে, শুরু হয় জেরা
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের কয়েকজন নারী শিক্ষার্থী পিকনিকের কথা বলে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের কয়েকজনকে ওই কক্ষে ডেকে নেন। সেখানে যাওয়ার পর পিকনিকের বিষয়ে আলোচনা না করে তাঁদের নানা প্রশ্ন করা হয়, ধমক দেওয়া হয় এবং গালাগাল করা হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, নবীন শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাসের লেকে যাওয়া, রিডিং রুমে অবস্থান এবং ছেলেদের সঙ্গে দেখা করা নিয়ে প্রশ্ন করা হয়। এমনকি একজন শিক্ষার্থীর মুঠোফোন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর কার্যক্রমও পরীক্ষা করা হয়। তাঁদের দিয়ে বিভিন্ন প্রাণীর ডাক নকল করানোর অভিযোগও উঠেছে।
আনিকা আফরিন বলেন, আমাদের পিকনিকের কথা বলে গণতন্ত্র হলের একটি রুমে ডাকা হয়। সেখানে যাওয়ার পর পিকনিকের কোনো কথা না বলে আমাদের ধমক দিতে শুরু করে। আমার নামে বিভিন্ন অভিযোগ করতে থাকে। চতুষ্পদ প্রাণীর মতো ১০ ধরনের ডাক দিতে বলা হয়।
তিনি জানান, একপর্যায়ে তাঁর অস্বস্তি শুরু হয়, ঘাড়ের রগ টানতে থাকে এবং শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছিল। পরে তিনি শুয়ে পড়েন। এরপর কী ঘটেছিল, তা আর মনে নেই বলে জানান তিনি।
অসুস্থ সহপাঠীকে হাসপাতালে নিতে দেরির অভিযোগ
নাম প্রকাশ না করার শর্তে আরেক শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, দীর্ঘ সময় ধরে র্যাগিংয়ের পর তাঁদের এক সহপাঠী অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাঁকে হাসপাতালে নেওয়ার জন্য বারবার অনুরোধ করা হলেও সঙ্গে সঙ্গে নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়নি। এক ঘণ্টার বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় তাঁরা কান্নাকাটি শুরু করেন। পরে তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয় বলে দাবি করেন ওই শিক্ষার্থী।
এ ঘটনায় অভিযোগ ওঠা সামিহা ও উর্মীর সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগের বিষয়ে তাঁদের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
হাসপাতালে ছুটলেন প্রক্টর, তদন্তের আশ্বাস
অসুস্থ আনিকা আফরিনকে দেখতে হাসপাতালে যান বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. কামরুজ্জামান খান ও ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. রাশেদুল হক। এ সময় প্রক্টরিয়াল বডি ও ছাত্র উপদেষ্টা বডির অন্য শিক্ষকেরাও তাঁর শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. কামরুজ্জামান খান বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন র্যাগিংয়ের বিরুদ্ধে বরাবরই কঠোর অবস্থানে রয়েছে। র্যাগিং কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ ধরনের কোনো ঘটনার অভিযোগ পেলে তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
বিশ্ববিদ্যালয়ে আবারও র্যাগিংয়ের অভিযোগ ওঠায় শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, দোষ প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং ক্যাম্পাসে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
এফএইচ/বিএ/পিআর