ঢাকা, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
১২ কার্তিক, ১৪৩৩

/ Breaking News

মেট্রোরেলের ভূগর্ভস্থ-উড়ালপথ নির্মাণে ৪৬ হাজার কোটি টাকার ব্যয় অনুমোদন

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০২:০৯, ১ অক্টোবর ২০২৬

মেট্রোরেলের ভূগর্ভস্থ-উড়ালপথ নির্মাণে ৪৬ হাজার কোটি টাকার ব্যয় অনুমোদন

ঢাকার মেট্রোরেল নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণে বড় অঙ্কের ব্যয়ের ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। ঢাকা ম্যাস র‍্যাপিড ট্রানজিট উন্নয়ন প্রকল্পের লাইন-১ ও লাইন-৫-এর ভূগর্ভস্থ ও উড়ালপথ, স্টেশন, ডিপো, ট্র্যাক, বৈদ্যুতিক ও সংকেত ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণে প্রায় ৪৬ হাজার কোটি টাকার প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ-সংক্রান্ত আটটি প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়।

এর মধ্যে লাইন-১-এর সিপি-২, সিপি-৬, সিপি-৯ ও সিপি-১০ এবং লাইন-৫-এর সিপি-৩ প্যাকেজের পূর্তকাজের ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি লাইন-১-এর সিপি-৪ ও সিপি-৭ এবং লাইন-৫ উত্তর রুটের সিপি-২ প্যাকেজের প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে।

ডিপো নির্মাণে ব্যয় ৪ হাজার ২৮৫ কোটি টাকা

লাইন-১-এর সিপি-২ প্যাকেজে ডিপোর বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে। এর মধ্যে ওয়ার্কশপ, স্টাবিলিং শেড, অপারেশন ম্যানেজমেন্ট সেন্টার, কারিগরি ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র, সহায়ক উপকেন্দ্র ও ট্র্যাকশন উপকেন্দ্র রয়েছে।

এ কাজের জন্য ভ্যাট ও করসহ ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ হাজার ২৮৫ কোটি ৬ লাখ ৯৩ হাজার ৫৫৮ টাকা। প্রাক-যোগ্যতা উত্তীর্ণ তিন প্রতিষ্ঠানের দরপত্র যাচাই শেষে সিনোহাইড্রো ও এসইবিসিএলের যৌথ উদ্যোগকে কাজটি দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

লাইন-৫-এ ৬.৫০ কিলোমিটার উড়ালপথ

লাইন-৫-এর সিপি-৩ প্যাকেজে হেমায়েতপুর থেকে আমিনবাজার পর্যন্ত ৫ দশমিক ৬ কিলোমিটার এবং নতুন বাজারের পর থেকে ভাটারা পর্যন্ত শূন্য দশমিক ৯ কিলোমিটার—মোট ৬ দশমিক ৫০ কিলোমিটার উড়ালপথ নির্মাণ করা হবে।

এ ছাড়া হেমায়েতপুর, বলিয়ারপুর, বিলামালিয়া, আমিনবাজার ও ভাটারায় পাঁচটি উড়াল স্টেশন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এ প্যাকেজে ব্যয় হবে ভ্যাট ও করসহ ২ হাজার ৬৭০ কোটি ৯৮ লাখ ৯৭ হাজার ৮৬০ টাকা।

চীনের সিআরইসি, এমআইএল ও এমবিইএলের যৌথ উদ্যোগকে সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে সুপারিশ করা হয়েছে।

বিমানবন্দর পর্যন্ত ভূগর্ভস্থ পথ

লাইন-১-এর সিপি-৬ প্যাকেজে নাড্ডা স্টেশনের উত্তর প্রান্ত থেকে বিমানবন্দর স্টেশন পর্যন্ত ৫ দশমিক ১৮২ কিলোমিটার ভূগর্ভস্থ পথ নির্মাণ করা হবে। এর মধ্যে দুটি ৪ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ টানেল এবং তিনটি ভূগর্ভস্থ স্টেশন থাকবে।

স্টেশনগুলো হলো বিমানবন্দর, বিমানবন্দর টার্মিনাল-৩ ও খেলক্ষেত। পাশাপাশি টিবিএম চালুর জন্য শ্যাফট নির্মাণ করা হবে।

এই প্যাকেজে ব্যয় হবে ভ্যাট ও করসহ ১১ হাজার ৫৯০ কোটি ৫৮ লাখ ৭ হাজার ২৯৯ টাকা। জাপানের নিশিমাতসু, টিপিএল ও টোডার যৌথ উদ্যোগকে কাজটির সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে সুপারিশ করা হয়েছে।

ট্র্যাক ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় ১১ হাজার কোটি টাকা

লাইন-১-এর সিপি-৯ প্যাকেজে ট্র্যাক নির্মাণের পাশাপাশি বিদ্যুৎ সরবরাহ ও বিতরণব্যবস্থা স্থাপন করা হবে। এতে রেল, টার্নআউট, পয়েন্ট ও ক্রসিং, ১৩২ কেভি প্রাথমিক ফিডার, রিসিভিং ও সহায়ক উপকেন্দ্র এবং ১ হাজার ৫০০ ভোল্ট ডিসি ওভারহেড সংযোগ ব্যবস্থা থাকবে।

এ প্যাকেজে ব্যয় হবে ভ্যাট ও করসহ ১১ হাজার ৬৫ কোটি ৫৭ লাখ ৭২ হাজার ১৫০ টাকা। ভারতের এলঅ্যান্ডটি ও সুমিতোমোর যৌথ উদ্যোগকে কাজটির জন্য সুপারিশ করা হয়েছে।

সংকেত ও টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থায় ৬ হাজার ৪৪৬ কোটি

লাইন-১-এর সিপি-১০ প্যাকেজে সংকেত, টেলিযোগাযোগ, প্ল্যাটফর্মের দরজা এবং সম্পদ ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা স্থাপন করা হবে। এতে স্বয়ংক্রিয় ট্রেন নিয়ন্ত্রণ, অপটিক্যাল ফাইবারভিত্তিক নেটওয়ার্ক এবং এলটিই প্রযুক্তির বেতার যোগাযোগ ব্যবস্থা থাকবে।

এ কাজের জন্য ব্যয় হবে ভ্যাট ও করসহ ৬ হাজার ৪৪৬ কোটি ৬৫ লাখ ৩১ হাজার ৭১৬ টাকা। ভারতের লারসেন অ্যান্ড টুব্রো লিমিটেডকে সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে সুপারিশ করা হয়েছে।

এ ছাড়া লাইন-১-এর সিপি-৪ প্যাকেজে রামপুরা স্টেশনের উত্তর প্রান্ত থেকে নতুন বাজার স্টেশন পর্যন্ত প্রধান লাইন ও স্টেশন নির্মাণ করা হবে। এ প্যাকেজের মূল চুক্তিমূল্য ১৮ হাজার ৩৭ কোটি ২৫ লাখ ৮৯ হাজার ৬৫৬ টাকা।

লাইন-১-এর সিপি-৭ প্যাকেজে ট্রানজিশন থেকে বালু নদীর শুরু পর্যন্ত ৫ দশমিক ০০৭ কিলোমিটার প্রধান লাইন ও স্টেশন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এ প্যাকেজের মূল চুক্তিমূল্য ২ হাজার ৫৩৪ কোটি ৯ লাখ ৪৩ হাজার ২৪১ টাকা।

অন্যদিকে, লাইন-৫ উত্তর রুটের সিপি-২ প্যাকেজে ডিপোর পূর্ত ও ভবন নির্মাণকাজ হবে। এ প্যাকেজের মূল চুক্তিমূল্য ১ হাজার ৮৪৭ কোটি ৫২ লাখ ৪২ হাজার ৬৫৮ টাকা।

জানা গেছে, লাইন-১ ও লাইন-৫—দুই প্রকল্পের প্রথম সংশোধিত প্রকল্প গত ১৬ সেপ্টেম্বর একনেক অনুমোদন করেছে। প্রকল্প দুটির মেয়াদ ২০১৯ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে ২০৩৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত। ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করছে। বাংলাদেশ সরকার ও জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা) যৌথভাবে এতে অর্থায়ন করছে।

এফএইচ/বিএ/পিআর

সর্বোচ্চ পঠিত - Breaking News

আপনার জন্য নির্বাচিত